kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনাকালে বিকল্প পদ্ধতিতে কোরবানি

মুহাম্মদ মোস্তফা হোসাইন শাহীন    

২২ জুলাই, ২০২০ ১০:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালে বিকল্প পদ্ধতিতে কোরবানি

ফাইল ফটো

হাটে গিয়ে পশু ক্রয় ও দলবদ্ধভাবে সেটি জবাই করা নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উঠছে। ‘ফিকহুল ওয়াকে’ বা পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ইসলামের প্রসিদ্ধ নীতি। ইসলামী আইনের একটি মূলনীতি হলো— ‘কাঠিন্যতা সহজতার পথ উম্মুক্ত করে দেয়।’ তাই করোনার সময়ে কোনো ইবাদত বাদ দেওয়া হয়নি, বরং বিকল্প পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।  তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে মহান এই ইবাদত পালন করতে প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা হাতে নেওয়া উচিত। পশু কেনাবেচার জন্য অনলাইন একটি সময়োপযোগী বিকল্প পদ্ধতি হতে পারে। ক্রেতা-বিক্রেতার সম্মতিতে পশু ক্রয় নিশ্চিত হলে, বিক্রেতা নিজ উদ্যোগে ক্রেতার ঠিকানায় সেটি পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। এ ক্ষেত্রে বিক্রেতা পশুর মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে কিংবা আলাদাভাবে পরিবহন খরচ আদায় করবে।

সরাসরি হাটে গিয়ে পশু কিনতে হলে ক্রেতা-বিক্রেতা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নাম নিবন্ধন করবে। এক ক্রেতার একাধিকবার যাতে বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন না হয়, সে ক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট টোকেন দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আনুপাতিক হারে এক এক দিন হাটে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে দৈনিক শুধু নির্দিষ্টসংখ্যক ক্রেতাকে বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

খামারভিত্তিক কেনাবেচা একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। খামারের নির্দিষ্ট হটলাইনে যোগাযোগ করে ক্রেতা আগেই সময় নির্ধারণ করে পশু কিনতে যাবে। এ ক্ষেত্রে খামার কর্তৃপক্ষ অবস্থাভেদে দৈনিক নির্দিষ্টসংখ্যক ক্রেতাকে খামারে প্রবেশের অনুমতি দেবে। খামার কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ক্রেতার কাছে পশু পাঠানোর ব্যবস্থা করবে কিংবা খামারে জবাই করার ব্যবস্থা রাখবে, পশু জবাইয়ের দিন পর্যন্ত তা রক্ষণাবেক্ষণ করতে যে পরিমাণ খরচ হবে সেটি ক্রেতা বহন করবে কিংবা পশু বিক্রির সময় খামার কর্তৃপক্ষ খরচ পশুর মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নেবে। পরিবেশবান্ধব ও সুবিধাজনক হওয়ায় এ পদ্ধতিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খুবই জনপ্রিয়।

গ্রামভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা একটি বিকল্প পদ্ধতি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গ্রামের প্রান্তিক চাষিদের পশুগুলো সে গ্রামেরই কোরবানিদাতারা কিনে নেবেন। তবে একই গ্রামে যদি প্রয়োজনীয়সংখ্যক পশু পাওয়া না যায়, তা হলে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণে অনূর্ধ্ব পাঁচ গ্রাম নিয়ে ছোট পরিসরে হাট বসানো যেতে পারে। জবাই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সিটি করপোরেশন বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোরবানি জবাই ও বণ্টন টিম গঠন করা যেতে পারে। কোরবানি যেহেতু তিন দিন করা যায় তাই চাপ এড়ানোর জন্য ‘আগে নাম নিবন্ধনে আগে সেবা’র ভিত্তিতে তিন দিন ধরে পশু জবাইয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। এরই মধ্যে মজুরির বিনিময়ে ঢাকায় পশু জবাই ও কাটার কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে, যেটি খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি গ্রামকেন্দ্রিকও প্রচলন করা যেতে পারে ।

পশু জবাইয়ের আধুনিক মেশিন ব্যবহার একটি যুগোপযোগী পদ্ধতি হতে পারে। সিটি করপোরেশন এলাকাভিত্তিক মেশিন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ‘আগে এলে আগে সেবা’র ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় খরচ সংযোজনের মাধ্যমে সহজ ও কম সময়ে অনেক বেশি পশু জবাইয়ের এ সেবা প্রদান করলে অনাকাঙ্ক্ষিত লোকসমাগম এড়ানো সহজ হবে। সৌদি আরব, তুরস্কসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়।

উপরোল্লিখিত বিকল্প পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করলে আশা করা যায়, করোনাকালীন কিছুটা হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কোরবানি করা যাবে।

লেখক : পিএইচডি গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব মালায়া, মালয়েশিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা