kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সুবর্ণচর গণধর্ষণ

তিন আসামি গ্রেপ্তার, দুজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০২:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন আসামি গ্রেপ্তার, দুজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছয় সন্তানের জননী ধর্ষণের ঘটনায় চরজব্বার থানা-পুলিশ পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার রামদয়াল বাজার থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রুবেল (২২), আরমান (২৪) ও রায়হানকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে। 

এদিকে সোমবার গ্রেপ্তার প্রধান আসামি ইউছুফ মাঝি ও সহযোগী আবুল বাশারকে আদালতে পাঠিয়ে চরজব্বার থানা-পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে। আদালতে আজ বুধবার রিমান্ড শুনানি করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন নির্যাতিতা নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা মঙ্গলবার সকালে সম্পন্ন হয়েছে।

চরজব্বার থানার ওসি শাহেদ উদ্দিন জানান, গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে চরজব্বার থানা-পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সোমবার দুপুরে প্রধান আসামি ইউছুফ মাঝি ও তার সহযোগী আবুল বাশারকে আটক করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোবাইল ট্র্যাকিং করে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রুবেল, আরমান ও রায়হানকে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার রামদয়াল বাজার থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চরজব্বার থানায় নিয়ে আসা হয়। তাদের আজ বুধবার আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে। 

মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে চরজব্বার থানার ওসি (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিলকে। 

ইব্রাহিম খলিল জানান, সোমবার গ্রেপ্তার ইউছুফ মাঝি ও আবুল বাশারের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে গতকাল দুপুরে নোয়াখালীর ২ নম্বর আমলি আদালতে আবেদন করা হয়। পরে আদালতের বিচারক মাসফিকুল হক বুধবার রিমান্ডের শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। 

তিনি আরো জানান, ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা গতকাল দুপুরে সম্পন্ন হয়েছে। 

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডাক্তার মহিউদ্দিন আজিম জানান, হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শাহনাজ আকতার লিপির নেতৃত্বে নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। তাঁরা এ বিষয়ে আগামী দুই দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন বলে তিনি জানান। 

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ জানান, অভিযুক্তদের ধরতে চরজব্বার থানা-পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকেও দায়িত্ব দিয়েছেন। কোনো অপরাধী পার পাবে না। 

তিনি বলেন, এটি ভোটসংক্রান্ত, না পারিবারিক, না অন্য কিছু তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ সুবর্ণচর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার জের ধরে গণধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। অভিযোগে জানা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যায় ভিকটিম ছয় সন্তানের জননী ও তাঁর স্বামী মোটরসাইকেলযোগে চরবাগ্যা গ্রামে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে তালা প্রতীকের প্রার্থী এবং নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বাহারের সমর্থক ইউছুফ মাঝির নেতৃত্বে ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত এ ঘটনা ঘটায়। 

এ ঘটনায় নির্যাতিতার স্বামী আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো চারজনকেসহ মোট ১২ জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। 

দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি
সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পৃথক বিবৃতি দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।    

আসক বলেছে, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিজের পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট প্রদানের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার। আসক দ্রুত ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে অভিযোগটি খতিয়ে দেখার এবং সত্যতা সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে।’

বিবৃতিতে মহিলা পরিষদ বলেছে, ‘গত ১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ায় জেলার সুবর্ণচরের চরজব্বর থানাধীন চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে নারীকে গণধর্ষণ ও মারধর করে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। ৯ জানুয়ারি এক গার্মেন্ট কর্মীকে গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। গত ৩১ জানুয়ারি একই উপজেলার পূর্ব চরবাটি ইউনিয়নে স্কুল শিক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হয়। একই এলাকায় ক্রমাগতভাবে বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নারীর প্রতি এই ধরনের সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।’ 

মন্তব্য