kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

ওয়াজ নিয়ে সরকারি নির্দেশনা : কী ভাবছে আলেমসমাজ

ঢালাওভাবে ওয়াজ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয়

আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ   

৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৭:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢালাওভাবে ওয়াজ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয়

যাঁরা ঈমান ও ইসলামের কথা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছেন, তাঁদের ঢালাওভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয় বলে মত ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ বলেন, আলেমরা সমাজের আয়না। ঢালাওভাবে আলেম-উলামার ওয়াজ নিয়ন্ত্রণ ঠিক হবে না। তবে যদি সুনির্দিষ্টভাবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, একজন সাধারণ মানুষ মসজিদে এলেই আলেম খুশি হন। আলেমের দাওয়াতি কাজই হলো আসল মেহনত। কোথাও কোথাও কেউ কেউ কোনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তা অবশ্যই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এটা আলেমদের বাস্তব চিত্র নয়। ঢালাওভাবে ওয়াজ নিয়ন্ত্রণ করলে বাস্তব ক্ষেত্রে সমাজ পিছিয়ে পড়বে। দ্বিনের আলো সমাজে কমতে থাকলে অন্ধকার এখানে জায়গা করে নেবে। সমাজকে আলোকিত করতেই এই সমাজের বাতাসে দ্বিনের কথা ছড়িয়ে দিতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকাতেও আলেমদের ওয়াজ ও বয়ান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কী আছে সরকারি নির্দেশনায়
ফেসবুক ও ইউটিউবের কল্যাণে ওয়াজ মাহফিল এখন আর ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে শোনা যায় ওয়াজ মাহফিল। আর এর মাধ্যমে উঠে আসছে ওয়াজের মাঠের নানা চিত্র। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে—১. ওয়ায়েজ হুজুররা যেন বাস্তবধর্মী ও ইসলামের মূল স্পিরিটের সঙ্গে সংহতিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন, সে জন্য তাঁদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের ব্যবস্থা করা। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি পুলিশের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ; ২. যাঁরা ওয়াজের নামে হাস্যকর ও বিতর্কিত বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে ধর্মের ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করার চেষ্টা চালান, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রো-অ্যাকটিভ উদ্বুদ্ধকরণ; ৩. অনেক আলেমের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রির মতো উচ্চশিক্ষা ছাড়া যাঁরা ওয়াজ করেন, তাঁরাই জঙ্গিবাদ ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তাই মাদরাসায় উচ্চশিক্ষিত ওয়াজকারীদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা; ৪. অনেকেই আছেন, যাঁরা হেলিকপ্টারযোগে ওয়াজ মাহফিলে যোগ দেন এবং ঘণ্টাচুক্তিতে বক্তব্য দিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন। তাঁরা নিয়মিত ও সঠিকভাবে আয়কর প্রদান করেন কি না তা নজরদারির জন্য আয়কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করা; ৫. ওয়ায়েজ হুজুরদের বক্তব্য স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া এবং উসকানিমূলক ও বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য দিলে তাঁদের সতর্ক করা। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে তাঁদের ওয়াজ করার অনুমতি না দেওয়া এবং ৬. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য প্রদানকারীদের আইনের আওতায় আনা।

মন্তব্য