kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইতিহাসে অনন্য মর্যাদার অধিকারী পাঁচ কিশোর সাহাবি

উম্মে জাওয়াদ হাবিবা    

৭ আগস্ট, ২০২২ ১৪:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইতিহাসে অনন্য মর্যাদার অধিকারী পাঁচ কিশোর সাহাবি

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইসলামের পথে আহ্বান জানানোর পর সর্বশ্রেণির মানুষ তাতে সাড়া দেয়। তাদের মধ্যে নারী, শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সবাই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এখানে এমন পাঁচজন সাহাবির পরিচয় তুলে ধরা হলো, যাঁরা কিশোর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করলেও ইতিহাসে অনন্য মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন।

আরকাম ইবনে আবিল আরকাম (রা.) : ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী সাহাবিদের একজন।

বিজ্ঞাপন

কারো কারো মতে, তিনি ১২তম পুরুষ হিসেবে ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। তিনি ১৬ বছর বয়সে আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। হিজরতের আগে মহানবী (সা.) তাঁর বাড়িতে সাহাবিদের দ্বিন শেখাতেন। হিজরতের পর তিনি মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ৫৫ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং সাআদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) তাঁর জানাজায় ইমামতি করেন।

তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.) : পৃথিবীতে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদের একজন তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.)। তিনিও আবু বকর (রা.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ছিলেন ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী সাহাবিদের একজন। ইসলাম গ্রহণের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর মৃত্যুর সময় যে ছয়জনকে পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের জন্য পরামর্শক নিযুক্ত করেছিলেন, তালহা (রা.) ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তিনি বদর ছাড়া নবীজি (সা.)-এর নেতৃত্বে সংঘটিত সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। উহুদ যুদ্ধে নবীজি (সা.)-কে রক্ষার জন্য নিজের শরীর দ্বারা আড়াল তৈরি করেন। ৩৬ হিজরিতে তিনি শহীদ হন।

জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.) : ১৫ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.)। তিনিও পৃথিবীতে জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেন। জুবায়ের (রা.) ইসলামের জন্য প্রথম তরবারি উন্মুক্ত করেন এবং তিনি ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর ও যোদ্ধা ছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ওমর (রা.) তাঁকেও পরামর্শক নিযুক্ত করেন। মহানবী (সা.) তাঁকে নিজের হাওয়ারি (সহচর) আখ্যা দেন। ৩৬ হিজরিতে তিনি শহীদ হন।

মুয়াজ ইবনে আমর (রা.) : মাত্র ১৩ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণকারী এই সাহাবি তাঁর ভাইয়ের সহযোগিতায় বদর যুদ্ধের সময় আবু জাহালকে হত্যা করেন এবং উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন।

জায়েদ বিন সাবিত (রা.) : মাত্র ১১ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন জায়েদ বিন সাবিত (রা.)। তিনি একাধিক ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। মহানবী (সা.) তাঁকে ওহি লিপিবদ্ধ করার কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চাইলেও নবীজি (সা.) বয়স অল্প হওয়ার কারণে তাঁর আবেদন গ্রহণ করেননি। কিন্তু উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন। কোরআন ও কোরআনের পাঠ সংক্রান্ত জ্ঞানে তাঁর পাণ্ডিত্যের জন্য তাঁকে কোরআন সংকলন কমিটির প্রধান নিযুক্ত করা হয়। জায়েদ বিন সাবিত (রা.) ছিলেন মদিনার প্রধান কারি ও মুফতি। ৪৫ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

সূত্র : উসদুল গাবাহ



সাতদিনের সেরা