kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

নড়াইল ১

মুক্তি-আম্বিয়ায় বিভক্ত আ. লীগ, উত্তেজনা

নড়াইল প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নড়াইল-১ (কালিয়া-সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে ফাটল ধরেছে। বিভক্ত হয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) কবিরুল হক মুক্তি একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক তথা আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাচ্ছেন না, পাচ্ছেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া—এমন খবরের পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগে চলছে উত্তেজনা।

এদিকে মুক্তিবিরোধী আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আটজন নেতাসহ নির্বাচনী এলাকার ১২-১৩ জন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়ার পক্ষে জোরালোভাবে অবস্থান নিয়েছেন। মূলত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধাচরণ করাকে কেন্দ্র করেই কয়েক বছর ধরে মুক্তিবিরোধী শক্তি একজোট হয়েছে।

শরীফ নূরুল আম্বিয়ার পক্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীরা (মনোনয়নপ্রত্যাশী) হলেন নিজামউদ্দিন খান নিলু, কাজী সরোয়ার হোসেন, ইমদাদ মোল্যা, শহিদুল ইসলাম শাহী, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, একরামুল কবীর টুকু ও আক্তার হোসেন রাঙ্গা। তাঁদের প্রত্যেকের বক্তব্য—তাঁরা মুক্তিকে পরিবর্তন করে কালিয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনঃ উদ্ধার করতে চান।

জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির অনেক নেতা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষক শরীফ নূরুল আম্বিয়ার একটি ক্লিন ইমেজ রয়েছে। বিপরীতে এমপি মুক্তির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ এনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলুসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাই আম্বিয়ার পক্ষে আছেন।

নিজামউদ্দিন খান নিলু বলেন, ‘মুক্তি আওয়ামী লীগ করেন না, উনি মুক্তিলীগ করেন। এখন উনার আওয়ামী লীগের টিকিটের জন্য এত হা-হুতাশ কেন বুঝতে পারছি না। আমিও এই আসনের একজন জেরালো প্রার্থী ছিলাম, শরীফ নূরুল আম্বিয়ার মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কারণে ছেড়ে দিয়েছি। উনি নৌকা মার্কা পেলে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।’

নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগ ২৬ নভেম্বর রাতে মুক্তিকে এবং পরে ২৭ নভেম্বর সকালে আম্বিয়াকেও মনোনয়ন দেয়। এ খবরের পরপরই কালিয়ায় বিক্ষোভ করে মুক্তি সমর্থকরা। বিক্ষোভে মুক্তি নেতৃত্ব দেন। সম্প্রতি আম্বিয়াই চূড়ান্তভাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তথা নৌকা প্রতীক পাচ্ছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তির অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

নড়াইল-১ আসনে ২০০৮ সালে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির বিমল বিশ্বাসকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কবিরুল হক মুক্তি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুক্তি। এ বছর একই সঙ্গে দুজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্বতন্ত্র নির্বাচন করারও সুযোগ থাকছে না মুক্তির।

এদিকে নানা ধরনের খবরে এলাকায় বিক্ষোভ-পাল্টাবিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। ৩ ডিসেম্বর একটি পত্রিকার অনলাইনে পুরুলিয়া ইউনিয়নে শরীফ নূরুল আম্বিয়াকে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে—এমন খবরে কালিয়ার চাচুড়ি, পুরুলিয়া, বরাইপাড়া, মির্জাপুর, রঘুনাথপুর, সালামাবাদ, জয়নগর এলাকায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে আম্বিয়া সমর্থকরা।

আম্বিয়ার সমর্থকদের দাবি, গত ১০ বছরে এমপি মুক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে এলাকায় এখন মুক্তির পক্ষের চেয়ে প্রতিপক্ষের লোকের সংখ্যা বেশি।

কালিয়ার সালামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শামীম আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের এমপি মুক্তি ঘুষ-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তিনি নিজের মুক্তিলীগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য জামায়াত-বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে কয়েক বছরের মধ্যে কালিয়া থেকে আওয়ামী লীগ শেষ হয়ে যাবে।’

কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদ মোল্যা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আমাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন শরীফ নূরুল আম্বিয়া। আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষেই থাকবে, কোনো সন্ত্রাস, এমপি মুক্তির পক্ষে থাকবে না। তাই আমরা সবাই সৎ ও যোগ্য নেতা পাব আশা করি।’ 

চাচুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আম্বিয়া ভাইয়ের সঙ্গে কালিয়া উপজেলার আট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা অত্যন্ত সক্রিয়। আমরা যেকোনো মূল্যে চাই আম্বিয়া ভাইয়ের মতো একজন সৎ লোক নৌকার কাণ্ডারি হোন। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ মুক্তির হাত থেকে এলাকার লোক বাঁচতে চায়।’

জেলা বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি হেমায়েত উল্লাহ হিরু বলেন, ‘শরীফ নূরুল আম্বিয়া একজন  কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, স্বাধীনতাযুদ্ধের আট প্রশিক্ষকের একজন। ১৯৭২ সালের অবিভক্ত ছাত্রলীগের সভাপতি। তাঁর মতো যোগ্য লোককে মনোনয়ন দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হারুনার রশীদ বলেন, ‘এই জনপদের নেতা কবিরুল হক মুক্তি। পিতার আদর্শ (এখলাস বিশ্বাস) ধারণ করে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। আওয়ামী লীগ মুক্তির কাছেই নিরাপদ। আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি তিনি। অন্য কেউ প্রার্থী হলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবে না।’

কালিয়া উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. খায়রুল বাশার বলেন, ‘তৃণমূল আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে রেখেছেন এমপি মুক্তি। এলাকার উন্নয়নসহ সব ধরনের কাজে তিনি সব সময়ই সক্রিয়। তাঁর মতো নেতা কালিয়াতে আর দুটি নাই। এই আসনে তাঁর বিকল্প কোনো প্রার্থী তৈরি হয়নি।’

মন্তব্য