kalerkantho

ওয়াজ নিয়ে সরকারি নির্দেশনা : কী ভাবছে আলেমসমাজ

নম্র ভাষায় দাওয়াত দিয়ে তাবলিগ জামাত সফলতা পেয়েছে

আল্লামা আবদুল হালিম বুখারি   

৪ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নম্র ভাষায় দাওয়াত দিয়ে তাবলিগ জামাত সফলতা পেয়েছে

নম্র ভাষায় দাওয়াত দিয়ে তাবলিগ জামাত সফলতা পেয়েছে। সুতরাং এভাবেই দ্বিন প্রচার করা উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আলেম আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া চট্টগ্রামের মহাপরিচালক আল্লামা আবদুল হালিম বুখারি। তিনি বলেন, ওয়াজের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে হেদায়েতের পথে নিয়ে আসা। এটাও দাওয়াতের অংশ। তবে এটা প্রচারের দুটি ধারা আছে—এক. মহব্বতের সঙ্গে নম্র ভাষায় মানুষকে সত্য পথে আহ্বান করা; দুই. রাজনৈতিক ভাষায় কঠোরতার সঙ্গে মানুষকে দাওয়াত দেওয়া। দ্বিতীয় পন্থা আমি পছন্দ করি না। দেখুন, তাবলিগ জামাত নম্রভাবে কথা বলে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। আমি মনে করি, সেভাবেই ওয়াজ করা উচিত। বর্তমানে যেভাবে ওয়াজ করা হয়, আমি আমাদের মুরব্বিদের সেভাবে কখনো ওয়াজ করতে দেখিনি। আর ওয়াজের মূলনীতি কোরআনেই আছে। খোদাদ্রোহী ফেরাউনের কাছে যখন মুসা ও হারুন (আ.)-কে পাঠানো হয়, তখন এই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল : ‘তোমরা তার সঙ্গে নম্র ভাষায় কথা বলবে। (এতে) হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ৪৪)

কী আছে সরকারি নির্দেশনায়
ফেসবুক ও ইউটিউবের কল্যাণে ওয়াজ মাহফিল এখন আর ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে শোনা যায় ওয়াজ মাহফিল। আর এর মাধ্যমে উঠে আসছে ওয়াজের মাঠের নানা চিত্র। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে—১. ওয়ায়েজ হুজুররা যেন বাস্তবধর্মী ও ইসলামের মূল স্পিরিটের সঙ্গে সংহতিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন, সে জন্য তাঁদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের ব্যবস্থা করা। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি পুলিশের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ; ২. যাঁরা ওয়াজের নামে হাস্যকর ও বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে ধর্মের ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করার চেষ্টা চালান, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রো-অ্যাকটিভ উদ্বুদ্ধকরণ; ৩. অনেক আলেমের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রির মতো উচ্চশিক্ষা ছাড়া যাঁরা ওয়াজ করেন, তাঁরাই জঙ্গিবাদ ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তাই মাদরাসায় উচ্চশিক্ষিত ওয়াজকারীদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা; ৪. অনেকেই আছেন, যাঁরা হেলিকপ্টারযোগে ওয়াজ মাহফিলে যোগ দেন এবং ঘণ্টাচুক্তিতে বক্তব্য দিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন। তাঁরা নিয়মিত ও সঠিকভাবে আয়কর প্রদান করেন কি না তা নজরদারির জন্য আয়কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করা; ৫. ওয়ায়েজ হুজুরদের বক্তব্য স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া এবং উসকানিমূলক ও বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য দিলে তাঁদের সতর্ক করা। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে তাঁদের ওয়াজ করার অনুমতি না দেওয়া এবং ৬. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য প্রদানকারীদের আইনের আওতায় আনা।

মন্তব্য