kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

ভোট উৎসবে ঘরের মা-বোনেরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীদের পক্ষে জোরেশোরে চলছে প্রচার-প্রচারণা। গণসংযোগে মুখরিত এলাকার অলিগলি। পোস্টার, ব্যানার আর লিফলেটের ছড়াছড়ি। নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন দলের প্রার্থী, সমর্থক, ভোটারদের চোখেমুখে উল্লাসের যেন শেষ নেই। এদিকে শুধু প্রার্থী হওয়া, ভোট দেওয়ার মধ্যে নারীরা সীমাবদ্ধ নেই। পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ করছেন সমানতালে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও রাস্তা-ঘাট, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে নির্বাচনী এলাকার আনাচে-কানাচে ঘুরছেন, ভোট চাইছেন।

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



ভোট উৎসবে ঘরের মা-বোনেরা

বোয়ালখালীতে গণসংযোগে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি

কাজী আয়েশা ফারজানা, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)

নির্বাচনী উল্লাসের হাওয়া এসে লেগেছে প্রার্থীদের পরিবারের বউ-ঝিদের মাঝে। পুরুষের পাশাপশি প্রার্থীদের  পরিবারের  নারী  সদস্য ও নারী ভোটারদের  মধ্যেও  উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। বোয়ালখালীর বাসিন্দা সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদলের পরিবারের নারীদের মধ্যে নির্বাচনের আমেজের বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তাদের উচ্ছ্বাস এলাকার নারী ভোটারদের অনুপ্রাণিত করেছে।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপির কর্মী সমর্থকদের পাশাপশি গণসংযোগে নারীদের উপস্থিতি রয়েছে ব্যাপক।

বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের পক্ষে ধানের শীষের প্রচারণায় বোয়ালখালীতে তাঁর পরিবারের নারী সদস্যদের গণসংযোগে দেখা না গেলেও বিএনপির উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহেদা আকতার শেফুকে ভোট চাইতে মাঠে দেখা গেছে।

তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মঈন উদ্দিন খান বাদলের পক্ষে তাঁর স্ত্রীর সেলিনা খানের গণসংযোগ চোখে পড়ার মতো।

তিনি নৌকার সমর্থনে বোয়ালখালীর প্রত্যন্ত এলাকায় এলাকায়  উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে সভা, সমাবেশ  মিছিল মিটিংয়ে অংশ নিয়ে এলাকার তৃণমূলের নারীদের সংগঠিত  করেছেন। শুধু দলীয় নয়, পরিবারের বউ, ঝিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারীদের একত্রিত করে  স্বামীর জন্য ভোটের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

চট্টগ্রামের মেয়ে না হয়েও তিনি তাঁর আচার আচরণে ইতোমধ্যেই এলাকার মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। শুধু জনসাধারণ নয় প্রশাসনের কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেছেন। সবার কাছে তিনি এখন ‘এমপি ভাবি’ হিসেবে পরিচিত।

স্বামী মঈন উদ্দিন খান বাদল চট্টগ্রাম-৮ আসনের দুবারের নির্বাচিত সংসদ সদ্য। তিনি ২০০৮ সালের বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। আর জয়ের ধারা ধরে  রাখতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো নৌকার প্রার্থী হয়েছেন তিনি। জয়ের ব্যাপারে এবারও তিনি আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু গতবারের তুলনায়  তিনি শারীরিকভাবে এবার কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই তাঁর স্ত্রী নৌকার সমর্থনে প্রচারণায় মাঠে থেকে জনসাধারণের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত  হয়েছেন।

তিনি এলাকায় এলাকায় ঘুরে নৌকার প্রচারণার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরছেন। মহিলা আওয়ামী লীগের পাশাপশি তৃণমূলের সাধারণ নারীরা তাঁর সাথে প্রচারণায় নেমেছেন। শুধু ভোটের মাঠে নয়, সাংসদ বাদলের পাশে থেকে তিনি বোয়ালখালীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিয়েছেন।

আওয়ামী পরিবারের এ সাংসদপত্নী রাতদিন ভোটের মাঠে নারীবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক ভোটারদের কাছে তুলে ধরে তাঁর স্বামীর জন্য ভোট ভিক্ষা চাইছেন। সে সাথে এলাকায় বাল্যবিবাহ বন্ধ, নারী শিক্ষার প্রসার, ইভটিজিং রোধ ও নারী নির্যাতন বন্ধে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের বিষয়গুলোও  তুলে আনছেন ভোটারের মাঝে।

সদা হাস্যোজ্জ্বল এ নারীর ব্যতিক্রমী প্রচারণায় নারী ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

চাঁদপুরের বাসিন্দা সেলিনা খান। তাঁর বাবা ছিলেন একজন স্বনামধন্য আইনজীবী। পারিবারিক সূত্রে তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। পৈতৃক পরিবারের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিচিতি।

ভালোবেসে বিয়ে করেন জাসদ নেতা মঈন উদ্দিন খান বাদলকে। কিন্তু তিনি বাদলকে জাসদ নেতা হিসেবে মানতে নারাজ।

তাঁর দাবি তিনি প্রেম করেছেন ছাত্রলীগ নেতা বাদলের সাথে। আর বিয়ে করেছেন মুক্তিযোদ্ধা  বাদলকে। তাঁদের সংসারে রয়েছে তিন ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে  কর্মরত, ছোট ছেলেও যুক্তরাষ্ট্রের জেপি মর্গান ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন। মেজ ছেলেও স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী।

একমাত্র মেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে সেলিনা আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও বরাবরের মতো  আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী সেলিনা। তাই তিনি স্বামীর পাশে থেকে নৌকার জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত।

সেলিনা খান বলেন, ‘এখনই সুযোগ মেয়েদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার। বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নারীদের দিয়েছেন ক্ষমতায় এলে এ সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানো হবে।’ তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।

সীতাকুণ্ডে ঘরে ঘরে স্বামীর জন্য ভোট প্রার্থনা

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

মাত্র কয়েকমাস আগেও নীরবে নিভৃতে নিজ ঘরেই থাকতেন ইসমত আরা বেগম। কিন্তু এখন তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড সংসদীয় আসনের আনাচে-কানাচে। লক্ষ্য একটাই ভোটারদের মন জয় করে তাঁদেরকে নৌকায় ভোট দিতে উৎসাহিত করা। গৃহবধূ ইসমত আরা বেগম প্রকাশ ইসমত আরা দিদার সীতাকুণ্ডে সংসদ সদস্য প্রার্থী দিদারুল আলমের স্ত্রী।

একজন রাজনীতিবিদ-এমপির স্ত্রী হলেও গত ৫ বছর কোথাও দেখা যায়নি তাঁকে। কিন্তু আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে স্বামী দিদারুল আলম রাতদিন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। সহধর্মিণী ইসমত আরা ঘরে বসে থাকেন কী করে? তাইতো স্বামীর পাশে দাঁড়াতে নেমে পড়েছেন রাজপথে। ঘুরছেন সীতাকুণ্ডের সর্বত্র। সবার কাছে একটাই আর্জি, ‘নৌকায় ভোট দিন, দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিন।’

এদিকে ইসমত আরা বেগমের গৃহবধূ থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন এলাকার মানুষ। তিনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে ইসমত আরা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সকল কর্মকাণ্ডে নারী-পুরুষ সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সরকারের আমলে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা বিস্ময়কর। সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও আমার স্বামী দিদারুল আলমকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ নির্বাচন অনেক কঠিন হবে বলে মনে করি। তাই একজন নারী হলেও আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি। তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে নারী নেত্রীদের নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রচার চালাচ্ছি।’

তিনি ইতোমধ্যে সলিমপুর, ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি, কুমিরা, বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুর, বারৈয়াঢালা, সৈয়দপুর ও পৌর এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন। এসব এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বলেন, ‘বিশেষত নারী ভোটারদেরকে এ দেশের উন্নয়নে সরকারের যে অবদান তা বুঝিয়েছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কর্মক্ষেত্রে পুরুষের মতো নারীদেরও যে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, নিরাপত্তা দিয়েছে তা বলেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এলাকার সব শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। নির্বাচনের এখনো কয়েকদিন বাকি। এ সময়টাও কাজে লাগাতে চাই। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি চাইলে অবশ্যই নৌকায় ভোট দিতে হবে।’

এদিকে ইসমত আরা বেগমের সঙ্গে প্রতিদিন প্রচারণায় নামছেন উপজেলার নারীনেত্রীরাও। যেসব নারীনেত্রী তাঁর সাথে থাকছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার স্ত্রী ও সীতাকুণ্ড উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সুরাইয়া বাকের, উপজেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক জয়নাব বিবি জলি, দেলোয়ারা বেগম প্রমুখ। গণসংযোগকালে তাঁরা সবাই প্রচারণা চালিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে নৌকায় ভোট দিতে অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক জয়নাব বিবি জলি বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। তাই যেকোনো মূল্যে নৌকাকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’

‘এ জন্য আমরা যেমন ঘরে বসে থাকি না, আওয়ামী লীগ প্রার্থী এমপি দিদারুল আলমের স্ত্রী ইসমত আরা বেগমও তেমনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি। তিনি আমাদের নিয়ে প্রতিদিন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র ছুটে

বেড়াচ্ছেন। নারী ভোটারদের মন জয় করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তিনি। তাঁকে

দেখে আমরাও উৎসাহিত হচ্ছি। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ করছি। আমরা মনে করছি, এবার আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার বইছে।

তাই আগামী ৩০ ডিসেম্বর শেষ হাসি আমরাই হাসব বলে আশাবাদী।’-যোগ করেন জয়নাব বিবি জলি

‘বান্দরবানের রাজারা কখনো উন্নয়ন করেননি’

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

বান্দরবান ৩০০ নম্বর সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট মনোনীত প্রার্থী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং-এর জন্য লামায় নির্বাচনী সমাবেশ ও গণসংযোগে ভোট চাইলেন তাঁর সহধর্মিণী মেহ্লা প্রু।

তিনি লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বাইশপাড়ি, বড়পাড়া, সাপমারা ঝিরি, লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা এবং পৌরসভার চাম্পাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী জনসভা ও গণসংযোগ করে স্বামী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির জন্য ভোট প্রার্থনা করেন।

মেহ্লা প্রু বলেন, ‘বান্দরবানের রাজা-বাদশারা অতীতেও বান্দরবানের উন্নয়ন করেননি, ভবিষ্যতেও করবেন না। বান্দরবান  আসনের বিএনপির প্রার্থী দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁর পিতাও মন্ত্রী ছিলেন। তাঁরা দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করেননি। এলাকার লোক শিক্ষিত হয়ে যাবে, সে জন্য তাঁরা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেননি।’

‘বীর বাহাদুর বান্দরবানের মানুষের ভালোবাসায় পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পুরো

বান্দরবানে শিক্ষা, যোগাযোগ এবং ভৌত অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। গত ২৫ বছর বান্দরবানে শান্তি, সম্প্রীতি বজায় রয়েছে এবং ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।’-যোগ করেন মেহ্লা প্রু।

সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও মেহ্লা প্রু তাঁর স্বামী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপিকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘নৌকা উন্নয়ন আর গণতন্ত্রের প্রতীক।’

মন্তব্য