kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

রাউজানে মাছ চাষে স্বাবলম্বী

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাউজানে মাছ চাষে স্বাবলম্বী

রাউজানে মাছ চাষ করে এখন অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। রাউজান সদর থেকে প্রায় ১৪-১৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হলদিয়া ও ডাবুয়ার সীমান্ত এলাকায় ডাবুয়া রাবারবাগান ঘেঁষে হযরত দলিল শাহ (রহ.) আস্তানা ঠিলার পূর্ব-দক্ষিণে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল মাছের প্রজেক্ট।

সরেজমিন জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে ১৪৮০ শতক (প্রায় ১৫ একর) জলাধারে এ বিশাল মাছের প্রজেক্ট নির্মাণ করেন রাউজান পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্তরপাড়ার ৫৫ বছর বয়সী মুহাম্মদ বাচা মিয়া প্রকাশ বাচা সওদাগর। ৩৪ বছর বয়সী চিকদাইর ইউনিয়নের নোয়াত্তের বাড়ির মুহাম্মদ সেলিম ও ৩৭ বছর বয়সী হলদিয়া ইউনিয়নের ফকিরটিলা এলাকার মুহাম্মদ খালেক।

বাচা সওদাগর বলেন, ‘২০১৪ সালে আমরা তিনজন মিলে ছিটিয়াপাড়া এলাকার মুহাম্মদ আলী আজমের মালিকানা সাড়ে ২৩ কানি ও মাওলানা হাজি ইউসুফের সাড়ে ১৩ খানি জায়গা ১০ বছরের জন্য ১৪ লক্ষ টাকা দিয়ে মাছ চাষের চুক্তিবদ্ধ হই।

এরপর মাছের প্রজেক্টটিকে মাটিকাটা থেকে শুরু করে দুদিকে বড় মাটির দেয়ালসহ প্রজেক্ট উপযোগী করতে ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে মাছের চাষ শুরু করি।’

জানা গেছে, প্রথমধাপে ১০ লক্ষ টাকার মাছের পোনা দিয়ে চাষ শুরু করেন তাঁরা তিনজন। বাচা সওদাগর ৩০ লক্ষ, খালেক ৩০ লক্ষ ও সেলিম ১০ লক্ষ টাকা করে মাছের প্রজেক্টেরর জন্য নগদ প্রদান করে পুরোদমে ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিদিন তিনজন শ্রমিক কাজ করেন মাসিক সাড়ে ১০ হাজার টাকা বেতনে। নতুন প্রজেক্ট করার ৬ মাস পর থেকে ‘নাইলেটিকা’ মাছের চাষ দিয়ে বিক্রি শুরু করেন তাঁরা। বিশাল প্রজেক্টে মাছের খাদ্য বাবদ দৈনিক গুণতে হয় ৫০ হাজার টাকা।

রুই, কাতলা, মৃগেল, কালীবাইস, চিতল, তেলাপিয়া, নাইলাটিকা মাছ চাষ হয় এ প্রজেক্টে। প্রতি ১৫ দিন পর বড় জাল দিয়ে তোলা হয় মাছ। এটি ধারাবাহিক ৪দিন তোলে নিয়ে যান পাইকারি বিক্রেতারা। ১৫ দিন পর পর চাহিদা অনুযায়ী মাছ তুলে ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, নাজিরহাট, তকিরহাট, আজাদী বাজার, ফকিরহাট, আমিরহাটসহ বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যান পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা।

বর্তমানে প্রজেক্টটিতে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ চাষ হচ্ছে। এ প্রজেক্টসহ অন্যান্য প্রজেক্টের মাছ রাউজানের চাহিদা মিটিয়ে অন্য উপজেলাতেও সরবরাহ হচ্ছে।

প্রজেক্টের স্বত্বাধিকারী বাচা সওদাগর জানান, গত বর্ষার সময় ফরিদ খাল ও বন্যার পানি হঠাৎ নিচের থেকে উপরদিকে বাঁধ টপকিয়ে উঠে পড়ে। এতে প্রজেক্টটি ডুবে গিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে যায়। সেই সময় প্রজেক্টের দেশীয় মাগুর মাছগুলো পানির স্রোতে ভেসে যাওয়ায় লোকসান গুণতে হয়। মাছটির প্রজেক্টে একটি বোট রয়েছে, যেটি দিয়ে মাছের খাদ্য দেওয়া হয়। মাছের প্রজেক্টের দুদিকে রাবার গাছ। উঁচু পাহাড় থেকে ৪০-৪৫ ফুট নিচে লেকের সদৃশ্যে এ মাছের প্রজেক্টটি দেখতে অসংখ্য মানুষ আসেন।

জানা যায়, দীর্ঘ ৫ বছরের মধ্য একদিনের জন্যও সরকারি কোনো মৎস্য কর্মকর্তার সরেজমিন আসা হয়নি প্রজেক্টিতে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করলে এটি হবে রাউজানের অন্যতম মাছ উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠান।

মন্তব্য