kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

ইতিকাফ ইবাদতকে ফলপ্রসূ করে

মুফতি রফিকুল ইসলাম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মে, ২০১৯ ০৮:২৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইতিকাফ ইবাদতকে ফলপ্রসূ করে

ইতিকাফ অর্থ অবস্থান করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে মসজিদে স্বল্প বা দীর্ঘ সময় অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। পুরুষ মসজিদে ইতিকাফ করবে আর নারী ঘরে একটি স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ইতিকাফ করবে। বছরের যেকোনো সময় ইতিকাফ করা যায়, কিন্তু রমজানে ইতিকাফের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মানুষের ভেতর একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে শুধু দীর্ঘ সময়ের জন্যই মসজিদে অবস্থানের নাম ইতিকাফ, বিষয়টিতা নয়। মানুষ সামান্য সময়ের জন্যও ইতিকাফ করতে পারে। আমরা প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে প্রবেশের সময় ইতিকাফের নিয়ত করতে পারি।

হ্যাঁ, রমজানের ইতিকাফের বিষয়টি ভিন্ন। রমজানে শেষ দশকের ইতিকাফ বছরের অন্য যেকোনো সময়ের ইতিকাফ থেকে বেশি মর্যাদাপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তিনি কখনো ইতিকাফ ত্যাগ করেননি। তিনি তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবাদেরও ইতিকাফের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতেন। জীবনের শেষ বছর তিনি ২০ দিন ইতিকাফ করেন।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিন ইতিকাফ করল, আল্লাহ তাআলা তার ও জাহান্নামের মধ্যে তিনটি পরিখা তৈরি করবেন। আর প্রতিটি পরিখা হবে পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্বের সমান।’ (সুনানে বায়হাকি)

অন্য হাদিসে ইতিকাফকারীর অতীতের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে।

নিয়মানুযায়ী ইতিকাফকারী যেহেতু পৃথিবীর যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে শুধু আল্লাহর ইবাদত ও জিকিরে মত্ত হন, তাই সাধারণ সময়ের তুলনায় ইতিকাফের সময়কার ইবাদত বান্দার জন্য অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়। বান্দার আত্মিক উন্নতিতে তা অনেক বেশি সহায়ক হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের যথাযথভাবে ইতিকাফ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : প্রধান ফকিহ, আল জামিয়াতুল ফালাহিয়াহ, ফেনী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা