kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

রানা প্লাজা ভবন ধ্বসের ঘটনায় হত্যা মামলার ২ আসামি জামিনে

আদালত প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২২:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রানা প্লাজা ভবন ধ্বসের ঘটনায় হত্যা মামলার ২ আসামি জামিনে

সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধ্বসের ঘটনায় হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রাম বিভাগের কলকারখানা পরিদর্শন ও পরিদপ্তরের পরিদর্শক প্রকৌশল মো. ইউসুফ আলী, পরিদর্শক প্রকৌশল ঢাকা বিভাগ মো. সহিদুল ইসলামকে জামিন দিয়েছেন আদালত। অস্বাভাবিক এ জামিন দেওয়া নিয়ে আদালত পাড়ায় চলছে কানাঘুষা।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ওই আসামিরা আজ বুধবার মামলার অনির্ধারিত তারিখে আদালতে আত্মসর্ম্পন করে জামিন আবেদন করেন। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শাহজাদী তাহমিদা শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। আসমির পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট বাহারুল ইসলাম। রাষ্টপক্ষে জেলা পিপি খোন্দকার আবদুল মান্নান ও সংশ্লিস্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবির বাবুল জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।

আদালতে শুনানির সময় উপস্থিত সাধারণ আইনজীবীদের অনেকেই বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার আরেক আসামি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক আওলাদ হোসেনকে আত্মসর্ম্পনের পর কারাগারে পাঠিয়েছেন একই বিচারক।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর চার্জশিট আমলে নেয়ার পর মামলার ৪১ জন আসামির মধ্যে ২৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপরও আসামিরা পলাতক ছিলেন।

মামলার নথি সূত্রে দেখা গেছে, এ মামলায় এখনও ১২ জন পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামি ৩ মার্চ তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য আছে। একই ঘটনায় দায়েরকৃত ইমারত নির্মাণ আইনের আরেক মামলায়ও পলাতকেদর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একই দিন ধার্য রয়েছে।

এ মামলায় অন্যদের মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন প্রধান আসামি ভবন মালিক সোহেল রানা, তার সহযোগী মো. আতাউর রহমান, মো. আবদুস সালাম, আবদুল হামিদ, বিদ্যুৎ মিয়া, আমিনুল ইসলাম। রানা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে।

বর্তমানে মামলায় ১৮ জন জামিনে আছেন। অন্যরা হলেন- সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ওরফে কুলু খালেক, রানার মা মর্জিনা বেগম, রেফাত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আলী খান, রফিকুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান রাসেল, বজলুস সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান তাপস, আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, আমিনুল ইসলাম, মো, সারোয়ার কামাল, উত্তম কুমার রায়, অনিল দাস, শাহ আলম, আবুল হাসান, মোহাম্মদ আলী খান ও রাকিবুল হাসান।

দুই বছরেরও বেশি সময় পরে গত বছরের গত ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের সহকারি সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দণ্ডবিধি আইনের ৩০২/৩২৬/৩২৫/৩৩৭/৩৩৮/৪২৭/৪৬৫/৪৭১/২১২/১১৪/১০৯/৩৪ ধারার অভিযোগে হত্যা ও ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনের ১২ ধারায় দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ মামলার বাদী সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফসহ সাক্ষী করা হয়েছে ৫৯৪ জনকে।

ইমারত নির্মাণ আইনের করা মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার বাদী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনসহ ১৩৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

দুই মামলায় মোট ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাভার পৌরসভার মেয়র, রানার অনুগত বাহিনীর সদস্য এবং তাকে পালাতে সহায়তাকারীরাসহ দুই মামলার আসামি ৫৯ জন।

হত্যা মামলার চার্জশিটে ৪১ জনকে এবং ইমারত নির্মাণ আইনের চার্জশিটে ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইনের ১৮ জন আসামির মধ্যে ১৭ জনই দণ্ডবিধির চার্জশিটে রয়েছেন। ফলে দুই মামলায় মোট আসামি ৪২ জন।

দুই মামলার চার্জশিটেই ভবন মালিক সোহেল রানা, তার পিতা আবদুল খালেক ওরফে কুলু খালেক, মা মর্জিনা বেগম, রেফাত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আলী খান, রফিকুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান রাসেল, বজলুস সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান তাপস, আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, আমিনুল ইসলাম, মো, সারোয়ার কামাল, উত্তম কুমার রায়, মাহবুবুর রহমান, ফারজানা ইসলাম, রেজাউল ইসলাম ও নান্টু কন্টাকটার আসামি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল স্মরণকালের ভয়াবহ সাভারের রানা প্লাজার নয়তলা ভবন ধ্বসে ঘটনাস্থলে নির্মমভাবে মারা যায় এক হাজার ১১৭ জন শ্রমিক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যায়। ধ্বংসস্তুপ থেকে দুই হাজার ৪৩৮ জনকে মারাত্মক আহতাবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়। এক হাজার ৫২৪ জন গুরুতর জখম হন। চিরতরে পঙ্গত্ব বরণ করেন ৭৮ জন। মৃত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮৪৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা রেখে ২৯১ জনের অসনাক্তকৃত লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা