kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

শবেবরাতের ফজিলত ও বরকত

মুফতি আরশাদ রাহমানি   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ২১:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শবেবরাতের ফজিলত ও বরকত

‘শবেবরাত’ ফারসি ভাষার দুটি শব্দ। শব মানে রাত বা রজনী, আর বরাত মানে মুক্তি, পরিত্রাণ।

কোরআন, হাদিস ও তাফসিরের বিভিন্ন গ্রন্থে শবেবরাতের বর্ণনা আছে ভিন্ন নামে, ভিন্ন শব্দে ও ভিন্ন পরিভাষায়। কোরআনের পরিভাষায় শবেবরাতকে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ বলা হয়।

হাদিসের পরিভাষায় এই রজনী ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ (অর্ধশাবানের রজনী) নামে পরিচিত। এই রজনীতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে অভাব-অনটন, রোগ-শোক, বিপদ-আপদ ও গুনাহ থেকে মুক্তি চাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিকহের কিতাবে এই রাতকে লাইলাতুল বারাআহ—মুক্তির রজনী, লাইলাতুর রহমাহ—রহমতের রজনী, লাইলাতুছ ছক—আমলনামার রজনী, লাইলাতুল কিসমাহ—ভাগ্যরজনী, লাইলাতুল আফভি—ক্ষমার রজনী, লাইলাতুত তাওবাহ—তাওবার রজনী, লাইলাতুল ইতক—জাহান্নাম থেকে মুক্তির রজনী ও লাইলাতুত দোয়া—প্রার্থনার রজনী নামেও অভিহিত করা হয়েছে। (তুহফাতুল আহওয়াজি : ৩/৩৬৪; হাশিয়াতুস   সিনদি : ১/৪২২; উমদাতুল কারি : ২/১৭; ফয়জুল কাদির : ২/২৬৩)

শবেবরাতের ফজিলত সম্পর্কে অনেকগুলো হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, ‘এমন পাঁচটি রাত রয়েছে, যেগুলোতে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না। সেই রাতগুলো হলো, জুমার রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৫ তারিখের রাত, দুই ঈদের রাত।’ (সুনানে বায়হাকি,  হাদিস : ৬০৮৭, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ৩৪৪০, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক,  হাদিস : ৭৯২৭)

এক হাদিসে এসেছে, হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, মধ্য শাবানের রাতে, অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক, হিংসুক ও বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫, আল মুজামুল কাবির : ২০/১০৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ৬৬২৮)

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) এই রাতে মদিনার কবরস্থান জান্নাতুল বাকিতে এসে মৃতদের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করতেন। তিনি বলেন, এই রাতে কালব গোত্রের বকরির পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশিসংখ্যক বান্দাকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৭৩৯, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৭৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ৩৫৪৪)

আল্লামা তকি উসমানি (দা. বা.) লিখেছেন, ১০ জন সাহাবির বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয়, রাসুল (সা.) এই রাতের ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে কয়েকটি হাদিস বর্ণনা সূত্রের দিক থেকে সামান্য দুর্বল। এসব সনদ বা সূত্র দেখে অনেকে বলে দিয়েছেন, এ রাতের ফজিলতের কোনো ভিত্তি নেই! অথচ মুহাদ্দিস ও ফকিহদের সিদ্ধান্ত হলো, কোনো বর্ণনার সূত্র দুর্বল হলে এর সমর্থক হাদিস থাকলে তার দুর্বলতা কেটে যায়। তবে শবেবরাতের স্বতন্ত্র কোনো ইবাদত নেই, আবার এ রাতের জন্য ইবাদতের আলাদা কোনো নিয়মও নেই।’ (মাসিক আল-বালাগ, শাবান, ১৪৩১ হিজরি)

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.) ও নাসিরুদ্দিন আলবানি (রহ.)-এর মতে, শবেবরাতের ফজিলত বিষয়ে বর্ণিত হাদিস সহিহ বা বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত। (আরফুশশাজ্জি : ১/১৫৬, সিলসিলাতুছ সহিহাহ : ৩/১৩৫)

তাই শবেবরাত নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ রাতের কল্যাণ লাভে ধন্য করুন। আমিন।

লেখক : পরিচালক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা

মন্তব্য