kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

যেভাবে কাটাবেন মাহে রমজান

মুফতি কাসেম শরীফ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মে, ২০১৯ ০৯:৩৭ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



যেভাবে কাটাবেন মাহে রমজান

গ্রন্থনা ও ডিজাইন : মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

রোজার পরিচয়

রোজা শব্দটি ফারসি। আরবিতে একে সাওম বলা হয়। এর বহুবচন হলো সিয়াম। রোজাদারকে বলা হয় সায়েম। সাওমের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। ইসলামের পরিভাষায় রোজা বলা হয়—রোজা রাখতে সক্ষম ব্যক্তি সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে পানাহার, স্ত্রী সম্ভোগ ও এগুলো সম্পৃক্ত বিষয় থেকে বিরত থাকা। (উমদাতুলকারি, খণ্ড-১০, পৃষ্ঠা ৩৭৫; তাবইনুল হাকাইক, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ১৪৫) রোজা মুসলমানদের জন্য ফরজ বিধান। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের জন্য রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে, যেমন বিধান তোমাদের আগের লোকদের দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

কখন সাহরি খাবেন

♦ সাহরি খাওয়া সুন্নত। পেটে ক্ষুধা না থাকলে দু-একটি খেজুর খেয়ে নেওয়া উত্তম অথবা অন্য কোনো জিনিস খেয়ে নেবে। (হেদায়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ১৮৬)

♦ বিলম্বে সাহরি খাওয়া উত্তম। আগে খাওয়া হয়ে গেলে শেষ সময়ে কিছু চা, পানি, পান ইত্যাদি খেলেও সাহরির ফজিলত অর্জিত হবে। (হেদায়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ১৮৬)

♦ সময় আছে, নাকি নেই—এমন সন্দেহ নিয়ে সাহরি খাওয়া মাকরুহ। (আলমগিরি, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২০১)

♦ সঠিক ক্যালেন্ডারে সুবহে সাদিকের যে সময় দেওয়া থাকে, তার দু-চার মিনিট আগে খানা বন্ধ করে দেবে। এক-দুই মিনিট আগে-পিছে হলে রোজা হয়ে যাবে, তবে ১০ মিনিট পর খাওয়ার দ্বারা রোজা হবে না। (আপকে মাসায়েল, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ২০১) কিন্তু মনে রাখতে হবে, শুধু ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, কেননা অনেক সময় তাতে ভুলও হয়ে থাকে, তাই এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার।

♦ নিদ্রার কারণে সাহরি খেতে না পারলেও রোজা রাখতে হবে। সাহরি খেতে না পারায় রোজা না রাখা অত্যন্ত পাপ। (বেহেস্তি জেওর, পৃষ্ঠা ৩৫৩)

ইফতারের দোয়া ও মাসআলা

♦ সূর্যাস্ত হয়ে যাওয়ার পর তাড়াতাড়ি ইফতার করা মুস্তাহাব। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৩)

♦ খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব। সেটি সম্ভব না হলে কোনো মিষ্টি জিনিস দ্বারা ইফতার করবে। অন্যথায় পানি দিয়ে ইফতার করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৫)

♦ ইফতারের সময় এই দোয়া পড়বে—‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়াআলা রিজকিকা আফতারতু।’

অর্থ : আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আপনার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)

ইফতারের পর এই দোয়া পড়বে—‘জাহাবাজ্-জামাউ, ওয়াব্ তাল্লাতিল উরুকু, ওয়া ছাবাতাল আজ্রু, ইন্শাআল্লাহু তাআলা।’

অর্থ : পিপাসা নিবারিত হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরস্কারও নির্ধারিত হলো। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৭)

♦ বৃষ্টির দিনে কিছু দেরি করে ইফতার করা উত্তম। শুধু ঘড়ি বা আজানের ওপর নির্ভর করা ভালো নয়। কারণ এতে ভুল হতে পারে। (ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ১০৮)

♦ ইফতারের জন্য মাগরিবের নামাজকে পাঁচ-ছয় মিনিট বিলম্ব করার অবকাশ আছে। (রহিমিয়া, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ৩৭)

♦ যদি সূর্যাস্তে সন্দেহ হয়, তাহলে ইফতার করা হালাল হবে না; বরং অপেক্ষা করবে। (নাওয়াজিল, পৃষ্ঠা-১৫২; শামি, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৩৮৩)

♦ ‘লবণ দিয়ে ইফতার শুরু করা উত্তম’—এমন বিশ্বাস কুসংস্কার। (আহকামে জিন্দেগি, পৃষ্ঠা ২৪৭)

যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়

♦ ভুলে খাওয়া, পান করা বা স্ত্রী সহবাস করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করলে রোজা ভেঙে যায়।

(শামি, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৩৭৫)

♦ কাঁচা চাল, আটার খামির বা একত্রে অনেক লবণ খেলে রোজা ভেঙে যায়। (আলমগিরি, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ১৯৯)

♦ এমন কোনো বস্তু খেলেও রোজা ভেঙে যায়, যা সাধারণত খাওয়া হয় না; যেমন—কাঠ, লোহা, কাগজ, পাথর, মাটি, কয়লা ইত্যাদি।

(আলমগিরি, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২০২)

♦ বিড়ি, সিগারেট বা হুঁকা সেবন করলে রোজা ভেঙে যায়।

(জাওয়াহিরুল ফিকাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ৩৭৮)

♦ কানে বা নাকের ছিদ্রে তরল ওষুধ দিলে রোজা ভেঙে যায়। (এমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ১২৭)

♦ দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে যদি তা থুতুর চেয়ে পরিমাণে বেশি হয় এবং কণ্ঠনালিতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যায়। (শামি, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৩৬৭)

♦ মুখে পান দিয়ে ঘুমিয়ে গেলে এবং এ অবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে গেলে রোজা ভেঙে যাবে। (এমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ১৭২)

♦ হস্তমৈথুন করলে রোজা ভেঙে যায়। (দারুল উলুম, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা ৪১৭)

♦ রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় কুলি কিংবা নাকে পানি দেওয়ার সময় কণ্ঠনালিতে পানি চলে গেলে রোজা ভেঙে যাবে। (আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা ৪৩৩)

♦ নাকের রক্ত পেটে চলে গেলে রোজা ভেঙে যাবে। (আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা ৪২৯)

♦ রাত মনে করে সুবহে সাদিকের পর সাহরি খেলে রোজা ভেঙে যাবে। (জাওয়াহিরুল ফিকাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ৩৭৮)

♦ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা বা বমি আসার পর তা গিলে ফেলা। (ফাতহুল কাদির, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ৩৩৭)

♦ সূর্যাস্ত হয়ে গেছে মনে করে ভুলে দিনে ইফতার করা। (বুখারি, হাদিস : ১৯৫৯)

যেসব কারণে রোজার কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব

♦ ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সম্ভোগ করলে রোজার কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস : ১৮০১)

♦ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো জিনিস পানাহার করলে রোজার কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব, যে জিনিসগুলো সাধারণত খাওয়া বা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। (আলমগিরি, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২০৫)

♦ কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীর সঙ্গে জোরজবরদস্তিমূলক সম্ভোগ করে, তাহলে নারীর ওপর শুধু কাজা ওয়াজিব, কাফফারা নয়। কিন্তু পুরুষের ওপর কাজা-কাফফারা উভয়টাই ওয়াজিব। (আল-ওয়াল ওয়ালিযিয়্যাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২২৪)

রোজার জন্য কি মুখে নিয়ত করতে হয়

♦ রোজার জন্য অবশ্যই নিয়ত করতে হয়। নিয়ত ছাড়া রোজা শুদ্ধ হয় না। (ফাতাওয়ায়ে তাতার খানিয়া, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ২৭০)

তবে মুখে নিয়ত করা জরুরি নয়, অন্তরে নিয়ত করলেই যথেষ্ট। আর হ্যাঁ, অর্থ ও মর্ম অনুধাবন করে মুখে নিয়ত করা যায়। (ফাতাওয়ায়ে শামি, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৩৪৫)

♦ নিয়ত আরবিতে হওয়া জরুরি নয়, যেকোনো ভাষায় নিয়ত করা যায়। নিয়ত এভাবে করা যায়—আমি আজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। (জাওয়াহিরুল ফিকাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ৩৭৮)

♦ দ্বিপ্রহরে সূর্য হেলে পড়ার দেড় ঘণ্টার আগ পর্যন্ত রমজানের রোজার নিয়ত করা বৈধ। তবে রাতে নিয়ত করাই উত্তম। (ফাতাওয়ায়ে তাতার খানিয়া, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ২৭০; আহসানুল ফাতওয়া, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা ৪৪৬)

♦ রমজানে রোজা রাখার উদ্দেশ্যে খাওয়াটা এক ধরনের নিয়ত। যদি কোনো কিছু খাওয়া অথবা পান করা না হয়, তাহলে সূর্য হেলে পড়ার দেড় ঘণ্টার আগেই নিয়ত করে নেবে। (ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৩৭)

♦ যদি কেউ সূর্য হেলে পড়ার আগে নিয়ত করে যে আমি এই সময় থেকে রোজাদার, তাহলে তার রোজা শুদ্ধ হবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামি, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৩৭)

যেসব কারণে রোজা ভেঙে ফেলা যাবে

♦ যদি এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে যে রোজা রাখার শক্তি নেই বা রোজা রাখার দ্বারা অসুস্থতা বেড়ে যাবে, তাহলে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে হ্যাঁ, যখনই সুস্থ হয়ে যাবে তখনই তার ওপর কাজা করে নেওয়া ওয়াজিব। (আপকে মাসায়েল, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ২০২)

♦ রোজা রাখার দরুন কোনো ব্যক্তি এমন দুর্বল হয়ে যায় যে রোজা রাখার শক্তি নেই, তাহলে ওই ব্যক্তির জন্য রোজা ভেঙে ফেলা বৈধ। (আপকে মাসায়েল, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ২০৩)

♦ রোজা রাখা অবস্থায় যদি এমন ক্ষুধা বা পিপাসা লাগে যে প্রাণ চলে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলা যাবে। (আলমগিরি, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২০৭)

♦ গর্ভধারিণী নারী বা স্তন্যদানকারিণী নারী যদি নিজের ওপর অথবা নিজের বাচ্চার ওপর প্রাণাতিপাতের আশঙ্কা করে, তাহলে তার জন্য রোজা ভেঙে ফেলা বৈধ। (আলমগিরি,  খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২০৭)

২০ রাকাত তারাবি পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা

♦ তারাবি পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। (আজনারুল ফাতাওয়া,    খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৫২৫)

♦ ২০ রাকাত তারাবি পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, আট রাকাত নয়। কেননা নবী করিম (সা.), খুলাফায়ে রাশেদিন এবং সব সাহাবি ২০ রাকাত তারাবি পড়তেন। (উমদাতুল কারি, খণ্ড-১২, পৃষ্ঠা ১৮৩) আর মহানবী (সা.) আট রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন। (বুখারি, হাদিস : ১১৪৭)

♦ তারাবিতে একবার কোরআন খতম করা সুন্নত। (জাওয়াহিরুল ফিকাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২৮)

♦ তারাবিতে এত দ্রুত কোরআন তিলাওয়াত করবে না যে তা বুঝে আসে না। এরূপ করলে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৫২৫)

রোজা রাখতে না পারলে কী করবেন

♦ রোজা রাখতে না পারলে কিংবা কাজা আদায় করতে না পারলে ফিদিয়া দিতে হবে। ফিতরার পরিমাণ যে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তাকে ফিদিয়া বলা হয়। (মা’আরেফুল কোরআন, পৃষ্ঠা ৯৬)

♦ ফিদিয়ার পরিমাণ হলো ৮০ তোলা সের হিসাবে এক সের ১২ ছটাক (এক কেজি ৬৬২ গ্রাম) গম বা আটা কিংবা তার মূল্য দিতে হবে। তবে পূর্ণ দুই সের (এক কেজি ৮৬৬ গ্রাম বা তার মূল্য দেওয়া উত্তম। (মা’আরেফুল কোরআন, পৃষ্ঠা ৯৬)

♦ মৃত্যুমুখী বৃদ্ধলোক অথবা কোনো ব্যক্তি ভীষণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে রোজা রাখতে অপারগ হলে সে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে পৌনে দুই সের গম অথবা সমপরিমাণ মূল্য আদায় করবে। (জাওয়াহিরুল ফিকাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২৯)

রমজানকে ইবাদতময় করে তুলবেন যেভাবে

সাহরি, ইফতার ও তারাবি ছাড়াও রমজানে বিশেষ কিছু আমল করা যায়। যেন রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো যায়, সবার মধ্যে সেই প্রচেষ্টা থাকা উচিত। রমজানে আমরা কী কী নেক আমল করতে পারি, তা নিচে আলোচনা করা হলো—

তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় : মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে রমজান মাসে ঈমান ও সওয়াবের আশায় (ইবাদতের মাধ্যমে) রাত জাগরণ করবে তার অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭৩)

বেশি পরিমাণে কোরআন তিলাওয়াত : রমজানে যেহেতু প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই এ মাসে যথাসাধ্য বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলিম ও মুমিনের ওপর আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে...।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৬৬২৬)

দান-সদকা করা : এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত। (মুসলিম, হাদিস : ৩২০৮)

রোজাদারদের ইফতার করানো : রোজাদারকে ইফতার করালে রোজার সমান সওয়াব। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে, তবে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৩০২)

বেশি বেশি দোয়া করা : মহান আল্লাহ রোজার বিধান বর্ণনা করার পর বলেছেন, ‘আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে, আমি তো কাছে আছি। প্রার্থনাকারী যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে, আমি তার প্রার্থনায় সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৮৬) তাই রোজা পালনকারী আল্লাহর কাছে অধিক পরিমাণে দোয়া প্রার্থনা করবে।

তাওবা করা : সর্বদা তাওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে এ মাসে তো বটেই। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস : ১৪১০)

মিসওয়াক করা : মিসওয়াকের প্রতি রাসুল (সা.) অশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘মিসওয়াক মুখের জন্য পবিত্রকারী এবং রবের সন্তুষ্টি আনয়নকারী।’ (ইবনে খুজাইমাহ,    হাদিস : ১৩৫)

একে অন্যকে কোরআন শোনানো : রমজান মাসে একজন অন্যকে কোরআন শোনানো একটি উত্তম আমল। এটিকে দাওর বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, জিবরাইল (আ.) রমজানের রাতে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০২)

সামর্থ্য থাকলে ওমরাহ পালন করা : এ মাসে একটি ওমরাহ পালন করলে একটি হজ আদায়ের সমান সওয়াব হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ পালন করা আমার সঙ্গে হজ আদায় করার সমতুল্য।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮৬৩)

শবেকদর তালাশ করা : রমজান মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। সবার উচিত ওই রাতের সন্ধান করা। ওই রাত সম্পর্কে কোরআনের ঘোষণা হলো, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর, আয়াত : ৪)

মন্তব্য