kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যুক্তরাজ্যে করোনা রোগীর সেবায় মৃত্যুবরণ করা চারজনই মুসলিম

শেখ মুহাম্মদ বিন মাসউদ    

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০৮:৪৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যুক্তরাজ্যে করোনা রোগীর সেবায় মৃত্যুবরণ করা চারজনই মুসলিম

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রথম চারজন চিকিৎসকই মুসলিম। তাঁরাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁরা হলেন আলফা সা’দু, আমজাদ আল-হাওরানি, আদিল আত-তাইয়ার ও হাবিব জায়েদি। তাঁরা আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এসে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হন।

‘দ্য ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. সালমান ওয়াকার বলেন, এসব চিকিৎসকের অবদান চির অম্লান হয়ে থাকবে। তাঁরা সবাই ধার্মিক পরিবারের সদস্য ছিলেন। দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ছিলেন। কয়েক দশক তাঁরা রোগীর সেবা করেছেন। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁরা সংকটের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। আমরা সবাইকে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ঘরে থাকার অনুরোধ করছি।’  

আমজাদ আল-হাওরানি (৫৫) ছিলেন সুদানি বংশোদ্ভূত। উত্তর ইংল্যান্ডের একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসালট্যান্ট ছিলেন। ২৮ মার্চ তিনি মারা যান। ডা. হাওরানির মৃত্যুতে কুইন্স হাসপাতালে তাঁর সহকর্মীরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। নিকটাত্মীয়রা জানাজা পড়ার পর বুধবার ব্রিস্টলে তাঁকে দাফন করা হয়।

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হাবিব জায়েদি (৭৬) প্রায় ৫০ বছর আগে ইংল্যান্ডে আসেন এবং দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি ২৫ মার্চ মারা যান। তিনি এক সপ্তাহ হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।

সুদানি বংশোদ্ভূত আদিল আত-তাইয়ার ২৫ মার্চ বুধবার ৬৪ বছর বয়সে মারা যান। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট কনসালট্যান্ট। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পর তিনি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) একজন স্বেচ্ছাসেবী সার্জন হিসেবে কাজ করছিলেন। পশ্চিম ইংল্যান্ডের হেরফোর্ড কাউন্টি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান।

নাইজেরিয়ান বংশোদ্ভূত আলফা সা’দু (৬৮) ছিলেন একজন প্রবীণ চিকিৎসক। যিনি প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এনএইচএসের সঙ্গে কাজ করছেন। সংস্থাটির হয়ে তিনি লন্ডনের বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করেছেন। কুইন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর গত ২৬ মার্চ তিনি মারা যান। কর্মজীবনে সা’দু ছিলেন একজন কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান।

সূত্র : আলজাজিরা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা