kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

জনপ্রিয় টিকটক, এ বিষয়ে ইসলাম যা বলে

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা    

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৮:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জনপ্রিয় টিকটক, এ বিষয়ে ইসলাম যা বলে

বর্তমানে উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের কাছে জনপ্রিয় একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ টিকটক। অবশ্য এর আইওএস ভার্সনও এখন বাজারে আছে। এটি অত্যন্ত অল্প সময়ে পৃথিবীব্যাপী তার অবস্থান শক্ত করে নিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৭৫টি ভাষায় এই অ্যাপটি বানানো হয়েছে। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, গোটা পৃথিবীতে এই অ্যাপটি প্রায় ৮০০ মিলিয়নবার ডাউনলোড হয়েছে। আমেরিকার বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা জিমি ফ্যালন ও টনি হৌকের মতো বড় বড় সেলিব্রেটিও এই অ্যাপে অ্যাকাউন্ট করেছেন।

ছোট ভিডিওর জন্য বিখ্যাত এই অ্যাপসের মাধ্যমে এরই মধ্যে নিজেকে সেলিব্রেটি বানিয়ে ফেলেছেন অনেকেই। বিভিন্ন গানের অংশ, সিনেমা ও নাটকের কৌতুক ডায়ালগগুলোর সঙ্গে অভিনয় করে অনেকেই বানিয়েছেন হাজার হাজার ফলোয়ার। রাতারাতি সেলিব্রেটি হওয়ার নেশায় কেউ কেউ আবার বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের অংশবিশেষকে কেটে নিয়ে তা দিয়েও টিকটক ভিডিও বানাচ্ছেন। কিছু অবুঝ টিকটক ভিডিও নির্মাতা ফান ফান করতে করতে কখন যে ধর্ম নিয়েও ফান করা শুরু করে দিয়েছেন তা হয়তো নিজেও উপলব্ধি করতে পারেননি। অবশ্য এ ক্ষেত্রে ওয়াজ মাহফিলের মঞ্চকে যাঁরা কৌতুকের মঞ্চে পরিণত করেন, তাঁদেরও দায় কম নয়। কৌতুকের ছলে এই সর্বনাশা অ্যাপটি দ্রুত ধ্বংসের মুখে ঢেলে দিচ্ছে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী মুসলমানদের। জাতিকে এই সর্বনাশা মহামারি থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই অ্যাপটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি এখনো অনেকে ভিপিএন ব্যবহার করে এসব অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। নিম্নে তার কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো :

মানুষ এ ধরনের অ্যাপগুলো ব্যবহার করে বিনোদনের জন্য। যা মানুষের অনেক সময় নষ্ট করে, ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা নষ্ট করে। ঈমানদারদের আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল রাখে। পবিত্র কোরআনে এ ধরনের সব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, আর তারা ওইগুলো হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আজাব।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ৬)

আমাদের সবার জানা, এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করা কৌতুক, গান-বাজনা ইত্যাদির মাধ্যমে বিনোদনের জন্য। যা ইসলামে হারাম। যারা এগুলো বানাবে, আর যারা দেখবে উভয়েই গুনাহগার হবে। বিপদের কথা হলো, যতজন মানুষ এই ভিডিওগুলো দেখে গুনাহ করবে, ভিডিও নির্মাতাও তাদের সবার গুনাহের একটি অংশ পেয়ে যাবে। যা ভিডিও নির্মাতার গুনাহের পাল্লা প্রতি মুহূর্তেই ভারী করবে। এমনকি ভিডিও নির্মাতার মৃত্যুর পরও যদি কেউ ভিডিও দেখে তার গুনাহও তার আমলনামায় পৌঁছে যাবে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে নেক কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; যারা তার দাওয়াত পেয়ে নেক কাজ করবে অথচ তাদের সওয়াবের সামান্যও হ্রাস পাবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গুনাহের কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ গুনাহ পাবে, যারা তার দাওয়াত পেয়ে গুনাহের কাজ করবে। অথচ তাদের গুনাহ হ্রাস পাবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮০)

কেউ কেউ আবার টিকটক ভিডিওর মাধ্যমে অন্যকে নিয়ে ট্রল করে মজা নেওয়ার চেষ্টা করে। এটি জঘন্য অপরাধ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘হে ঈমানদাররা, কোনো সম্প্রদায় যেন অপর সম্প্রদায়কে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো জালিম।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১১)

বর্তমানে উঠতি বয়সী কিছু ছেলে-মেয়ে সব কিছু নিয়ে ট্রল করার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন আলেম, রাজনীতিবিদও তাদের ট্রলের শিকার হয়ে যান। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা কারো প্রতি (খারাপ) ধারণা থেকে বিরত থাকো। কেননা কারো প্রতি (খারাপ) ধারণা করা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। তোমরা অন্যের দোষ অন্বেষণ করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পর হিংসা করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করো না এবং পরস্পর বিরোধে লিপ্ত হইয়ো না। বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে থেকো।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৬৪)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা