kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা বাদীকে জেরা চলছে

আদালত প্রতিবেদক   

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৭:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা বাদীকে জেরা চলছে

অবৈধ সম্পদ অর্জন করাসহ তথ্য গোপনের অভিযোগে কক্সবাজার-৪ (উত্থিয়া- টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় বাদীর সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলায় সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সোবহানকে জেরা করেন বদির আইনজীবী। আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক আবু আহমেদ জমাদার বাদীর জেরা মুলতবি রেখে অবশিষ্ট জেরার জন্য আগামি ৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন দুদুকের বিশেষ পিপি কবির হোসাইন।

জামিনে থাকা বদি আদালতে হাজির ছিলেন। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান লিখন বাদীকে জেরা করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ও ২৭(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনপূর্বক মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানিলন্ডারিং আইনের বিধান লংঘনের অভিযোগে বদির বিরুদ্ধে চলতি বছর ৭ মে দুদকের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে বলা হয়, সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি নির্বাচন কমিশনে গত বছরের ২০ মার্চ জমা দেওয়া বিবরনীতে হলফনামায় বলেছেন তার বার্ষিক আয় ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা। আর বার্ষিক ব্যয় ২ কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৮ টাকা। তার নিজের ও সন্তানদের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমান পাঁচ কোটি ২০ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৮ টাকা বলেছেন। পাঁচ বছরে তার আয় ৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪০ টাকা।
যেখানে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দাখিল করা সম্পদ বিবরনীর সাথে জমা দেয়া হলফনামা মোতবেক তার বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা। ব্যয় ছিল দুই লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ টাকা। ওই সময় বিভিন্ন ব্যাংকে তার মোট জমা ও সঞ্চয়ী আমানত ছিল ৯১ হাজার ৯৮ টাকা।
এছাড়া তদন্তে দেখা গেছে, বদি গত ২০১৩ সালের ৩০ জুন থেকে ২০ নভেম্বর থেকে পর্যন্ত সময়ের আয়কর রিটার্ন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ দাখিল করেন। ওই রিটার্ন থেকে জানা গেছে, তার স্থাবর সম্পদের পরিমান ছয় কোটি ৮৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৪২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমান নয় কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৫ টাকা অর্থাৎ ষোল কোটি ৬ লাখ ৯৬ হাজার ২০৭ টাকা। এক্ষেত্রে সম্পদ গোপনের পরিমান দশ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা।
সার্বিক তদন্তে আবদুর রহমান বদি তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যমানের সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখানোর জন্য দাখিলকৃত সম্পদ বিবরনীতে কম মূল্যের সম্পদ ক্রয় দেখিয়ে এক কোটি ৯৮ লাখ তিন হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি দেখিয়েছেন। এছাড়া ২০০৮ ও ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে তার সম্পদের পরিমান ৩৫১ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত বছর ২১ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সোবহান এমপি বদির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা