kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

পাহাড়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘চাঙমা সাহিত্য বাহ্’

অন্ধকারে আলো

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)   

৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্ধকারে আলো

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘চাঙমা সাহিত্য বাহ্’। দীর্ঘদিন যাবত সংগঠনের সদস্যরা বিনা বেতনে চাকমা বর্ণমালা শিক্ষা দেওয়ার কাজ করে আসছেন। এবার সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের চাকমা ভাষার বই পড়ানোর জন্য। নিয়োগকৃত শিক্ষকরা বিনা বেতনে পাঠদান দেবেন। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

সম্প্রতি দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে চাকমা মাতৃভাষার বর্ণমালা শিক্ষার ‘সাঙু’ নামের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের চাকমা বর্ণমালা শিক্ষার জন্য গাইড হিসেবে কাজ করবে।

শিক্ষক নিয়োগ এবং মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য শতরূপা চাকমা। প্রধান অতিথি বলেন, ‘নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করতে সরকার বিদ্যালয়ে মাতৃভাষার বই সরবরাহ করলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাতৃভাষার বর্ণমালার ধারণা না থাকায় শিক্ষার্থীদের তাঁরা শিক্ষা দিতে পারছেন না। এ কারণে শিক্ষক এবং আগ্রহীদের বিনা মূল্যে চাঙমা মাতৃভাষায় বর্ণমালা শিক্ষা দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করে চাঙমা সাহিত্য বাহ্। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পাঠদানের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে অন্ধকারে আলোর মশাল জ্বালিয়ে পথ দেখানোর কাজটি করল চাঙমা সাহিত্য বাহ্। এ ছাড়া নিজস্ব বর্ণমালা শিক্ষার জন্য আলো ছড়াবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইনজেব চাকমার লেখা সাঙু বইটিও।’

ইনজেব চাকমা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসহ চাকমা বর্ণমালা শিক্ষায় আগ্রহী অভিভাবক এবং যুবক-যুবতীদের নিজস্ব বর্ণমালা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কতৃক শিক্ষার্থীদেরকে চাকমা ভাষার বই সরবরাহ করা হয়। কিন্তু শিক্ষকদের চাকমা ভাষার বর্ণমালার ধারণা না থাকায় সংকট সৃষ্টি হয়। তা থেকে উত্তরণের জন্য চাকমা অধ্যুষিত এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিনা বেতনে পাঠদানের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জেলার দীঘিনালা উপজেলায় ৯৭টি বিদ্যালয়ে, মহালছড়ি উপজেলায় ২২টি বিদ্যালয়ে এবং পানছড়ি উপজেলায় ৫টি বিদ্যালয়ে। তিন উপজেলায় ১২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগকৃত শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে কর্মরত সরকারি শিক্ষকদের সাথে সমন্বয়পূর্বক সপ্তাহে একদিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাকমা ভাষার ‘ম বই’ (আমার বই) পাঠদান দেবেন।

নিজস্ব চাকমা ভাষার বর্ণমালায় শিক্ষকদের ধারণা না থাকায় পাঠদানে সংকট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দীঘিনালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিনহাজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কর্তৃক নিজস্ব বর্ণমালা শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিনা বেতনে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি খুব ভালো উদ্যোগ। তাদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই, তবে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মান ঠিক রাখতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাঠদান শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অনুমতি নিতে হবে।’

মন্তব্য