kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

ফরিদপুরে সাত উপজেলায় আ. লীগে ১০ বিদ্রোহী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফরিদপুরে সাত উপজেলায় আ. লীগে ১০ বিদ্রোহী

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফরিদপুর সদরে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া জেলার সাতটি উপজেলায় ১০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তবে একমাত্র মধুখালী উপজেলায় দলটি একক প্রার্থী দিতে সমর্থ হয়েছে।

সাত উপজেলায় আওয়ামী লীগের ১০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে আলফাডাঙ্গায় তিনজন, ভাঙ্গায় দুজন এবং সদরপুর, নগরকান্দা, সালথা, চরভদ্রাসন ও বোয়ালমারীতে একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। তা ছাড়া জেলার চরভদ্রাসন, নগরকান্দা ও মধুখালীতে বিএনপির চার নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন চরভদ্রাসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোতাজ্জেল হোসেন মৃধা এবং এ জি এম বাদল আমিন, নগরকান্দায় যুবদলের সাবেক নেতা তালুকদার নাজমুল ইসলাম ও মধুখালীতে গোলাম মনসুর নান্নু।

আলফাডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম জালালউদ্দিন, কৃষক লীগ নেতা কাজী হারুন অর রশিদ ও যুবলীগ নেতা এ কে এম জাহিদুল হাসান।

বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম জালালউদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে, এলাকায় তাঁর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। ফলে এলাকায় একটা শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। দলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সমর্থনে প্রার্থী হয়েছি।’

ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাকির হোসেন মিয়া। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী হেদায়েত উল্লাহ সাকলাইন।

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী হেদায়েত উল্লাহ সাকলাইন বলেন, ‘সব উপজেলায় দলের সভাপতিকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শুধু এই উপজেলায় ব্যতিক্রম ঘটেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘৪০ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি আর ১৬ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। তার পরও দলের মূল্যায়ন পেলাম না। তাই প্রার্থী হয়েছি।’

সদরপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শায়েদীদ গামাল লিপু। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান।

সদরপুরের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শফিকুর রহমানকে সমর্থন দিয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান। কাজী শফিকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের ৪৮ জন সক্রিয় সদস্যের মধ্যে ৩৩ জন আমাকে সমর্থন দিয়েছেন; কিন্তু চক্রান্ত করে আমার নাম প্রস্তাব করা হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি ১৭ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি; কিন্তু দল আমাকে মূল্যায়ন করেনি।’

নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল।

সালথায় দলের প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ মাতুব্বর।

চরভদ্রাসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কাউসার। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার আলী মোল্লা।

বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা যুবলীগের সদস্য মো. মনিরুজ্জামান ওরফে লিটন মৃধা।

মো. মনিরুজ্জামান মৃধা বলেন, ‘দল যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে তিনি ১০ বছর উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কাজে জনগণ অসন্তুষ্ট। তাঁর বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড ও কর্মীদের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে আমি প্রার্থী হয়েছি।’

বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন আওয়ামী লীগ নেতাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকে আমাকে জানানো হয়নি। তবে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা