kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

উম্মে আম্মারা (রা.)

যে বীরাঙ্গনা রাসুলের জন্য মরণপণ লড়েছিলেন

হাবিবা রহমান উজরা   

১৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৪:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যে বীরাঙ্গনা রাসুলের জন্য মরণপণ লড়েছিলেন

প্রতীকী ছবি।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে তাঁর সঙ্গে বহু নারী সাহাবি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের অন্যতম উম্মে আম্মারা নুসাইবা বিনতে কাআব (রা.)। যিনি মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং অসীম বীরত্বে লড়াই করেন। স্বয়ং রাসুল (সা.) তাঁর বীরত্বের প্রশংসা করেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যেন উম্মে আম্মারা (রা.) জান্নাতে তাঁর সঙ্গী হন।

যোদ্ধা পরিবারের সদস্য : উম্মে আম্মারা (রা.)-এর পুরো নাম ছিল নুসাইবা বিনতে কাআব বিন আমর বিন নাজ্জার। স্বামী জায়েদ ইবনে আসেম ইবনে কাব (রা.)। দুই ছেলে হাবিব ও আবদুল্লাহ (রা.)। উম্মে আম্মারা (রা.), তাঁর স্বামী ও দুই ছেলে উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

রাসুলের জন্য ভালোবাসা : উহুদ যুদ্ধে উম্মে আম্মারা (রা.) অসীম সাহসিকতা ও নবীজি (সা.)-এর প্রতি অনন্য ভালোবাসার প্রদর্শন করেন। তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ বিন জায়েদ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। যখন মানুষ তাঁর থেকে দূরে সরে গিয়েছিল, আমি ও আমার মা তাঁর নিকটবর্তী হই এবং তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করি।... তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চোখে পড়ল আমার মায়ের কাঁধের ক্ষত। তিনি বললেন, তোমার মা! তোমার!! তাঁর ক্ষত বেঁধে দাও। আল্লাহ তোমাদেরকে আহলে বাইতের মতো বরকতময় করুন। তোমার মায়ের মর্যাদা অমুক ও অমুকের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ তোমাদের প্রতি আহলে বাইতের মতো দয়া করুন। তোমার মায়ের স্বামীর মর্যাদা অমুক অমুকের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ তোমাদের প্রতি আহলে বাইতের মতো অনুগ্রহ করুন।’ (তাবাকাতুল কুবরা লি-ইবনে সাদ, হাদিস : ১২৪৬১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ইবনে কিমিয়্যা মহানবী (সা.)-কে আঘাত করতে উদ্ধত হলে তিনি নিজের কাঁধ দিয়ে তা প্রতিহত করেন।

জান্নাতে রাসুলের সঙ্গী হবেন : উল্লিখিত হাদিসের শেষ ভাগে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দোয়ার পর উম্মে আম্মারা (রা.) আবেদন জানালেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন জান্নাতে আমি আপনার সঙ্গী হই।’ তিনি দোয়া করলেন, ‘আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে আমার সঙ্গী করে নিন।’ উম্মে আম্মারা (রা.) বললেন, ‘পৃথিবীর যা কিছু (ক্ষত) আমাকে স্পর্শ করেছে আমি তার পরোয়া করি না।’

নবীজির জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ : উম্মে আম্মারা (রা.) উহুদের যুদ্ধে মহানবী (সা.)-এর জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ করেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) উহুদের যুদ্ধে উম্মে আম্মারা (রা.)-এর ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, ‘আমি যখন ডানে-বাঁয়ে তাকিয়েছি কেবল তাঁকে যুদ্ধ করতে দেখেছি।’ (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ৩৭৫৮৯)

যুদ্ধে অংশগ্রহণ : উম্মে আম্মারা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে উহুদ, খাইবার, মক্কা অভিযান, হুনাইন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি হিজরতের আগে বাইয়াতে উকবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান, হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি ও উমরা সফরে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গী হন। এ ছাড়া আবু বকর (রা.)-এর নেতৃত্বে ‘রিদ্দাহ’-এর যুদ্ধে এবং ইয়ামামার যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন। ইয়ামামার যুদ্ধে মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করলে এক অবিশ্বাসীর আঘাতে তিনি তাঁর হাত হারান এবং শরীরে ১২টি আঘাত পান। তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ (রা.) মুসাইলামাকে হত্যা করেন।

আল্লাহর সাড়া দান : উম্মে আম্মারা (রা.) মহানবী (সা.)-এর কাছে অনুযোগ করে বলেন, কোরআনে সর্বত্র পুরুষদের সম্বোধন করা হয়েছে। নারীদের উল্লেখ খুব কম। তাঁর এই অনুযোগের উত্তরে আল্লাহ সুরা আহজাবের ৩৫ নম্বর আয়াত অবতীর্ণ করেন। যেখানে আল্লাহ কোনো ভালো কাজের প্রতিদানে নারী-পুরুষে বৈষম্য করা হবে না বলে ঘোষণা দেন।

মৃত্যু : তিনি ১৩ হিজরিতে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনকালে মৃত্যুবরণ করেন।

ড. রাগিব সারজানির ‘উম্মে আম্মারা নুসাইবা বিনতে কাআব’ প্রবন্ধ অবলম্বনে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা