kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

বিদ্রোহে উত্তেজনা

প্রার্থী নিয়ে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের দ্বিমুখী অবস্থান

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আওয়ামী লীগ বনাম বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াই। প্রার্থী নিয়ে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের দ্বিমুখী অবস্থান। দ্বিধাবিভক্ত নেতাকর্মীরা। প্রার্থীদের অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগ। আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক। সর্বোপরি প্রেস্টিজ ইস্যু।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কেন্দ  করে শেষ মুহূর্তে এসে এমন সব পরিস্থিতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বলা চলে, নিরাপদ ভোটে এখন ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। দলীয় নেতাকর্মীদের মতো সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এখন কিছুটা নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নয় উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে আজ রবিবার ভোট। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে আটজন। কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আখাউড়ায় শুধু ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাঁরা রয়েছেন তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের।

এদিকে ভোটের মাঠে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা আলোচনায় রয়েছেন। নিয়ম অনুসারে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে না পারলেও তাঁদের অভ্যন্তরীণ সমর্থন কার দিকে যায় সে আলোচনাই এখন সর্বত্র। সংসদ সদস্যরা এ নির্বাচনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করবেন বলেও মনে করা হচ্ছে।

নাসিরনগরের সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলটির উপজেলা সভাপতি রাফিউদ্দিন আহমেদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান এ টি এম মনিরুজ্জামান রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ অভিযোগ আনেন। যদিও ফরহাদ হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নবীনগরের বর্তমান সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামানকে সমর্থন দিয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান বাদল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী জহির উদ্দিন সিদ্দিক টিটুর পক্ষে কাজ করছেন। এ নিয়ে নবীনগরজুড়ে এখন তুমুল আলোচনা। বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যকে ঘিরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলটির নেতাকর্মীরা।

নির্বাচন ঘিরে ‘মুজিব কোট’ পরা নিয়েও আছে আলোচনা। আশুগঞ্জ উপজেলায় দলীয় প্রার্থী না হয়েও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমান মুজিব কোট পরা ছবি দিয়ে পোস্টার করার অভিযোগ তুলেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. হানিফ মুন্সী।

সরাইলেও রয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এ উপজেলায়ও নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে আছে। সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। ওই আসনে বিএনপি নেতা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা বেগম শিউলী আজাদের সমর্থন ওই দুই উপজেলায় প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ওই দুই সংসদ সদস্য এখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।

আখাউড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও যুবলীগ নেতা মো. মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এনেছেন আরেক প্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে করা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ আনেন। তবে মুরাদ হোসেনের দাবি, নির্বাচনের পরাজয় বুঝতে পেরে গোলাম মোস্তফা মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছেন।

নির্বাচন ঘিরে সর্বত্র এখন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ। জেলার সদর উপজেলায় প্রতিদিনই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকা ও আনারস প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও প্রতিদিন গরুর মাংস দিয়ে ভোটারদের আপ্যায়ন করেন বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যারা করে তারা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করতে পারে না। দলের প্রার্থীর বাইরে কেউ কাউকে সমর্থন দিলে আলোচনা করে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রচারে ডাকসুর জিএস

এদিকে আমাদের নবীনগর প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে নবীনগরে এসে নৌকার পক্ষে ভোট চাইলেন ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস ও কেন্দ ীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী জহির উদ্দিন ছিদ্দিক টিটুর পক্ষে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি ভোটারদের মধ্যে নৌকা প্রতীকের হ্যান্ডবিল বিতরণ করেন। পরে স্থানীয় লঞ্চঘাটের সামনে ছাত্রলীগ আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলাকারীদের গুলি

নবীনগরে ভোটের দিন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ‘২২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক বিজিবি সদস্য, র‌্যাবের দুটি সেকশন ও সাড়ে পাঁচ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া ৩২টি মোবাইল টিম, ১৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক কাজ করবে। ভোটকেন্দে  কেউ বিশৃঙ্খলা করলে প্রয়োজনে গুলি করা হবে। কোনোভাবেই এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেব না।’

মন্তব্য