kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

তিনি ছিলেন ঢাকার ‘মালিক-উত-তুজ্জার’ বা ‘ব্যবসায়ী রাজপুত্র’

রিদওয়ান আক্রাম    

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৫:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিনি ছিলেন ঢাকার ‘মালিক-উত-তুজ্জার’ বা ‘ব্যবসায়ী রাজপুত্র’

মোগল যুগে নির্মিত মসজিদগুলোর বেশির ভাগই তিন গম্বুজবিশিষ্ট এবং আয়তাকার ভূমি নকশার ওপর নির্মিত। হাজি খাজা শাহবাজ খানের মসজিদটি সেগুলো থেকে ব্যতিক্রম নয়। মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে এটির প্রতিষ্ঠাতার নামানুসারে। কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে, হাজি খাজা শাহবাজ খান ছিলেন ঢাকার সেসময়ের অভিজাত ব্যবসায়ী। ‘মালিক-উত-তুজ্জার’ বা ‘ব্যবসায়ী রাজপুত্র’ নামেও পরিচিত ছিলেন তিনি। জানা যায়, তিনি নাকি আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারীও ছিলেন। নিজের জীবদ্দশাতেই ১৬৭৯ সালে এই মসজিদ এবং এর পাশে নিজের জন্য মাজার তৈরি করেন। এই মাজারে তাঁর কবরও আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে তিন নেতার মাজার। ওই মাজারের পেছনেই রয়েছে ৩৪০ বছরের পুরনো এক মসজিদ। মোগল ঢাকার সোনালি সময়ে তৈরি মসজিদটি। যে রাস্তা ধরে যাব ওখানে চলছে মেট্রো রেলের কাজ। ফলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সংলগ্ন ফুটপাত ধরে হাঁটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, চাইলেই এপার থেকে চট করে ওপার যাওয়া যায় না। মেট্রো রেলের কাজের সুবিধার্থে ফুটপাত খানিকটা ছোট হয়ে এসেছে। সেটা ধরে খানিক হাঁটার পর মিলবে তিন নেতার মাজার। এই স্মৃতিসৌধের ফাঁক দিয়ে দিব্যি মসজিদখানা দেখা যায়। মাজারের বাঁ পাশ দিয়ে সরু একটি গলি চলে গেছে, সেটা ধরে গেলেই হাজি খাজা শাহবাজ খাঁ মসজিদের প্রবেশপথ।

উত্তর-দক্ষিণে লম্বা এই মসজিদের আয়তন ৬৮ ফুট। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্ট কোনাকৃতির মিনার রয়েছে। মসজিদের প্রবেশের তিনটি পথ রয়েছে পূর্ব দেয়ালে। দক্ষিণ ও উত্তর দেয়ালে রয়েছে একটি করে দরজা। পাথর ও মার্বেলের অভাবের কারণে বাংলাদেশে মোগল আমলে তৈরি স্থাপনার মধ্যে ইটের বেশ ব্যবহার দেখা যায়। এ অঞ্চলের জলবায়ুর আর্দ্রতার কারণে মসজিদগুলোর স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য পাথর দিয়ে আবরণ দেওয়া হতো। এই বৈশিষ্ট্যটি এ মসজিদেও চোখে পড়বে। প্রতিটি দরজার চৌকাঠ কালো পাথরের। দরজাগুলো ভেতরের কিছু অংশ এবং বাইরের ভিত্তি দেয়ালের নিচের অংশে প্রায় চার ইঞ্চি পুরু অলংকৃত কালো পাথরের ব্যবহার দেখা যায়। মসজিদের ভেতরে পশ্চিম দেয়ালে তিনটি আকর্ষণীয় মেহরাব আছে। প্রধান মেহরাবের অলংকরণ বেশ সুন্দর।

মসজিদের পাশেই রয়েছে হাজি খাজা শাহবাজের মাজার ইমারতটি। এটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। বর্গাকারে নির্মিত এর প্রতিটি বাহু বাইরের দিকে ২৬ ফুট লম্বা। ইমারতটির চারদিকে চারটি অষ্ট কোনাকৃতির মিনার রয়েছে। দক্ষিণ দিকে তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে। ইমারতটির নির্মাণকৌশল যদিও মোগল ঘরানার, তবু এর সঙ্গে মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে বাংলাদেশের চিরাচরিত বাংলোর। এটি বারান্দা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দক্ষিণ দিকে এটি ১১-১২ ফুট চওড়া। মাজার ইমারতটি এখনো বেশ অটুট রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা