kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে লেগে রইল কলঙ্কের দাগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুলাই, ২০১৯ ২১:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে লেগে রইল কলঙ্কের দাগ

ছবি : এএফপি

লর্ডসের মাঠ এবার সাক্ষী হয়ে গেল ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল এক ফাইনাল ম্যাচের। পঞ্চমবারের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হল লর্ডসে। তবে এ বারের বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো টানটান উত্তেজনার আর কখনও দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব। যে ম্যাচে ক্রিকেট-জনতা দেখল এক অদ্ভুত বিজয়। সাধারণ দর্শকের বুঝতে সময়ও লাগল কোন নিয়মে এই জয় এসেছে। অনেকে ভাবলেন লিগ টেবিলে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ওপরে থাকার জন্য কাপ জিতল ইংল্যান্ড। আবার অনেক ভাবলেন ক্রিকেট মোড়লদের দাদাগিরি। আসল বিষয়টি বোধগম্য হয় কিছুক্ষণ পরে।

ম্যাচে কিউইদের চেয়ে বেশি বাউন্ডারি মারায় জিতেছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ জয়ের এক আলাদা তৃপ্তি আছে। কিন্তু একটু হলেও যেন কলঙ্কের দাগ লেগে রইল ইংলিশদের প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে। ১০০ ওভারের ম্যাচ শেষ হয় সমান সমান অবস্থায়। সুপার ওভারও শেষ হয় অমীমাংসিত ভাবে। এই অবস্থায় কী করে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে শুধুমাত্র বাউন্ডারি মারার সংখ্যা? এই প্রশ্নই এখন তুলেছেন সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

চার বছরের অপেক্ষা। ১০ দলের লড়াই। ৪৪ দিন ধরে চলা মেগা টুর্নামেন্ট। একাধিক টানটান ম্যাচ। সেই টুর্নামেন্টের মীমাংসা হল কি না দুই দলের মধ্যে কে বেশি চার মেরেছে তাই দিয়ে! ক্রিকেটে কি তা হলে শুধু বেশি বাউন্ডারি মারাই প্রধান লক্ষ্য? 'জেন্টলম্যানস গেম' বলা হয় ক্রিকেটকে। বোলার বুদ্ধি খাটিয়ে বল করে উইকেট নেন। ধীরে ধীরে সিঙ্গলস নিয়ে ইনিংস গড়েন ব্যাটসম্যান। কত রকমের মাইন্ড গেম চলে, তার ইয়ত্তা নেই। একের পর এক উইকেট হারানোর পরে ব্যাটসম্যান দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ইনিংস গড়েন, বোলারের মারাত্মক বাউন্সারের ছোবল সহ্য করেও ব্যাট করে চলার তো তা হলে কোনো মূল্য রইল না! 

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরে এ সব প্রশ্ন উঠছে। একটা ফাইনাল কত বিতর্ক তৈরি করে দিয়ে গেল! লর্ডসের হার নিউজিল্যান্ড শিবিরকে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়ার কথা। গত বারের হারের থেকেও এই হার যে বেশি যন্ত্রণার। কেন উইলিয়ামসন কি কোনোদিন ভুলতে পারবেন এই হার? চ্যাম্পিয়ন দল ইংল্যান্ড ক্রিকেটীয় বিচারে কোনো অবস্থাতেই ফাইনালে হারাতে পারেনি কিউইদের। অগত্যা যে বেশি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছে, সেই দলকেই চ্যাম্পিয়ন করা হলো। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মহা মঞ্চে এভাবে হার কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

চির শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যম পর্যন্ত এই ফাইনালকে 'নিষ্ঠুর প্রহসন' হিসেবে উল্লেখ করেছে। এরকম নিয়মের বেড়াজালে হেরে যাওয়া সত্যিই দুঃখের। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া আইসিসির নতুন আইন অনুযায়ী সুপার ওভার ড্র হলে বাউন্ডারি যে দল বেশি মেরেছে তাদের জয়ী ঘোষণা করা হবে। বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রশ্ন শুধু এটা নিয়েই নয়; গাপটিলের থ্রো স্টোকসের ব্যাটে লেগে হওয়া চারে ৬ রান দেওয়া নিয়েও কথা উঠেছে। এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক হয়ে রইল বাজে আম্পায়ারিং।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা