• ই-পেপার

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৯ জুন ২০২৬

রিজিক পেয়েও তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়ার পরিণতি

ইসলামী জীবন ডেস্ক
রিজিক পেয়েও তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়ার পরিণতি
সংগৃহীত ছবি

তাকদির অনুযায়ী যখন কোনো কিছু সংঘটিত হয়, তখন তাকে বলা হয় তাকদিরের ফয়সালা। তাকদিরের ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করাকে শরয়ি ভাষায় ‘রিজা’ বলে। আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের অপরিহার্য দাবি। আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার অর্থ হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তাকদিরের ব্যাপারে অন্তরকে প্রশান্ত রাখা, প্রফুল্লচিত্ত থাকা এবং মানসিকভাবে ব্যথিত না হওয়া। যদিও আপতিত বিপদকে সে অপছন্দ করে।

এই বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে যা কিছু নির্ধারণ করেছেন, সেটা ভালো হোক বা মন্দ হোক, পছন্দনীয় হোক বা অপছন্দনীয় হোক, সে ব্যাপারে মনের মধ্যে কোনো অভিযোগ না রাখা এবং অস্থির না হয়ে সেটাকে নির্দ্বিধায় ও প্রশান্তচিত্তে মেনে নেওয়া।

আর এটা বিশ্বাস করা যে আমাদের সার্বিক জীবনে আগত আনন্দ-বেদনা, রোগ-শোক, বিপদাপদ এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সবকিছুই আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত তাকদিরের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আমাদের দ্বিন-দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর সিদ্ধান্তই আমাদের জন্য সর্বাধিক কল্যাণকর ও ইনসাফপূর্ণ। একই কথা রিজিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আল্লাহ বান্দাদের জন্য রিজিক বণ্টন করে থাকেন। মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত রিজিকের প্রতি সন্তুষ্ট থাকলে তার জীবিকায় বরকত লাভ হয়। 

পক্ষান্তরে ওই রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট না হলে জীবিকার বরকত চলে যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ বান্দাকে প্রদত্ত জিনিসের মাধ্যমে পরীক্ষা করে থাকেন। আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তাতে যদি সে সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন এবং তা বৃদ্ধি করে দেন। আর যদি সন্তুষ্ট না থাকে, তাহলে তাতে বরকত দেন না। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২০২৭৯; সহিহুল জামে, হাদিস : ১৮৬৯)
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সর্বাবস্থায় শোকরগুজার বান্দা হিসেবে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
 

স্বামী-স্ত্রীর প্রতি ১০টি বিশেষ পরামর্শ

মুফতি উমায়ের কোব্বাদী
স্বামী-স্ত্রীর প্রতি ১০টি বিশেষ পরামর্শ
সংগৃহীত ছবি

পৃথিবীর প্রথম সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। সুখময় দাম্পত্য জীবন সবার কাম্য। নিম্নে সুখয়ম দাম্পত্য জীবন গড়তে ১০টি বিশেষ পরামর্শ উল্লেখ করা হলো—

১. একে অপরের প্রতি শারীরিক বা মানসিক ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা : হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করতেন। (জাদুল মাআদ : ৪/২৫৩)
তা ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক ঘনিষ্ঠতা অন্তরের খারাপ চিন্তা দূর করে দেয়।

২. একে অপরকে সিক্রেট নামে ডাকা : একে অপরের জন্য এমন কোনো নাম ঠিক করুন, যেটা হবে সুইট, রোমান্টিক ও সিক্রেট। যে নাম সঙ্গীর কানে গেলে রাগের সময়ও অন্তরে ভালোবাসার ঝংকার সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ভালোবেসে কখনো কখনো আমার নাম হুমায়রা বা লাল গোলাপ বলে ডাকতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪)

তবে এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে আপনাদের এই একান্ত বিষয়টা যেন অন্যদের সামনে প্রকাশ না পায়। কারণ, তখন এই সুন্দর বিষয়টাই হয়ে যাবে নির্লজ্জতা।

৩. একে অপরকে বিশ্বাস রাখুন : সঙ্গীর প্রতি আপনার বিশ্বাস খুবই জরুরি একটি বিষয়। এটা না থাকলে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া সুখময় হয় না। যে পরিবারে সন্দেহের রোগ বাসা বাঁধে সেখানে সুখের আশা করা বৃথা। কাতাদাহ (রহ.) বলেন, না দেখে, দেখেছি বলো না। না শুনে, শুনেছি বলো না। না জেনে, জেনেছি বলো না। কেননা এসব বিষয় সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। (ইবনু কাসির : ৫/৭৫)

৪. তৃতীয় পক্ষকে নাক গলানোর সুযোগ দেবেন না : বেশির ভাগ সময় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয় তৃতীয় পক্ষের কারণে। আর যদি এই ঝগড়ার মাঝে আপনি নিজের ভাই-বোন প্রমুখদের টেনে আনেন, তাহলে ঝামেলা গুরুতর আকার নেবে। যদি বন্ধুবান্ধবকে টানেন, তাহলে সম্পর্কের ‘ইন্নালিল্লাহ’ হয়ে যাবে। তা ছাড়া একটু আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলাম, আপনাদের দাম্পত্য জীবনে আপনার বোনের কিংবা আপনার মায়ের মাধ্যমে আপনার স্ত্রীর বিচারক হয়ে উঠতে পারে আপনার ভগ্নিপতি। এটা কক্ষনো হতে দেবেন না। মনে রাখবেন, যারা অন্যের প্রাইভেট জীবন নিয়ে নাক গলায়, এদের দৃষ্টান্ত রাস্তায় চলা বেয়াড়া ট্রাকের মতো। ট্রাকের পেছনে যেভাবে লেখা থাকে, ১০০ গজ দূরে থাকুন। অনুরূপভাবে এজাতীয় লোক থেকেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

৫. নিজেকে পরিপাটি রাখুন : পুরুষরা তাদের সঙ্গিনীকে সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করে। ঠিক একই ভাবে তারা তাদের সঙ্গীকেও সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করে। ইবনু আব্বাস (রা.) বলতেন, আমি আমার স্ত্রীর জন্য পরিপাটি থাকা পছন্দ করি, যেমন পছন্দ করি আমার স্ত্রী আমার জন্য পরিপাটি থাকাকে। (মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা : ১৫৭১২)

৬. বলবেন কম, শুনবেন বেশি : আপনার সঙ্গী কী বলছেন, সেই কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন। তার দুটো কথা শুনেই নিজের মতামত দিতে শুরু করবেন না। এতে আপনাদের মধ্যে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। আমরা সবাই নিজের কথা বলতে ভালোবাসি, কিন্তু বিপরীতের মানুষটির বক্তব্য শোনার কোনো ইচ্ছাই আমাদের মধ্যে থাকে না। তাই ঝগড়া-অশান্তিও বাড়ে। সব সময়ই যে আপনাকে ডিফেন্সিভ হতে হবে, এমন কোনো অর্থ নেই। বরং এবার থেকে শোনার অভ্যাসও গড়ে তুলুন। তাঁর মতামতকে সম্মান করুন। আপনার এই ব্যবহারে তিনিও খুশি হবেন।

৭. মধুর স্মৃতিগুলো স্মরণ করুন : আপনার সঙ্গীর কোনো কাজ বা আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কারণ আপনি তাকে অনেক ভালোবাসেন। সে এমনটি করবে বা বলবে তা আপনি কল্পনায়ও ঠাঁই দিতে পারছেন না! তাই খুব চটেছেন! একটু থামুন! কয়েক সেকেন্ড ভাবুন। তার সঙ্গে অতিবাহিত সুন্দর ভালোবাসার ও ভালো লাগার আচরণগুলো স্মরণ করুন। সেগুলোর স্মৃতিচারণা করুন। দেখবেন, রাগ কমে যাবে! স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

মানুষ ভুল করে। ভুল করতে পারে। ভালো-মন্দ স্বভাবের মিশ্রণেই মানুষের সৃষ্টি! একটি আচরণ খারাপ হলে তার অনেক আচরণ আছে, যেগুলো মুগ্ধকর। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এ কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। আপনার ক্ষেত্রে। আপনার সঙ্গী/সঙ্গিনীর ক্ষেত্রে। সবার ক্ষেত্রে! প্রত্যেকের উচিত তার সঙ্গীর উত্তম আচরণগুলো দেখা। মন্দগুলো মানবিক দুর্বলতা হিসেবে ক্ষমা করে দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো মুমিন অন্য মুমিন নারী (পুরুষ)-কে চূড়ান্তভাবে ঘৃণা করতে পারে না। তার একটি স্বভাবে সন্তুষ্ট না হলে অন্য স্বভাবে অবশ্যই সন্তুষ্ট হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৬৯)

আরো পড়ুন
সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ

সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ

 

৮. শয়তান কিন্তু জিতে গেল, আপনি হেরে গেলেন : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইবলিস তার সিংহাসন পানিতে স্থাপন করে। তারপর তার বাহিনীদের প্রেরণ করে। সর্বোচ্চ দুষ্কৃতকারী তার সর্বাধিক নৈকট্য লাভ করে। (দুষ্কৃতি শেষে) একজন এসে বলে : আমি এই এই কাজ করেছি। ইবলিস বলে, তুমি উল্লেখযোগ্য কিছু করনি! অপর একজন এসে বলে, আমি স্বামীর পেছনে লেগেই ছিলাম। একপর্যায়ে তার ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাই! তখন শয়তান তাকে কাছে টেনে নেয় আর বলে, হ্যাঁ, তুমিই কাজের কাজ করেছ! এবং তার সঙ্গে আলিঙ্গন করে! (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫০৩৯)

যখনই নিজেদের মাঝে কিছু হয়ে যাবে লক্ষ্য রাখতে হবে শয়তান যেন জিতে না যায়! সাবধান হতে হবে।

৯. বিরতি নিন : আপনি যদি মনে করেন যে আলোচনাটি উত্তপ্ত হতে চলেছে, তবে বিরতি নিন। কথায় আছে, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। সুতরাং এ সময় প্রয়োজনে তাকে নিজ সম্মুখ থেকে সরিয়ে দিন অথবা নিজেই অন্যত্র সরে যান কিংবা অজু করে নিন বা কিছু পানি পান করুন, আপনার গাছপালা দেখুন। এসব একটি রিসেট বোতামের মতো কাজ করবে। আপনি যখন আবার রুমে প্রবেশ করবেন এবং আপনার সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলবেন, তখন দুজনেই নিজেকে শান্ত করবেন এবং সম্ভবত বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বলবেন।

আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহ.)-কে বলা হলো—উত্তম চরিত্র সম্পর্কে এককথায় আমাদের কিছু বলুন। তিনি বললেন, রাগ ত্যাগ করা। (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম : ১/৩৬৩)

১০. সহজ উপায় খুঁজে বের করুন : ঝগড়াবিহীন কোনো দম্পতি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনাদের সম্পর্কে যদি টুকটাক ঝগড়া না থাকে, তবে সেটি স্বাভাবিক নয়। তবে দিন দিন ঝগড়া বাড়তে দেওয়াও কোনো কাজের কথা নয়। কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে তার সমাধান করার সহজ পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে কোনোভাবেই যেন তালাকের প্রসঙ্গ সামনে না আসে। নুন থেকে চুন খসলে কিংবা নিজের পরিবারের কথায় প্ররোচিত হয়ে স্বামী  স্ত্রীকে তালাক দেওয়া কিংবা স্ত্রী স্বামীর কাছে তালাক চাওয়া জঘন্য কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৭৫)

সুতরাং প্রতিশোধ নেওয়া বা পরাস্ত করা থেকে বিরত থাকুন! কাকে পরাস্ত করবেন? কার ওপর প্রতিশোধ নেবেন? সে তো আপনার জীবনসঙ্গী! এখানে প্রতিশোধ নয়, বরং ভালোবাসা ও মমতা কাম্য! নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। সাবধান হোন!

মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরো পড়ুন
আদর্শ সন্তানের প্রতি ইসলামের ৮ নির্দেশনা

আদর্শ সন্তানের প্রতি ইসলামের ৮ নির্দেশনা

 

মা-বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব কার, ইসলাম কী বলে

মুফতি আতাউর রহমান
মা-বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব কার, ইসলাম কী বলে

ইসলামী শরিয়তে মা-বাবার সম্মান, মর্যাদা ও যত্ন অনিবার্য। ইসলাম সন্তানের জন্য মা-বাবাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় দায়িত্ব গ্রহণকে বাধ্যতামূলক করেছে। নিষিদ্ধ করেছে তাঁদের প্রতি ন্যূনতম অসদাচরণকে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে ও মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে উফ পর্যন্ত বোলো না এবং তাদের ধমক দিও না। তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বোলো।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)

ভরণপোষণের বিধান

এই বিষয়ে ফকিহরা একমত যে শর্ত সাপেক্ষে সন্তানের জন্য মা-বাবার ভরণপোষণ প্রদান করা ওয়াজিব, যা কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘লোকে কী ব্যয় করবে সে সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে। বোলো, যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় করবে তা মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন এবং মুসাফিরদের জন্য। উত্তম কাজের যা কিছু তোমরা করো না কেন আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২১৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্তানের উপার্জনে মা-বাবার অধিকার ঘোষণা করে বলেন, ‘মানুষের জন্য উওম খাবার হলো তার নিজের হাতে অর্জিত খাদ্য এবং তার সন্তানের আয়ও নিজের উপার্জনের মতো।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫২৮)

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-কে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার সম্পদ আছে, সন্তানও আছে। আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি ও তোমার সম্পদ সবই তোমার পিতার।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৯১)

আল্লামা ইবনে মুনজির (রহ.) বলেন, ‘উম্মতের আলেমরা এই বিষয়ে একমত, যে মা-বাবার উপার্জন নেই, সম্পদও নেই তাদের ভরণ-পোষণ দেওয়া সন্তানের জন্য আবশ্যক।’ (আল ইজমা, পৃষ্ঠা-১১০)

কন্যাসন্তান দায়মুক্ত নয়

আমাদের সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে মা-বাবার ভরণ-পোষণ প্রদানে কন্যাসন্তানের কোনো দায় নেই। কিন্তু চার মাজহাবের সম্মিলিত মত হলো, পুত্রসন্তানের মতো মা-বাবার দায়িত্ব কন্যাসন্তানের ওপরও বর্তায়। এ ক্ষেত্রে হানাফি মাজহাবের মত হলো, কন্যারা পুত্রসন্তানের সমান দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তবে হাম্বলি মাজহাবে বলা হয়েছে, পুত্র ও কন্যারা মিরাস অনুপাতে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অর্থাৎ কন্যার দায়িত্ব ছেলের অর্ধেক। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৬২৩; আল মুগনি : ৮/২১৯)

ভরণ-পোষণ লাভের শর্ত

ইসলামী শরিয়ত দুটি মৌলিক শর্তে সন্তানের ওপর মা-বাবার ভরণ-পোষণ প্রদান করা ওয়াজিব করেছে। তা হলো—

১. সন্তান সামর্থ্যবান হওয়া : সর্বসম্মতিক্রমে ভরণ-পোষণ ওয়াজিব হওয়ার জন্য সন্তানের সামর্থ্যবান হওয়া শর্ত। হানাফি মাজহাব অনুসারে সন্তান যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী হয় এবং তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে অথবা সন্তানের সম্পদ নেই, কিন্তু এমন উপার্জন থাকে যা দ্বারা নিজের ও পরিবারের (স্ত্রী ও সন্তান) ব্যয় নির্বাহ করার পরও অর্থ বেঁচে যায়, তবে সন্তান সামর্থ্যবান বলে বিবেচিত হবে। এমন সন্তানের ওপর মা-বাবা ভরণ-পোষণ দেওয়া আবশ্যক। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৬২২; আল বাহরুর রায়িক : ৪/২২৪)

২. মা-বাবা অভাবগ্রস্ত হওয়া : এই বিষয়েও আলেমরা একমত যে সন্তানের কাছ থেকে ভরণ-পোষণ লাভ করার জন্য মা-বাবার অভাবগ্রস্ত হওয়া শর্ত। আর তাদের অভাবগ্রস্ত হওয়ার অর্থ হলো তাদের সম্পদ ও উপার্জন না থাকা। চাই তারা উপার্জনে সক্ষম হোক বা না হোক। (আল বাহরুর রায়িক : ৪/২২৩; আল মুগনি : ৮/২১৩)

