kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

আপনি যা জানতে চেয়েছেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৫:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আপনি যা জানতে চেয়েছেন

সেন্ট, বডি স্প্রে ব্যবহার করা যাবে কি?
জিজ্ঞাসা ১ : জনাব, আমার প্রশ্ন হলো, ইসলামে সুগন্ধির প্রতি কী ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে? আর অ্যালকোহলযুক্ত সুগন্ধি ব্যবহার করার বিধান কী?

—আবদুল্লাহ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী।

জবাব : সুগন্ধি ও আতর রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ছিল। সুগন্ধিপ্রিয়তা নবী-রাসুলদের আদর্শ। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবীর সুন্নত—আতর, বিয়ে, মেসওয়াক ও লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা। ’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৪৭৮)

তবে বর্তমানে সুগন্ধিযুক্ত বস্তু যেমন—সেন্ট, বডি স্প্রে ইত্যাদি অ্যালকোহল ছাড়া প্রস্তুত করা দুষ্কর। আর এ বিষয়ে ইসলামের বিধান হলো, যেসব অ্যালকোহল আঙুর, খেজুর অথবা কিশমিশ থেকে তৈরি, সেসব অ্যালকোহল সম্পূর্ণ হারাম। এ ধরনের অ্যালকোহল মেশানো সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না। কেননা মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৩৪৩)

এই তিন বস্তু ছাড়া অন্য উপাদান থেকে যেসব অ্যালকোহল তৈরি করা হয়, যেমন—এখনকার সেন্ট বা বডি স্প্রেগুলোতে সাধারণত আঙুর, খেজুর বা কিশমিশ থেকে প্রস্তুতকৃত অ্যালকোহল থাকে না; বরং বিভিন্ন শস্যদানা, গাছপালার ছাল, মধু, শস্য, যব, আনারসের রস, গন্ধক ও সালফেট, অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ইত্যাদি থেকে প্রস্তুতকৃত অ্যালকোহল মেশানো হয়। (এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা : খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৪৪, প্রকাশকাল ১৯৫০ খ্রি.) তাই এগুলো নাপাক নয়। আর এগুলো নেশার উদ্রেক না হওয়া পরিমাণ ব্যবহার করা যায়। (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম : ১/৩৪৮, ৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ু : ১/২৯৮)

সুতরাং যেহেতু সেন্ট বা বডি স্প্রেগুলোতে সামান্য পরিমাণ পরিশোধিত অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয় এবং তা শরীরের অভ্যন্তরে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না, তাই এগুলো ব্যবহারে আপত্তি নেই। তবে এরূপ সেন্ট পরিত্যাগ করাই উত্তম। (জাদিদ ফিকহি মাসাইল : ১/৩৮)

লোশনে কি অপবিত্র কিছু মেশানো থাকে?
জিজ্ঞাসা ২ :  বাজারে পাওয়া শীতকালীন লোশনগুলোতে কি অপবিত্র কিছু মেশানো থাকে? এগুলো ব্যবহার করার বা না করার ব্যাপারে আপনার পরামর্শ জানতে চাই।

—তামান্না আবেদিন

জবাব : ইসলামী শরিয়তের একটি বহুল আলোচিত মূলনীতি আছে। সেটি হলো, কোনো বস্তু হারাম হওয়ার বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া না যাওয়ার আগ পর্যন্ত তা বৈধ বলে গণ্য হয়। এই মূলনীতি কোরআনের একটি আয়াত থেকে আনা হয়েছে। আয়াতটি হলো, ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের কল্যাণে পৃথিবীতে অবস্থিত সব কিছু সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৯)

আর লোশন, স্নো, ক্রিম ইত্যাদিতে নাপাক বস্তু মেশানোর বিষয়টি এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। সুতরাং এগুলো ব্যবহার বৈধ বলে গণ্য হবে।

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি তাজুল ইসলাম

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা