kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘সিএসসিআর’

শনাক্ত অ্যাপেন্ডিসাইটিস বেরিয়ে এলো আস্ত পেরেক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২ এপ্রিল, ২০১৯ ০২:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শনাক্ত অ্যাপেন্ডিসাইটিস বেরিয়ে এলো আস্ত পেরেক!

চট্টগ্রাম নগরীর বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘সিএসসিআরে’ ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক রোগীকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এক সার্জারি বিশেষজ্ঞ। ওই রোগীকে অপারেশন থিয়েটারেও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অপারেশনের আগে টাকা না দেওয়ায় চিকিত্সক অপারেশন করেননি। 

পরে একই হাসপাতালে অন্য এক চিকিত্সকের (ডা. আহসানুল আবেদিন) পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ল—এটি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নয়, রোগীর পেটে একটি পেরেক আছে। গতকাল সোমবার সকালে মো. শহিদুল ইসলাম (৩৩) নামের ওই রোগীর মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে আসে আস্ত একটি পেরেক! এ নিয়ে গতকাল তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গত শনিবার দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে সিএসসিআরে ভর্তি হওয়া ওই রোগী গতকাল বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

নগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে বেসরকারি সাউদার্ন মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সানাউল্লাহ শেলী ওই রোগীর অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের জন্য কেন ওটিতে নিয়ে গেলেন, আবার অগ্রিম টাকা না দেওয়ায় সেখান থেকে ফেরত পাঠালেন—এসব বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। 

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডা. সানাউল্লাহ শেলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি রোগীকে তো অপারেশন করার জন্য ওটিতে আনিনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট কথা। রোগী আমার কাছে আসছিল। অ্যাপেন্ডিসাইটিস ব্যথা বলেছিল। কিন্তু আমাকে দিয়ে অপারেশন করাবে না, আরো কম খরচে একজন জুনিয়র (চিকিৎসক) কাউকে দিয়ে অপারেশন করাবে বলেছিল। রোগী তো আমাকে বলেনি তার পেটে পেরেকের কথা। পায়খানার রাস্তা দিয়ে পেরেক কোথা থেকে আসল?’

জানা গেছে, নগরীর পাঁচতারা হোটেল রেডিসন ব্লু-ভিউতে কর্মরত শহিদুল ইসলাম গত শনিবার দুপুরে পেটের ব্যথা নিয়ে সিএসসিআর হাসপাতালে যান। হাসপাতালের পরিচালক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. সানাউল্লাহ শেলী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শহিদুলের অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করেন এবং অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। সে লক্ষ্যে শহিদুলকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় টাকা পরিশোধ না করায় রোগীকে অপারেশন থিয়েটার থেকে ফেরত পাঠান ডা. সানাউল্লাহ শেলী।

এরপর রোগী একই হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আহসানুল আবেদীনের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রমাণ মেলে, শহিদুল ইসলামের পেটে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নয়, তাঁর পেটে রয়েছে আস্ত একটি পেরেক! বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসসিআরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. সালাউদ্দিন মাহমুদ গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই রোগী আমাদের জরুরি বিভাগ দিয়ে সরাসরি ভর্তি হননি। সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. সানাউল্লাহ শেলীকে দেখানোর পর তাঁর তত্ত্বাবধানে ভর্তি হন। এটা ওনার রোগী। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পেটে পেরেক থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। আজকে সকালে (গতকাল) রোগীর পেট থেকে পায়খানার রাস্তা দিয়ে এক ইঞ্চি লম্বা একটি পেরেক বেরিয়ে এসেছে। বিকেলে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল থেকে রোগী চলে গেছেন।’ 

এদিকে শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গত শনিবার দুপুরে পেটে ব্যথা নিয়ে তিনি সিএসসিআর হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ সানাউল্লাহ শেলী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের সিদ্ধান্ত দেন। রবিবার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলে নার্সরা জানান, বিল অগ্রিম পরিশোধ ছাড়া ডাক্তার শেলী অপারেশন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য