এ ছাড়া ভরণ-পোষণ আবশ্যক হওয়ার জন্য ফকিহরা আরেকটি শর্তারোপ করেন। তা হলো ব্যয়কারী ব্যয় গ্রহণকারীর ওয়ারিশ হওয়া। কোনো কারণে যদি ব্যক্তি ওরাসাত থেকে বঞ্চিত হয় তবে তার জন্য ভরণ-পোষণ দেওয়া আবশ্যক নয়। যেমন—ইসলামী শরিয়তের আলোকে দাদার আগে পিতা মারা গেলে নাতি দাদার সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়। এমন অবস্থায় নাতির জন্য দাদার ভরণ-পোষণ প্রদান করা আবশ্যক নয়। কিন্তু নাতির যদি কোনো চাচা না থাকে, তখন তার ওপর দাদার দায়িত্ব অর্পিত হবে। কেননা চাচার অনুপস্থিতিতে সে দাদার মিরাস লাভ করে থাকে। (আল মুগনি : ১১/৩৭৪)

মা-বাবা দ্বারা উদ্দেশ্য

ফকিহ আলেমরা বলেন, সন্তানের জন্য মা-বাবার ভরণ-পোষণ দেওয়া আবশ্যক। আর মা-বাবা দ্বারা উদ্দেশ্য ব্যক্তির জন্মদাতা বাবা ও গর্ভধারিণী মা। একইভাবে বাবার সূত্রে দাদা-দাদি এবং মায়ের সূত্রে নানা-নানি ভরণ-পোষণ লাভ করবে। তবে মালেকি মাজহাবের মত হলো, শুধু মা ও বাবাই সন্তানের কাছ থেকে ভরণ-পোষণ লাভ করবে, দাদা-দাদি ও নানা-নানি ভরণ-পোষণ লাভ করবে না। (আল বাহরুর রায়িক : ৪/২২৩; আল মাউনা আলা মাজহাবিল মালিক : ১/৯৩৯)

প্রথম মতামতের পক্ষে দলিল হলো, আল্লাহর বাণী—‘উত্তরাধিকারীরও অনুরূপ দায়িত্ব।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৩৩)

অর্থাৎ যে যার কাছ থেকে উত্তরাধিকার লাভ করে, সে তার দায়িত্বও গ্রহণ করবে। আর পরোক্ষভাবে ব্যক্তি দাদা-দাদি ও নানা-নানির উত্তরাধিকার লাভ করে থাকে। (আল মুগনি : ৮/২১৩)

সৎ মা ও বাবার ভরণ-পোষণ দেওয়া ব্যক্তির জন্য আবশ্যক নয়। যদি ব্যক্তির সামর্থ্য থাকে, পিতা সামর্থহীন হন বা মারা যান এবং সৎ মাও নিরুপায় হন তবে আত্মীয় হিসেবে তারকে খরচ দেওয়া মুস্তাহাব।

ভরণপোষণ দ্বারা উদ্দেশ্য

ভরণ-পোষণ দ্বারা সাধারণত প্রয়োজনীয় খরচ বা ব্যয় নির্বাহ করাকে বোঝায়। হানাফি মাজহাব অনুসারে নফকা তথা ভরণ-পোষণ বলতে মানুষের এমন প্রয়োজনকে বোঝায়, যার ওপর তার অস্তিত্ব নির্ভরশীল। সে হিসেবে ভরণ-পোষণ দ্বারা খাদ্য, পোশাক ও বাসস্থান উদ্দেশ্য। (হাশিয়াতুল শালাবি : ৩/৫০; আল লুবাব ফি শরহিল কিতাব : ৩/৯০)

মালেকি মাজহাবে ভরণ-পোষণ দ্বারা উদ্দেশ্য অপচয় ছাড়া মর্যাদা ও অভ্যাস অনুসারে জীবন যাপন করতে যা কিছু প্রয়োজন হয়। (হাশিয়াতুদ দাসুকি : ২/৫০৯)

ফকিহ আলেমরা এ বিষয়েও একমত যে মা-বাবা সন্তানের কাছ থেকে তাদের প্রয়োজন অনুপাতে খরচ গ্রহণ করবে। তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেবে না। অন্যদিকে সন্তানও নিজের সামর্থ্য ও মা-বাবার প্রয়োজন বিবেচনা করে খরচ প্রদান করবে। (বাদায়িউস সানায়ে : ৪/৩০)

চিকিৎসা, ঋণশোধ ও সেবক নিয়োগ

মা-বাবা অক্ষম হওয়ার পর খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের বাইরে আরো তিনটি প্রয়োজন সামনে আসে। তা হলো মা-বাবার চিকিৎসা করা, তাদের ঋণ পরিশোধ করা ও তাদের জন্য সেবক-সেবিকা নিয়োগ দেওয়া। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো, সন্তানের জন্য মা-বাবার চিকিৎসার খরচ দেওয়া এবং আবশ্যক হলে সেবক নিয়োগ দেওয়া আবশ্যক। এই হিসেবে পিতার জীবদ্দশায় যদি তাঁর স্ত্রী (সত্মা) তাঁর সেবা করে, তবে সেই স্ত্রী বা সত্মায়ের ভরণ-পোষণও বহন করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৬২২; আল বাহরুর রায়িক : ৪/২২৪)

অন্যদিকে মা-বাবার ঋণ পরিশোধ করা সন্তানের জন্য ওয়াজিব নয়। সন্তানের সামর্থ্য থাকলে পরিশোধ করা উত্তম। কেননা হাদিসে মা-বাবার ঋণ পরিশোধ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। (ফাতহুল বারি : ৪/৭০)

স্ত্রী-সন্তান নাকি মা-বাবা?

ব্যক্তির জন্য স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবার ভরণ-পোষণ প্রদান করা আবশ্যক। প্রশ্ন হলো, ভরণ-পোষণ লাভের ক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবে? ‘আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু’ গ্রন্থে এই বিষয়ে লেখা হয়েছে, ‘যখন ভরণ-পোষণের হকদার একাধিক জন হয় এবং তাদের খরচ প্রদানের মতো নিকটাত্মীয় একজনই হয়, তখন ব্যক্তির সামর্থ্য থাকলে তার ওপর সবার জন্য ব্যয় করা ওয়াজিব। আর সে যদি সামর্থ্যবান না হয়, তবে সে নিজেকে দিয়ে শুরু করবে, অতঃপর তার ছোট, কন্যা ও অক্ষম সন্তান ভরণ-পোষণ পাবে। এরপর পাবে তার স্ত্রী।’ (আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু : ৭/৭৮৪)

এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ দরিদ্র হলে সে যেন তার নিজ হতে খরচ করা শুরু করে। তার পরও কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে যেন স্বীয় পরিবারের লোকের জন্য খরচ করে। তার পরও কিছু থাকলে তা আত্মীয়-স্বজনের জন্য খরচ করে। তার পরও কিছু বাকি থাকলে এদিক-ওদিক দান করবে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৪৬৫৩)

অবশ্য আলেমরা বলেন, ‘সন্তান অসচ্ছল হলে অভাবী ও অক্ষম মাতা-পিতাকে নিজের পরিবারে শামিল করে নেওয়া উচিত। কারণ গোটা পরিবারের খাদ্য বস্ত্রে দু-একজন শামিল করা অসম্ভব নয়।’ (আলমুফাসসাল : ১০/১৯৫)

আল্লাহ সবাইকে মা-বাবার উপযুক্ত সেবাযত্ন করার তাওফিক দিন। আমিন।

দুই অঙ্গের নিয়ন্ত্রণে জান্নাতের নিশ্চয়তা

দুই অঙ্গের নিয়ন্ত্রণে জান্নাতের নিশ্চয়তা

মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা দিয়েছেন। তাদের সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছেন। তাদের এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে তারা অন্য সব মাখলুকের ওপর রাজত্ব করতে পারে। মানুষকে মহান আল্লাহ যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করেছেন, তার মধ্যে দুটি অঙ্গ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১. জিহ্বা ও ২. লজ্জাস্থান। এ দুটি অঙ্গের সঠিক ব্যবহার যেমন মানুষের মর্যাদা, ইজ্জত ও জান্নাত লাভের মাধ্যম হতে পারে, তেমনি এগুলোর অপব্যবহারে তার দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই ইসলাম এ দুটি অঙ্গ সংরক্ষণের ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দুই ঊরুর মাঝখানের বস্তুর (লজ্জাস্থান) জামানত আমাকে দেবে, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)

সাধারণত এই দুটি অঙ্গ দিয়েই মানুষ জঘন্য পাপে লিপ্ত হয়। অথচ মানুষ মুখ দিয়ে যা বলে, সব তাৎক্ষণিক লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে কথাই মানুষ উচ্চারণ করে (তা সংরক্ষণের জন্য) তার নিকটে একজন সদা তৎপর প্রহরী আছে।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ১৮)

অতএব মানুষ তার জিহ্বাকে ব্যবহার করে গিবত, চোগলখুরি, গালিগালাজ, অপবাদ, মিথ্যা কথা, নাশোকরিমূলক উক্তি ও এজাতীয় অন্যান্য যে পাপাচারেই লিপ্ত হয়, সবই সংরক্ষিত হয়ে যায়। যেগুলোর পরিণতি খুবই ভয়াবহ। পবিত্র কোরআন গিবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার সঙ্গে তুলনা করেছে। (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)

চোগলখোরদের বিশ্বাস করতে নিষেধ করা হয়েছে। (সুরা : কলম, আয়াত : ১১)। 

এমনিভাবে মিথ্যা, অপবাদ, গালাগালের  ভয়াবহতা নিয়ে বহু আয়াতে সতর্ক করা হয়েছে।

মানুষের মুখের কথা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। কখনো কখনো একটি কথার কারণে মানুষের অনেক বড় বিপদ নেমে আসতে পারে, তার দুনিয়া-আখিরাত ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন যে নিশ্চয় বান্দা পরিণাম চিন্তা ব্যতিরেকেই এমন কথা বলে, যে কথার কারণে সে ঢুকে যাবে জাহান্নামের এমন গভীরে, যার দূরত্ব পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্বের চেয়েও বেশি। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৭)

এ জন্য আল্লাহ মুখের জোর দিলেই তা দিয়ে মানুষকে হেয় করা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, ঝগড়া করা, গালাগাল দেওয়া ও মিথ্যা ও কুফরি কথা বলার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে লজ্জাস্থানের পাপ মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে বিপর্যস্ত করে দেয়। এ জন্য ইসলাম ব্যভিচারকে শুধু হারামই করেনি; বরং তার নিকটবর্তী হওয়ার পথও নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩২)

মুমিন কখনো এই পথে পা বাড়াতে পারে না। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে আল্লাহ বলেন, ‘আর তারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৫)

কিয়ামতের দিন যেসব অঙ্গের পাপের কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ জাহান্নামে যাবে, তার মধ্যে অন্যতম হলো এই দুটি অঙ্গ। রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন জিনিস মানুষকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে নিক্ষেপ করে? তিনি উত্তর দেন, ‘মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪)

বস্তুত জিহ্বা ও যৌন প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণই তাকওয়ার অন্যতম পরিচায়ক। যে ব্যক্তি গিবত, মিথ্যা, অপবাদ, অশ্লীল ভাষা ও কু-কথা থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং ব্যভিচার ও অশ্লীলতার সব পথ বন্ধ রাখে, সে নিজের ঈমান, সম্মান ও আখিরাতকে নিরাপদ রাখে।

আর যে ব্যক্তি এ দুটি অঙ্গকে লাগামহীন ছেড়ে দেয়, সে নিজের হাতে নিজের ধ্বংস ডেকে আনে। তার পাপে দুনিয়া-আখিরাত ভারী হয়ে ওঠে। যাকে তার উভয় জাহানের লাঞ্ছনাকে ত্বরান্বিত করে। তাই প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো সর্বদা জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করা। কেননা এ দুটির সঠিক ব্যবহার জান্নাতের পথ সুগম করে এবং অপব্যবহার জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়।