kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

শৈশবেই ইয়াহইয়া (আ.) বিশেষ জ্ঞান লাভ করেছেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শৈশবেই ইয়াহইয়া (আ.) বিশেষ জ্ঞান লাভ করেছেন

১২. হে ইয়াহইয়া, এই কিতাব দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রহণ করো। আমি (আল্লাহ) তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান। [সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ১২ (দ্বিতীয় পর্ব)]।

তাফসির : বৃদ্ধ বয়সে জাকারিয়া (আ.) সন্তান লাভ করেছেন। ওই সন্তানের নাম ইয়াহইয়া। পরে তিনিও আল্লাহর নবী মনোনীত হয়েছেন। শৈশবেই তাঁকে বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়েছে। এই বিশেষ জ্ঞানের স্বরূপ কী—এ বিষয়ে তাফসিরবিদদের মতভেদ দেখা যায়। প্রাচীন তাফসিরবিদদের মধ্যে ইবনে জারির তাবারি (রহ.) ও ইবনে কাসির (রহ.)-এর মতে, শৈশবেই ইয়াহইয়া (আ.)-কে জ্ঞানের পরিপক্বতা, দৃঢ়তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যা সাধারণ অল্প বয়সী শিশুদের হয় না। মামার (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে, শৈশবে ইয়াহইয়া (আ.)-কে বলা হয়েছিল, এসো, আমরা খেলা করি। জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমাদের খেলা করার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। (জামেউল বায়ান : ১৬/৫৫)।

তবে ইমাম রাজি (রহ.)সহ তাফসিরবিদদের একদল মনে করেন, এখানে বিশেষ জ্ঞান বলতে নবুয়তের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শৈশবেই ইয়াহইয়া (আ.)-কে নবুয়ত দেওয়া হয়েছে। (আততাফসিরুল কাবির, সুরা মারিয়াম দ্রষ্টব্য)। এই তাফসিরের আলোকে বলা হয়ে থাকে যে সব নবী ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেছেন, কিন্তু ইয়াহইয়া (আ.) ও মুসা (আ.) অল্প বয়সেই নবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। (আততাফসিরুল মুনির : ৮/৩৯৭)।

আদিকাল থেকেই আল্লাহর রীতি হলো, তিনি কোনো জনপদের অধিবাসীদের ওহিভিত্তির জীবনবিধান সম্পর্কে অনবহিত থাকা অবস্থায় তাদের অন্যায়-অপরাধের জন্য ধ্বংস করে দেন না। বরং প্রথমে তিনি জনপদবাসীদের কাছে নবী-রাসুল ও কিতাব নাজিল করে তাদের শোধরানোর সুযোগ দেন। নবুয়ত এমন কোনো বিষয়ও নয়—যা দক্ষতা, মেধা বা প্রতিভার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। নবুয়ত সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর মনোনয়ন ও নির্বাচন। কিছু মানুষের মধ্যে মহান আল্লাহ নবুয়তের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা জন্মগত ও স্বভাবগতভাবেই সৃষ্টি করে দেন। মক্কার কাফিররা মহানবী (সা.)-এর নবী হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এর জবাবে মহান আল্লাহ তাদের জানিয়ে দেন, ‘... আর আল্লাহ তাঁর রিসালাতের ভার কার ওপর অর্পণ করবেন, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন...।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১২৪)।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন মানবজাতিকে সত্য পথ প্রদর্শনের জন্য। নবী-রাসুলদের দায়িত্ব আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। কোনো নবী-রাসুল ইচ্ছা করলেই কাউকে হেদায়েত করতে পারেন না। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘বলে দাও, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য এসে গেছে। সুতরাং এখন যে হেদায়েতের পথ অনুসরণ করবে, সে আসলে নিজের কল্যাণের জন্যই সেই পথ অবলম্বন করবে। আর যে পথভ্রষ্ট হবে, সে নিজেই নিজের অমঙ্গল সাধন করবে। আর আমি তোমাদের কর্মনিয়ন্ত্রক নই।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১০৮)।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা