kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

এগিয়ে যাক বিএনসিসি

১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এগিয়ে যাক বিএনসিসি

সুজলা সুফলা, শস্য শ্যামলা এই প্রিয় বাংলাদেশে ‘গ্রুমিং ফিউচার লিডার’ স্লোগানে জ্ঞান, শৃঙ্খলা, স্বেচ্ছাসেবী-এই মূলমন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)। ১৯৭৯ সালের ২৩ মার্চ ইউটিসি, ইউওটিসি, জেসিসি ও বিসিসি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বিএনসিসি। ১৯৭৯ সালের ২৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় কর্ণফুলী রেজিমেন্ট। এর রয়েছে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের গৌরবোজ্জ্বল ও সাফল্যমণ্ডিত ইতিহাস। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কালের বিবর্তনে এটি তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে দিন দিন। আমার মতে, এর পিছনে রয়েছে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। রয়েছে ব্যর্থতা, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদুপায় অবলম্বনসহ আরো অনেক কারণ।

প্লাটুন পর্যায় হল একজন ক্যাডেটের ক্যাডেট হয়ে উঠার প্রথম ধাপ। যেখানে একজন ক্যাডেট তাঁর সিনিয়র ক্যাডেট, সামরিক স্টাফ ও বিএনসিসি অফিসারদের সংস্পর্শে এসে অর্জন করেন ক্যাডেটজীবনের বেসিক কিছু স্কিল। কিন্তু বর্তমানে নানা ব্যর্থতা ও অবহেলায় প্লাটুন পর্যায় থেকে যোগ্য নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ক্যাডেট গড়ে উঠছে না! অভিযোগ রয়েছে, ক্যাডেটদের প্রতি সঠিকভাবে নজর দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা। প্রতি ক্লাসে ক্যাডেটদের জন্য নাস্তা বাবদ একটি নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকলেও অনেক প্লাটুনে ক্যাডেটরা তা সুষ্ঠুভাবে পান না। বিভিন্ন প্রোগ্রাম অথবা রেজিমেন্টে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাতায়াত-ব্যয় প্লাটুন ফান্ড থেকে বহন করার কথা চিঠিতে উল্লেখ থাকলেও বিভিন্ন প্লাটুনে তা পাওয়া যায় না। ফান্ডে যথেষ্ট টাকা থাকা সত্ত্বেও ক্যাডেট ও প্লাটুনের কাজে এর সুষম ব্যবহার নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ দেখা যায় না। অনেকে আবার এর যথেচ্ছ ব্যবহারও করে থাকেন।

এদিকে বার্ষিক ক্যাম্প পরিচালনার জন্য যোগ্যতার ভিত্তিতে সিনিয়র ক্যাডেটদের নিয়োগ করা হয়। এই নিয়োগ এখন করা হয় প্রতিষ্ঠান দেখে! যেটি কখনো যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। এক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিদ্যমান। এতে সংগঠন হারাচ্ছে তার দৃঢ়তা, জৌলুস ও ঐতিহ্য। এ ছাড়া পদোন্নতি পেতে প্রতিটি ক্যাডেটকে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। কিন্তু এখন র‌্যাংক চাইলেই পাওয়া যায় হাতের নাগালে! নিজেও র‌্যাংক কিনেই পরা যায়! আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বিএনসিসি, অফিসারদের যোগ্য, সৎ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং সংগঠন হিসেবে হয়ে উঠবে আরো শক্তিশালী-সেটাই আশা করি। ফিরিয়ে আনা হোক ড্রিল, কুচকাওয়াজসহ সব প্রশিক্ষণ। এতে উঠে আসবেন যোগ্য ক্যাডেট। যাঁরা নেতৃত্ব দেবেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ।

জয় বাংলা। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। এগিয়ে যাক প্রাণের সংগঠন বিএনসিসি আরো বহুদূর। অধিষ্ঠিত হোক সাফল্যের চূড়ায়।

 

মারজুক আরেফিন, এক্স-ক্যাডেট, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য