kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

তাজরীন ফ্যাশনে আগুন

অবহেলায় শতাধিক শ্রমিকের পুড়ে মরার মামলায় সাক্ষ্য

আদালত প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৯ ২১:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবহেলায় শতাধিক শ্রমিকের পুড়ে মরার মামলায় সাক্ষ্য

অবহেলায় আগুনে পুড়ে আশুলয়ার নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের পোষাক তৈরি প্রতিষ্ঠান তাজরীন ফ্যাশনে কর্মরত শতাধিক নিরীহ শ্রমিক মারা যাওয়ার ঘটনায় বিচারাধীন মামলায় সাক্ষি দিয়ে গেলেন আশুলিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক আবিদ হোসেন। অভিযোগ গঠনের পর হতে গত আড়াই বছরে এখন পর্যন্ত চার্জশিটের ৮ জন সাক্ষি দিলেন। 

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন মামলায় তিনি সাক্ষ্য দেন। সংশ্লিষ্ট বিচারক প্রদীপ কুমার রায় তার জবানবন্দি ও আসামিদের পক্ষে করা জেরা লিপিবদ্ধ করেন। একইসঙ্গে সাক্ষির জন্য আগামি ৭ এপ্রিল পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

সাক্ষ্য গ্রহনের সময় মামলার জামিনে থাকা আসামি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, লোডার শামীম, সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান ও সুপার ভাইজার আল আমিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, অ্যাডমিন অফিসার দুলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোরশেদ, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জুর, শহীদুজ্জামান দুলাল ও সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনোয়ারুল আদালতে হাজির ছিলেন বলে সুত্র জানিয়েছে।

২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মামলার চার্জশিটের মোট ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। 

এর আগে ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে চার্জশিট দেয় পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের পরিদর্শক এ কে এম মহসীনুজ্জামান।

চার্জশিটে আনা অভিযোগের বর্ণনায় বলা হয়, ভবনটির নকশায় ত্রুটি ও জরুরি নির্গমনের পথ ছিল না। কারখানায় আগুন লাগার পর শ্রমিকরা বাইরে বের হতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা অগ্নিনির্বাপন মহড়া বলে শ্রমিকদের কাজে ফেরত পাঠিয়ে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেওয়ায় এত প্রানহানি ঘটেছে। 

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তুবা গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ১১১ জন পোশাক শ্রমিক নির্মমভাবে নিহত হন। আহত হন ১০৪ জন শ্রমিক। গার্মেন্টসটিতে এক হাজার ১৬৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন, কিন্তু দুর্ঘটনার সময় ৯৮৪ জন সেখানে কর্মরত ছিলেন।

নিহত ১১১ জনের মধ্যে তৃতীয় তলায় ৬৯ জন, চতুর্থ তলায় ২১ জন, পঞ্চম তলায় ১০ জন, পরবর্তীতে বিভিন্ন হাসপাতালে মারা যান ১১ জন। লাশের নাম-পরিচয় সনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অবশিষ্ট ৫৩ জনের লাশ সনাক্ত না হওয়ায় তাদের বেওয়ারিশ হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার পরদিন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা