kalerkantho

তিন ধর্মের তীর্থে অন্যতম সমৃদ্ধ ইসলামী জাদুঘর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ১০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন ধর্মের তীর্থে অন্যতম সমৃদ্ধ ইসলামী জাদুঘর

তিন ধর্মের তীর্থ পবিত্র শহর জেরুজালেম। মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি তিন আসমানি ধর্মে বিশ্বাসীদের কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী এই শহর। প্রাচীন এই শহরেই গড়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ইসলামী জাদুঘর। ঐতিহাসিক আল আকসা মসজিদের সন্নিকটেই অবস্থিত ইসলামী জাদুঘর। ১৯২২ সালে জেরুজালেমের হায়ার ইসলামিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী জাদুঘর এবং এটি জেরুজালেমের প্রথম জাদুঘর। আল আকসা মসজিদে সংরক্ষিত প্রাচীন নিদর্শনাবলি নিয়ে যাত্রা শুরু করে জাদুঘরটি। পরবর্তী সময়ে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী অনেক নিদর্শন ও স্মারক উপহার হিসেবে পায় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। কোরআনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, আকসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাব, অত্র অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তির স্মৃতিচিহ্ন, প্রাচীন মুদ্রা ও তৈজসপত্র ইত্যাদি স্থান পেয়েছে জাদুঘরটিতে।

ঐতিহাসিক এই জাদুঘরের ভবনটিও কম ঐতিহাসিক নয়। জাদুঘরের প্রধান কক্ষ দুটি, যার একটি মামলুক শাসনামলে মালেকি মাজহাবের অনুসারীদের জন্য মসজিদ হিসেবেই তা নির্মাণ করা হয়। ৫৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ মিটার প্রস্থ ভবনটি নির্মাণ করেন শেখ ওমর ইবনে আবদুন নবী আল মাগরিবি আল মাসউদি ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে। তবে এর প্রবেশ পথটি উসমানীয় শাসনামলে ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে সংস্কার করা হয়। দ্বিতীয় কক্ষটির দৈর্ঘ্য ১৭ মিটার এবং প্রস্ত ৩৫ মিটার। এটি ফাতেমীয় শাসনামলে মহিলাদের নামাজের জন্য তা নির্মাণ করা হয়। ফাতেমীয়দের কাছ থেকে ইউরোপীয়রা আকসা দখল করলে তারা তা সংস্কার করে সামরিক বাহিনীর কাজে ব্যবহার করত।

ইসলামী শাসনের স্বর্ণযুগের দুর্লভ ও হাজার বছরের প্রাচীন অনেক নিদর্শন রয়েছে জেরুজালেম ইসলামী জাদুঘরে। উত্তর আফ্রিকা, মিসর, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান, পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে এসব নিদর্শন ও স্মারক সংগ্রহ করা হয়েছে। এখানে রয়েছে উমাইয়া আমলের কাঠের সেট, ১৯৬৯ সালে ইসরায়েলের দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া নূর আল দ্বিন মিম্বরের ধ্বংসাবশেষ, মামলুক আমলের মূল্যবান নথিপত্র (প্রায় এক হাজার), ধাতব, মার্বেল ও টাইলস। এ ছাড়া রয়েছে কুফি, নকশি ও থোলথ আরবি লিপির একাধিক ক্যালিগ্রাফি।

দুর্লভ ও ঐতিহাসিক কোরআনের সমৃদ্ধ সংগ্রহ জেরুজালেম ইসলামী জাদুঘরের গর্বের বিষয়। এখানে রয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হুসাইন (রা.)-এর ছেলে হাসসান (রহ.)-এর কোরআনের ব্যক্তি কপিটি। এ ছাড়াও সুলতান সোলায়মান আল কানুনি, সুলতান বায়েজিদ, সুলতান বার্সবি ও মরক্কোর বাদশার স্মৃতিবাহী কোরআনের কপি রয়েছে এই জাদুঘরে, যা তাঁরা মসজিদুল আকসায় উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।

জেরুজালেম জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন সময়ে আল আকসায় ব্যবহৃত সুনিপুণ কারুকাজের কাঠের প্যানেলগুলোর প্রতি রয়েছে দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ। প্রায় ৩০০ প্যানেল রয়েছে এখানে। প্যানেলগুলো প্রকৃতপক্ষে শাসকগোষ্ঠীর রুচি ও সংস্কৃতির সাক্ষ্য বহন করছে। মামলুক, ফাতেমি ও উসমানীয় সবাই নিজ নিজ দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অনুযায়ী আল আকসা মসজিদ সুশোভিত করেছিলেন। কাঠের প্যানেলের কোনো কোনোটি ১৯৬৯ সালের নৃশংস অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে।

আতাউর রহমান খসরুর লেখা থেকে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা