kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

ধর্মতত্ত্ব

নামাজের জন্য পাঁচটি সময় বেছে নেওয়ার কারণ কী

ইসলামী জীবন ডেস্ক    

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:২৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নামাজের জন্য পাঁচটি সময় বেছে নেওয়ার কারণ কী

হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.) লিখেছেন, ‘পবিত্র কোরআনের এক আয়াত থেকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান দেওয়ার হিকমত, হাকিকত ও দার্শনিক ব্যাখ্যা জানা যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো সন্ধ্যায় ও প্রভাতে এবং অপরাহ্নে ও জোহরের সময়। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সব প্রশংসা তো তাঁরই।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ১৭-১৮)

কোরআনের এই আয়াত থেকে স্পষ্ট জানা যায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য নির্ধারিত সময়গুলোতে আসমান ও জমিনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নতুন সময়ে নতুন করে আল্লাহর তাসবিহ ও প্রশংসাগীতি উপস্থাপনের সুযোগ মেলে। এ সময়গুলোতে পৃথিবীতে যে পরিবর্তন হয়, সেটা মানুষের দেহমনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। যখন রাতের নিকষ কালো অন্ধকার ভেদ করে প্রভাতের আলো ফোটে, তখন আল্লাহর প্রিয় বান্দা ফজরের নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে প্রভুর প্রশংসা করে। দুপুরের দিকে মানবদেহে তন্দ্রাভাব জাগ্রত হয়। এটি মানুষকে বিস্মৃতিপরায়ণ করে তোলে। তাই এ সময় জোহরের নামাজের বিধান দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ তার স্রষ্টার স্মরণে লিপ্ত হয়। আসরের সময় তেজোদীপ্ত সূর্যের প্রখরতা ও ক্ষিপ্রতা কমে যায়। এটি সব কিছুর ক্ষয় ও লয়ের ইঙ্গিত দেয়। ইঙ্গিত দেয় এ কথার দিকেও যে মানুষের সব যোগ্যতা ও পূর্ণতা এভাবেই ধীরে ধীরে ধ্বংস ও বিনাশের দিকে এগিয়ে চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর প্রিয় বান্দা আসরের নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কুদরতি পায়ে সিজদাবনত হয়ে যায়।

একটি নতুন দিন শুরু হয় নতুন স্বপ্ন নিয়ে। সন্ধ্যায় সেই স্বপ্নময় দিনের সমাপ্তি ঘটে। সমাপ্তি ঘটে দিনের আলোরও। মানুষ আবারও অন্ধকারে নিপতিত হয়। তাই এ সময় মাগরিবের নামাজের বিধান দেওয়া হয়েছে, যাতে দুনিয়ার জীবনে দীর্ঘ আশা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

এশার সময় পৃথিবী নিকষ কালো অন্ধকারে ছেয়ে যায়। অন্ধকার হাজারো বিপদ-আপদের প্রতীক। দুনিয়া ও আখিরাতের সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে আশু মুক্তির জন্য এশার নামাজের বিধান দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ ইবাদতের বরকতে আপদ থেকে রক্ষা পায়। [আহকামে ইসলাম আকল কি নজর মে, আশরাফ আলী থানভি,  পৃষ্ঠা ৭২-৭৬ (সংক্ষেপিত)]

মন্তব্য