kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

আমেরিকায় যেভাবে চলছে ইসলামী শিক্ষা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মার্চ, ২০২০ ০৮:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমেরিকায় যেভাবে চলছে ইসলামী শিক্ষা

২০১৭ সালে দারুল উলুম নিউ ইয়র্কের শিক্ষা সমাপনকারী শিক্ষার্থীদের পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠান

আমেরিকা তৃতীয় বিশ্বের মানুষের স্বপ্নের দেশ। এই দেশ নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও প্রশ্নের শেষ নেই। আমেরিকার মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে যেমন মানুষের প্রশ্ন আছে, তেমনি প্রশ্ন আছে সেখানে মুসলিমদের জীবন ও ধর্মাচার নিয়ে। ‘দারুল উলুম নিউ ইয়র্ক’-এর শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের হাসানের সঙ্গে কথা বলে আমেরিকায় বসবাসরত মুসলিমদের দ্বিনচর্চা ও ইসলামী শিক্ষা নিয়ে লিখেছেন তরুণ আলেম বেলায়েত হুসাইন

মুসলিম বিশ্বের বহু মানুষ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমেরিকা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। আমেরিকায় ধর্ম পালনে বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঠিক যেমনটি মানুষ দূর থেকে ধারণা করে, তেমন নয়। এখানে বড় বড় মসজিদ আছে, সেখানে প্রতিদিন প্রকাশ্যে আজান হয় এবং শত শত মানুষ মসজিদে এসে নামাজ আদায় করে। আর যে বাধ্যবাধকতাটুকু আছে তা রাষ্ট্রীয় আইনের অংশ এবং তা সব ধর্মের মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। এখানে বসবাসরত মুসলিম পরিবারগুলো নিজেদের কৃষ্টি-কালচার সম্পর্কে সচেতন। বিশেষত তারা চেষ্টা করে তাদের সন্তানরা যেন মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয় এবং তারা দ্বিন পালনে আগ্রহী হয়ে ওঠে। মার্কিন সমাজে যাঁরা ধার্মিক, যাঁরা ধর্মীয় কাজের সঙ্গে জড়িত তাঁদের বিশেষ মূল্যায়ন রয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা দ্বিনি শিক্ষা ও দ্বিন প্রচারের সঙ্গে জড়িত তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে মার্কিন মুসলিমদের ভেতর।

মুসলিম দেশগুলোতে মুসলমানের ভেতর যেমন বিভিন্ন দল-উপদল রয়েছে, মার্কিন সমাজে তেমন নেই। এখানে সবার একটাই পরিচয়, সে মুসলিম। সবাই চায় যতটা সম্ভব ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়ুক এবং মানুষের ভেতর ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হোক। তাই কে কোন দেশ থেকে এসেছে এবং তার পোশাক কী, তা নিয়ে খুব বেশি উচ্চবাচ্য মার্কিন মুসলিমদের ভেতর নেই। কেউ আরব শায়খদের মতো পোশাক পরে ইসলামের কথা বললে তিনি যেমন মূল্যায়ন পান, তেমনি কেউ সাধারণ পোশাক পরে ইসলামের কাজ করলেও তিনি মূল্যায়ন পান।

ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি আমেরিকায় বসবাসরত মুসলিমরা যে বিষয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন তা হলো পারিবারিক বন্ধন ও পারস্পরিক যোগাযোগ। তাদের উপলব্ধি হলো, পারিবারিক বন্ধন ও যোগাযোগ ছাড়া সন্তানদের ইসলামের ওপর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কেননা মার্কিন সমাজের মূল স্রোতে ইসলাম নেই। এটাও ঠিক, আমেরিকায় মানুষ তার ব্যক্তিজীবনে অনেকটাই স্বাধীন। চলাফেরার ক্ষেত্রে সবাই নিজস্ব স্বাধীনতা ভোগ করে। এখানে নারীদের অর্ধ উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করার দৃশ্য যেমন দেখা যায়, তেমনি আপাদমস্তক আবৃত করে চলাফেরা করে এমন বহু মুসলিম নারীর দেখাও মেলে রাস্তাঘাটে, যাদের অনেকের হাত ও পা কালো মোজায় ঢাকা থাকে। মূল কথা হলো, আমেরিকার সবাই খুব ব্যস্ত। অন্যের দিকে তাকানোর সময় কই?

আমেরিকায় দাওয়াতি কাজে আরবদের বিভিন্ন সংগঠনের লোক আসে। কিন্তু ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতীয় আলেমদের (দেওবন্দি) ভূমিকা প্রশংসনীয়। এখানের দ্বিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্যসংখ্যকই ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আলেমদের প্রতিষ্ঠিত। পরবর্তী সময় মুসলিম প্রজন্মকে ইসলাম শেখাতে তাদের প্রচেষ্টা ও ত্যাগ অতুলনীয়। তবে আমেরিকার বেশির ভাগ দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনাবাসিক। হিফজখানার ক্লাস শুরু হয় সকাল ৮টায় এবং ৪টা, সাড়ে ৪টায় ছুটি হয়। অনাবাসিক হলেও দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য একেবারে কম নয়।

আমেরিকায় ইসলামের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুসলিমরা খুবই আশাবাদী। তাঁরা মনে করেন, ইসলাম প্রচার ও প্রসারের উর্বর ভূমি আমেরিকা। তাই আলেমসমাজের কারো যদি সুযোগ থাকে তাহলে তিনি দ্বিন প্রচার ও দ্বিনি কাজের জন্য আমেরিকায় যেতে পারেন। এতে মানুষের দ্বিনি চাহিদা পূরণ হবে। আমেরিকার মানুষ যেভাবে ইসলামের প্রতি ঝুঁকছে এবং ইসলাম গ্রহণ করছে, তাদের উপযুক্ত দ্বিনি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে বিপুলসংখ্যক আলেম প্রয়োজন। আমেরিকায় বসবাসরত মুসলিম পরিবারগুলো এবং তাদের সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা প্রদানেও দ্বিনি শিক্ষা কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা