kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

ভোটের আগুনে জ্বলছে কোন্দল

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক সরে দাঁড়াতে পারেন

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথম ধাপেই রাজশাহীর ৯টি উপজেলার মধ্যে আটটিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে গত ১০ মার্চ। সীমানা জটিলতা নিয়ে মামলা থাকায় একটি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক কোন্দল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া ও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে এ কোন্দল চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ফলে নির্বাচন শেষ হলেও নিজেদের মধ্যে মারপিট, হামলা, মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ঘটনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে জেলার তানোর, দুর্গাপুর ও গোদাগাড়ীর অবস্থা বেশি অস্থিতিশীলতার দিকে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মদদেই এসব ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। এ পরিস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ক্ষুব্ধ হয়ে রাজনীতি থেকেই সরে দাঁড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছেন। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেইজে একটি পোস্টও করেন তিনি। তাতে লিখেছেন, ‘রাজনীতি থেকে বিদায় নিব কি না ভাবছি’।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সদ্য শেষ হওয়া উপজেলা নির্বাচনে রাজশাহীতে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সংসদ সদস্যদের পছন্দের তালিকা ধরে। এ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ পন্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে দুটিতে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও বাকি ছয়টির মধ্যে চারটিতে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী অংশ নেন চেয়ারম্যান পদে। এ নিয়ে জেলার দুর্গাপুর ও গোদাগাড়ীতে স্থানীয় এমপি সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তানোরে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশই সমর্থন দেয়। তা নিয়েও এমপি ফারুক চৌধুরীর সমর্থকদের সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সমর্থকদের উত্তেজনা দেখা দেয়। আর দুর্গাপুরে ভেতরে ভেতরে বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মজিদের বিপক্ষে অবস্থান নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুনসুর রহমান। তিনি দলীয় প্রার্থী নজরুলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোটের আগের দিনই দলের ১২ জন নেতাকে আটক করতে সহায়তা করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ১২ নেতাকেই পাঁচ দিনের সাজা দেওয়া হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের ২০ দিন পরেও নজরুল গ্রুপ ও মজিদ গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার নেতাকর্মীদের এখনো হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। মারপিট করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামানের অভিযোগ, এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তানোরেও বিরাজ করছে প্রায় একই অবস্থা। এমপি সমর্থকরা ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলামের সমর্থকদের মারপিট করছে বলে অভিযোগ করেছেন শরিফুল ইসলাম।

এমন পরিস্থিতিতে রাজনীতি থেকেই সরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। গতকাল নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেন, ‘রাজনীতি থেকে বিদায় নিব কি না ভাবছি’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা