kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

নারী এমপির মনোনয়ন নিয়ে জল্পনাকল্পনা

১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নারী এমপির মনোনয়ন নিয়ে জল্পনাকল্পনা

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম থেকে কারা পাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। দশম সংসদে চট্টগ্রাম পেয়েছিল তিন নারী এমপি। এর আগের সংসদে ছিলেন দুজন। চট্টগ্রাম থেকে এবার এক ডজনের বেশি নারীনেত্রী দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে জোর তদবির চালাচ্ছেন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন : নূপুর দেব, চট্টগ্রাম

একাদশ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে বন্দর নগর চট্টগ্রাম থেকে কারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হচ্ছেন?-এ নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে।

দশম জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম পেয়েছিল তিনজন নারী সংসদ সদস্য। এর আগের সংসদে ছিলেন দুজন নারী। এসব সাবেক নারী সংসদ সদস্যের পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগর ও জেলা থেকে এবার এক ডজনের বেশি নারী বিভিন্ন সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে জোর লবিং করছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী নারীদের প্রায় সবাই এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার-অনুসারীদেরও অনেকে ঢাকায় রয়েছেন। সেখানে অবস্থান করে দলীয় নেতাদের পাশপাশি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন সংসদ সদস্য হতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের মতো এতো অধিকসংখ্যক নারী আগে কখনো সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে এতো তৎপর ছিলেন না। সাবেক নারী সংসদ সদস্যরা নিজেদের এলাকায় উন্নয়ন ও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সফলতা তুলে ধরছেন কেন্দ্রের কাছে। বসে নেই নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও। তাঁরাও নিজেদের কর্মকাণ্ড কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অবহিত করছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে কারা দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে

জল্পনাকল্পনা চলছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অধিকাংশই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এখানে আলোচনা হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের মতো চমক আসতে পারে নারী আসনগুলোতে। কেউ বলছেন, সাবেক এমপিদের মধ্যে আবার কেউ বলছেন তারুণ্যনির্ভর হবে এবারের নারী সংরক্ষিত সংসদ সদস্য। আবার অনেকের মতে, নতুন-পুরনোতেই হতে পারেন নারী এমপি। চট্টগ্রাম থেকে এবার কতজন স্থান পাচ্ছেন জাতীয় সংসদে তা নিয়ে আলোচনার কমতি নেই।

দশম সংসদে সংরক্ষিত আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে তিনজন নারী সংসদ সদস্য হন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান ও সাবিহা নাহার বেগম এবং জাতীয় পার্টি থেকে বেগম মাহজাবীন মোরশেদ সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য হন।

নবম সংসদে বেগম চেমন আরা তৈয়ব ও হাসিনা মান্নান আওয়ামী লীগ থেকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হয়েছিলেন।

সাবেক এসব নারী সংসদ সদস্যের পাশাপাশি আরও প্রায় ডজনখানেক নারী এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী। এখন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বেগম চেমন আরা তৈয়ব, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান, সাবিহা নাহার বেগম ও হাসিনা মান্নান, আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও হ্যাটট্রিক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী হাসিনা মহিউদ্দিন, ফটিকছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জোবাইরা নার্গিস খান, করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহেনা কবীর রানু, সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী।

এছাড়া আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন, ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশার আরও কয়েকজন নারীর নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ঢাকায় অবস্থানরত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম চেমন আরা তৈয়ব গত সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নবম সংসদে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার পর পাঁচ বছরে আমার নির্বাচনী এলাকায় (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া-চন্দনাইশ) অনেক উন্নয়ন কাজ করেছি।

সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করে আসছি।

গত সংসদে আমি এমপি না থাকলেও এলাকাবাসীর পাশে ছিলাম। দক্ষিণ চট্টগ্রামে আওয়ামী মহিলা লীগ এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। আমি মনোনয়নপত্র বিতরণের প্রথমদিনই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলাম। নেত্রী ও দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে বিজয়ী করেছি। আশা করছি দল থেকে মনোনয়ন পাব।’

সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী বলেন, ‘জঙ্গিবাদমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ও উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে যাচ্ছেন। আমি একজন তাঁর কর্মী হিসেবে চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন মাদরাসায়

মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচার চালানোর পাশাপাশি এলাকায় জনসচেতনা ও সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি। আমরা সফল হয়েছি। দুঃসময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী।’

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে।

প্রথম দিনেই চট্টগ্রামের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বেশিরভাগই নিজেদের ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

উল্লেখ্য, নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে এবারের সংসদে (একাদশ সংসদ) আওয়ামী লীগ পাবে ৪৩টি আসন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৪টি এবং ঐক্যফ্রন্ট একটি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে দুটি আসন পাবে।

মন্তব্য