kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ফের জামিন জালিয়াতি, আইনজীবীদের তলব

আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আদালত প্রতিবেদক   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফের জামিন জালিয়াতি, আইনজীবীদের তলব

প্রতীকী ছবি

হাইকোর্টে জাল কাগজ দিয়ে জামিন নেওয়া আসামির দুই আইনজীবীকে তলব করা হয়েছে। একইসঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। চলতি বছরের গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এর বিচারপতিদ্বয় জালিয়াতির বিষয়টি জানার পর আসামির জামিন বাতিল করে নিযুক্তিয় আইনজীবীসহ তদবিরকারককে এর ব্যাখ্যা চাওয়ার আদেশ দিতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেন।
 
বিধি মোতাবেক ওই আদেশের অনুলিপি বিচারিক আদালতে আসার পর আজ মঙ্গলবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঞ্জুরুল ইমাম ওই আইনজীবীদের তলব করেন। একইসঙ্গে আসামির জামিন বাতিল করে ওই আদেশ দেন। 
 
গত বছরের ১৭ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হাবিবুল গণি এবং বিচারপতি বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ থেকে আসামির জামিন নেওয়া হয়। হাইকোর্টের আদেশের কপি মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসার পর একই বছরের ২৫ জুলাই জামিননামা দাখিল করা হয়। কারামুক্ত হওয়ার পর ওই বছরের ৫ সেপ্টম্বর, ২১ অক্টোবর এবং চলতি বছরের গত ১৭ জানুয়ারি বিচারিক আদালতের ধার্য তারিখে আসামি হাজিরাও দিয়েছেন।
 
আদালত সূত্র জানায়, হাইকোর্টে জালিয়াতি করে নয় কেজি ২৭৪ গ্রাম স্বর্ণের পরিবর্তে পঁয়ত্রিশ হাজার ৩০০ রুপি উদ্ধারের তথ্য দিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ওই মামলায় আসামি সিরাজুল ইসলামের জামিন নেওয়া হয়। বিচারিক এ আদালতে আসামির পক্ষে জামিননামা দাখিল করেন আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম। এরপর ধার্য তিনটি তারিখে হাজিরা দিয়েছেন আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তাদের দুইজনকেই তলব করা হয়েছে। 
 
হাইকোর্টের আদেশদৃষ্টে দেখা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের ডিএজি (ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল) কাজী ইবাদত হোসেন বিচারপতিদ্বয়কে অবগত করেন যে, ফৌজদারি বিবিধ ১৯৪৩৩/২০১৮ নম্বর মামলায় জামিনের প্রশ্নে রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় ফৌজদারি আপিল নম্বর ৬৪৬৫/২০১৮ মূলে মামলার প্রকৃত ঘটনা গোপন করে জামিন নেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ওই মামলায় হাইকোর্টে নিযুক্তিয় আইনজীবীকে তাৎক্ষণিক তলব করা হয়। আইনজীবী মোহাম্মাদ সাইফুর রহমানকে এসে জানান, স্বর্ণের মামলায় নয় বরং পঁয়ত্রিশ হাজার ৩০০ রুপি পাচারের মামলায় জামিন চেয়েছেন।
 
তখন হাইকোর্টের বিচারপতিদ্বয়ের নিকট জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেলে আসামির জামিন বাতিল করে নিযুক্তিয় আইনজীবীসহ তদবিরকারককে এর ব্যাখ্যা চাইতে নির্দেশ দিযে বিচারক আদালতের প্রতি আদেশ জারি করেন। 
 
মামলার বিবরণে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ৫ জুলাই রাতে ব্যাংকক থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রী নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বসন্তনগর গ্রামের মোহাম্মাদ মোস্তফার ছেলে সিরাজুল ইসলামের দেহ তল্লাশি করে তার দুই পায়ের হাঁটুর নিচে বাধা অবস্থায় প্রতিটি এক কেজি ওজনের নয়টি স্বর্ণের বার ও পৃথক ২৭৪ গ্রাম ওজনের দুইটি স্বর্ণের টুকরা উদ্ধার করে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (বি) এর ১ (বি) ধারায় বিমানবন্দর থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা এনামুল হক। তদন্ত শেষে সিরাজুলসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান। সিরাজুলের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে একই এলাকার জালাল উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম এবং নরসিংদী এলাকার সাজারুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। এরা তিনজনই পলাতক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা