kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

অন্য রকম বিজয়

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্য রকম বিজয়

রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ের পর ভোটারদের সঙ্গে আলেয়া বেগম। ছবি : কালের কণ্ঠ

শুরু থেকেই ছিল বাধাবিপত্তি, তাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন আলেয়া বেগম। কিন্তু গৃহবধূ থেকে নারী ভাইস চেয়ারম্যান হয়ে চমক দেখিয়েছেন তিনি। রাজবাড়ী সদরে গত ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ১০ হাজার ৭২৮ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন এ নারী।

আলেয়া জানান, মনোনয়নপত্রের দাম ছিল ২১ হাজার ৫০০ টাকা। আর মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু বিকেল ৪টা বেজে গেলেও টাকা জোগাড় করতে পারেননি তিনি। বাধ্য হয়ে ৪২ হাজার টাকায় বাড়ির গরু বিক্রি করে দেন। হাতে টাকা পেলেও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। যখন খুঁজে পেলেন, তখন ঘড়িতে বিকেল ৫টা। পরে রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়পত্র গ্রহণ করেন। যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়পত্র বৈধও ঘোষণা করা হয়।

তিনি আরো জানান, প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর তাঁর মনোবল অনেক বেড়ে যায়। আরো টাকা জোগাড় করতে উঠেপড়ে লাগেন তিনি। সমিতি থেকে নিজের নামে ৭০ হাজার ও ফুফুর নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সেই সঙ্গে মাঠে থাকা ৫৫ শতাংশ জমি এক লাখ টাকায় বন্ধক রাখেন। কিন্তু প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে পড়েন তিনি। খুব বেশি পোস্টার টানাতে পারেননি। এমনকি মাইকে প্রচারণা চালিয়েছেন মাত্র এক দিন। তা ছাড়া ছিল না তেমন কোনো কর্মী। নিজের ও স্বজনদের প্রচার-প্রচারণাই ছিল হাঁস প্রতীকের আলেয়ার ‘সম্বল’। সদর উপজেলার ১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটিতে দিতে পেরেছেন এজেন্ট। অথচ সেই আলেয়াই কিনা নির্বাচনের দিন ৩৬ হাজার ১৫৬ ভোট পেয়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অন্যদিকে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী কলস প্রতীকের মীর মাহফুজা খাতুন মলি পান ২৫ হাজার ৪২৮ ভোট। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যখন আলেয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, তখন বাইরে থাকা তাঁর ভক্তরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে।

এর আগে নিজ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ১৩ ভোটে হেরে যান আলেয়া। পরে জেলা পরিষদের সদস্য পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন; কিন্তু বিজয়ী হতে পারেননি তিনি। নবনির্বাচিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়ার বাড়ি সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারা কমিউনিটি ক্লিনিকসংলগ্ন এলাকায়। এইচএসসি পাস আলোয়ার স্বামী রেজাউল করিম ঢাকায় দর্জির কাজ করেন। এ দম্পতির বড় ছেলে আকাশ দশম শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে অনিক চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।

আলোয়ার মতে, মানুষ ভালোবেসে তাঁকে ভোট দিয়েছে। অনেকেই আছে, যারা শুধু তাঁর জন্যই ভোটকেন্দ্রে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, তাই আমি শুধু গরিব মানুষের উন্নয়নে কাজ করব।’ এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, ‘আলেয়ার বিজয়ী হওয়াটা অন্য রকম ব্যাপার।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা