kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

নির্বাচনী সহিংসতা

ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ১২

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ১২

চলতি উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটজন ও বরগুনার বামনায় চারজন আহত হয়েছে। এর আগে গোপালগঞ্জ সদরে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৬৫ জনকে আসামি করে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে :

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটজন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে ঘরবাাড়ি ও মোটরসাইকেল। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় গত বুধবার রাতে উপজেলার কুশুলিয়া গ্রামের জোড়া আমতলা ও কুশলিয়া ফুটবল মাঠের পাশে এই হামলা চালানো হয়।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতি, পরিবহন মালিক সমিতি ও সাধারণ জনগণ সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়ক আটকে রেখে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর বড় ভাই আশেখ মেহেদী জানান, আহত চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজউদ্দিন লোকজনের ধাওয়া খেয়ে দ্রুত মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে রাস্তার ধারের গাছে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁকে কেউ মারধর করেনি। শেখ রিয়াজউদ্দিনসহ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ জানায়নি।

বরগুনার বামনায় উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধার নির্বাচনী জনসভায় দুর্বৃত্তরা হাতবোমা নিক্ষেপ করলে চারজন গুরুতর আহত হয়। গত বুধবার রাতে উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের তেলী ভাড়ানী বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া একই সময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মানজুরুর রব মর্তুযা আহসানের বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা দুটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। তবে তাতে কেউ হতাহত হয়নি। পরে রাতে উপজেলা পরিষদ সড়কে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মানজুরুর রব মুর্তযা আহসান বলেন, সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ভাড়াটে লোকজন এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইতুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘আমার সভায় যারা হামলা করেছে, লোকজন তাদের দেখেছে। এর মধ্যে একজন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাও রয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সহিংসতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল ও তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল ওয়াহেদের দুই সমর্থক গত বুধবার রাতে থানায় পৃথক মামলা করেন। তাতে উভয় পক্ষের ৬৫ জনকে আসামি করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বলেন, ‘পরাজিত হয়ে আবদুল ওয়াহেদের নেতাকর্মীরা আমার লোকজনের ওপর হামলা করেছে। আমার লোকজনের রক্ত ঝরেছে, এখনো তারা হাসাপাতালে।’ অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল ওয়াহেদ বলেন, ‘শরাফ উদ্দিনের নির্দেশে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে নেতাকর্মীদের আমি শান্ত থাকতে বলেছি।’

এ ব্যাপারে রামগতি থানার ওসি এ কে এম আরিচুল হক জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ থানায় মামলা করেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গোপালগঞ্জে সদরের নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে দুই পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের আন্দোলন চলাকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আট শ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা