kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

নৌকা ডোবাতে চান এমপি

লোহাগাড়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নৌকা ডোবাতে চান এমপি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী খোরশেদ আলম চৌধুরী আজকের নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মরিয়া। প্রশাসনকে ব্যবহার করে তাঁর সমর্থক নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী (নৌকা) খোরশেদ আলম চৌধুরী গতকাল শনিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে এমপি (নদভী) তিন মাস আগে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে এমপি হয়েছেন। আমরা সবাই তাঁর জন্য কাজ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দলের মনোনয়ন বোর্ড আমাকে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী করলেও আজ তিনি (এমপি) দলের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র, আনারস প্রতীক) জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের পক্ষে বিভিন্নভাবে কাজ করছেন। তিনি নৌকার এমপি হলেও নৌকাকে ডুবানোর জন্য সব কাজ করেছেন।’

খোরশেদ আলম জানান, এমপি লোহাগাড়া এসে বিদ্রোহী প্রার্থী বাবুলের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁকে বিজয়ী করতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ডেকে নিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আজকের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন খোরশেদ।

তিনি বলেন, ‘এমপির স্ত্রী প্রকাশ্যে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আমার কমিটির সাধারণ সম্পাদকও বাবুলের পক্ষে কাজ করেছেন। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা আমার জন্য ভোট চেয়ে মাঠে কাজ করলেও জেলা সভাপতির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি মাঠে নামেননি।’

তবে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। গতকাল বিকেলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি লোহাগাড়ায় সমন্বয় সভায়ও যাইনি; যাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয়। আমি হস্তক্ষেপ করেছি এ রকম কেউ বলতে পারবে না। আমি এখন ঢাকায়। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’ নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

লোহাগাড়ার বিভিন্ন চেয়ারম্যানকে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। এসব বিষয়ে জানতে আমি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলেছি।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লোহাগাড়ায় আমাদের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমপিসহ দলের কয়েকজন নেতা বিভিন্নভাবে বিরোধিতা করেছেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা কেন্দ্রে বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কারা কারা সক্রিয় ছিলেন তা তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতারা জানেন।’

বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন হিরু বলেন, ‘বাবুলের পক্ষে নামলে দলীয় হাইকমান্ড ব্যবস্থা নেবে। নৌকার পক্ষে নামিনি তা সত্য, কিন্তু বিরোধিতা করিনি। উনার সঙ্গে মতপার্থক্য থাকায় আমি নামিনি।’  

তৃতীয় দফায় গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের পাঁচটি উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে চারটিতে। ব্যালট পেপার-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে লোহাগাড়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। আজ রবিবার চতুর্থ দফায় এই উপজেলার নির্বাচন হচ্ছে।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী খোরশেদ আলম চৌধুরী (নৌকা), এলডিপি থেকে কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী (আ. লীগ বিদ্রোহী) সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী (দোয়াত-কলম)। স্থানীয়দের মতে, এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে নৌকা ও আনারসে।

উল্লেখ্য, লোহাগাড়ায় চেয়ারম্যান পদে তৃণমূল থেকে পাঠানো তালিকায় খোরশেদ আলম চৌধুরীসহ তিনজনের নাম ছিল। কিন্তু ওই তালিকা কেন্দ্রে পাঠায়নি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। তারা জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের একক নাম কেন্দ্রে পাঠায়। তবে তৃণমূল আওয়ামী লীগের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র থেকে খোরশেদ আলম চৌধুরীকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

অন্যদিকে বাবুল গত সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় এমপির হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক এলডিপির উপজেলা সভাপতি ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা