kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

রায়পুরে আ. লীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান করছে। তৃতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ (নৌকা) ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আলতাফ হোসেন হাওলাদারের (মোটরসাইকেল) পক্ষে নেতাকর্মীরা এখানে বিভক্ত। নির্বাচনের জের ধরে এরই মধ্যে গরু লুট, হামলা ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয় মামুনুর রশিদকে। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হন আলতাফ হাওলাদার। আর তাই গত ১৫ মার্চ আলতাফের উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সেখানে ওসমান খানকে আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর থেকেই ওই ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে সংঘাতে জড়াচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ওই ইউনিয়নের খাসেরহাটে বৃহস্পতিবার রাতে আলতাফের অনুসারী জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মোস্তফা বেপারী, আওয়ামী লীগকর্মী আবু সুফিয়ান ও মনোয়ার হোসেনকে মারধর করা হয়। মামুনুর রশিদের অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে আহতদের অভিযোগ। ওই রাতেই দুর্বৃত্তরা খাসেরহাটে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ওসমান খান বাদী হয়ে যুবলীগ নেতা মোখলেছুর রহমান পান্নুসহ ৬৫ নেতাকর্মীর নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

আলতাফের কর্মী চর ইন্দরিয়া গ্রামের সবুজ মাঝির অভিযোগ, মোটরসাইকেল মার্কার নির্বাচন করায় মামুনুর রশিদের লোকজন তাঁকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। গত ২৪ মার্চ ভোটের রাতে মামুনুর রশিদের অনুসারীরা তাঁকে বাড়িতে খুঁজে না পেয়ে একটি গরু নিয়ে গেছে। পরে তাঁরা গরুটি পাশের সয়াবিন ক্ষেতে জবাই করে খায়। পুলিশ, চেয়ারম্যান, মেম্বার সরেজমিন এসে দেখে গেছেন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন সবুজ। আলতাফের আরেক অনুসারী আনোয়ার গাজী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন করায় মামুনুর রশিদের লোকজন লুট ও হামলা চালাচ্ছে। তারা নিজেরা পরিকল্পিতভাবে অফিস ভাঙচুর করে নাটক সাজিয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।’

রায়পুর থানার ওসি এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, ‘কার্যালয় ভাঙচুরের বিষয়ে দুই ধরনের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করতে হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা