kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০৮:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক

ফাইল ফটো

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এবার ২০ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলিম মক্কায় সমবেত হয়ে পবিত্র হজ পালন করছেন। সেখানে ঘাম ঝরানো প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাঁরা হজের কার্যক্রম শুরু করেছেন।

মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় জমায়েত ও অন্যতম ইবাদত পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার। সেলাইবিহীন দুই টুকরো সাদা কাপড় পরা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে—‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মূলক, লা শারিকা লাকা...।’

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানকে তাঁদের জীবনে অন্তত একবার অবশ্যই হজ পালন করতে হবে।

ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে হজ পালন করতে হয়। সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কা ও এর আশপাশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে হজ পালন  শেষ করতে পাঁচ দিন লাগে।

গতকাল শনিবার ফজরের নামাজ আদায় করে মিনা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে পৌঁছান হাজিরা। সেখানে সূর্যান্ত পর্যন্ত অবস্থান করেন তাঁরা। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর হাজিরা সেখান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাত যাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন। পরে ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরবেন।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র বাসাম আতিয়া বলেন, “হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘রাষ্ট্রের সকল সশস্ত্র বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা ‘মহান আল্লাহর অতিথিদের’ সেবা করতে পেরে গর্বিত।”

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এবার ২০ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজ পালন করছেন। এসব হজযাত্রীর অধিকাংশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মক্কায় এসেছেন।

হজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হাতিম বিন হাসান কাদি বলেন, ‘এ বছর হজযাত্রীদের কোনো এজেন্ট ছাড়াই ১৮ লাখের বেশি ভিসা অনলাইনে সরবরাহ করা হয়েছে। আমাদের জন্য এটি একটি বড় সফলতা।’

৪০ বছর বয়সী মিসরের হজযাত্রী মোহাম্মাদ জাফর বলেন, ‘ইসলামের এই পবিত্র স্তম্ভ পালনের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের জীবনের সকল পাপ মোচনের চেষ্টা করি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের এই সমাবেশ সত্যিই বিস্ময়কর।’

এই প্রথমবার পবিত্র হজ পালন করতে আসা ৫০ বছর বয়সী আলজেরীয় এক নাগরিক বলেন, ‘এটি একটি অবর্ণনীয় অনুভূতি। কেবল আপনি এটা পালন করলে এই অনুভূতি উপলব্ধি করতে পারবেন।’ তাঁর নারী সঙ্গী বলেন, ‘এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ ও মুহূর্ত।’

সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে পবিত্র কাবা ঘরের অবস্থান। চার কোনাবিশিষ্ট এই ঘরটিই ইসলামের মূল লক্ষ্যস্থল। ঘরটি স্বর্ণখচিত কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

সারা বিশ্বের মুসলমানরা কাবা ঘরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়েন। ঘরটি গ্র্যান্ড মসজিদের ভেতরে অবস্থিত। হজযাত্রীদের ঘরটির চতুর্দিক দিয়ে সাতবার ঘুরতে হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা