kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

ধারাবাহিক তাফসির

আজাবের বিলম্ব দেখে অনেকে বিভ্রান্ত

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ   

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:১৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আজাবের বিলম্ব দেখে অনেকে বিভ্রান্ত

৭৫. বলে দাও, যারা বিভ্রান্তিতে আছে, দয়াময় (আল্লাহ) তাদের পর্যাপ্ত অবকাশ দেন, যতক্ষণ না তারা তা প্রত্যক্ষ করে, যে বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। সেটা আজাব হোক কিংবা কিয়ামত। এরপর তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট আর কে দলবলে দুর্বল। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৭৫)

তাফসির : কাফিররা দুনিয়ার অর্থবিত্ত ও প্রভাব-প্রতিপত্তিতে মর্যাদার মাপকাঠি মনে করে। অন্যদিকে অসহায় ও গরিব মানুষের মধ্যে ধর্মপ্রবণতা বেশি থাকে। বিষয়টি অবিশ্বাসীরা অবজ্ঞার চোখে দেখে। তারা ঈমানদারদের হেয় করে। তাদের এমন মানসিকতার জবাবে আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, অতীতে কত কত বিত্তশালী ও প্রভাবশালী জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে! অথচ তারা এদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী ছিল। এ কথার সূত্র ধরে আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে যে আল্লাহর রীতি হলো, তিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের অবকাশ দেন। যখন নির্ধারিত সময় চলে আসে তখন তাদের পাকড়াও করেন। সে পাকড়াও দুনিয়ায়ও হতে পারে। আবার পরকালেও হতে পারে। আর তখনই চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যাবে যে কে মর্যদাবান আর কে সবল।

যারা পরকালের সুখ-শান্তিতে বিশ্বাস করে না তারা ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবন নিয়েই ব্যস্ত। পরকালের সুখ-শান্তির জন্য ইহকালে তারা সামান্য কষ্টও স্বীকার করতে রাজি নয়। তারা সাময়িক সুখের পেছনে ছুটে বেড়ায়। তাদের এক দলের একসময় বোধোদয় হয়। ফলে তারা সঠিক পথে ফিরে আসে। আরেক দল পরকালে বিশ্বাস করে না। কিন্তু পরম করুণাময় আল্লাহ তাদের দ্রুত ধ্বংস করে দেন না। বরং তাদের সাময়িক অবকাশ দেন, যাতে তারা ভবিষ্যতে অনুতাপ করার সুযোগ পায়। এ বিষয়ে অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আল্লাহ যদি মানুষের শাস্তির ব্যাপারে তড়িঘড়ি করতেন, যেভাবে তারা পার্থিব কল্যাণ লাভের জন্য তড়িঘড়ি করে, তাহলে তাদের মৃত্যু ঘটত। সুতরাং যারা (কিয়ামতের দিন) আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ (ভয়) করে না, আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় ছেড়ে দিই, যেন (তারা) উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১১)। সুতরাং পার্থিব জীবনে উন্নতি ও অবনতির দ্বারা আল্লাহর কাছে কারো মর্যাদা ও অবস্থান নির্ণীত হবে না। এটি নির্ণীত হবে পরকালের পাথেয় অনুযায়ী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা