kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সীতাকুণ্ডে পাউবোর জায়গা থেকে প্রকাশ্যে শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি    

২ এপ্রিল, ২০১৯ ০২:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সীতাকুণ্ডে পাউবোর জায়গা থেকে প্রকাশ্যে শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড সাগর উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা থেকে নির্বিচারে মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে উপকূল রক্ষায় বেড়িবাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাউবোর কর্মকর্তারা। আর এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নড়ালিয়া মৌজায় সাগর উপকূলীয় বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে এক সপ্তাহ ধরে নির্বিচারে মাটি কেটে রাতের আঁধারে তা বিক্রি করছে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে উপকূলবাসীর জানমাল রক্ষায় নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, চক্রটি নড়ালিয়া মৌজায় উপকূলীয় বেড়িবাঁধের মাত্র কয়েক ফুট দূরে মাটি কাটতে কাটতে বিশাল পুকুর তৈরি করে ফেলেছে। এর ফলে আসছে বর্ষায় সাগরের ঢেউয়ে বাঁধ ভেঙে ওই পুকুরে পড়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আরো দেখা যায়, এর ২০-২৫ ফুট উত্তরে খাল খননের নামে মাটি কেটে বিক্রি করছে তারা। এলাকাবাসীর দাবি, সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গার পাশাপাশি রয়েছে উপকূলীয় বন বিভাগের জায়গাও। 

স্থানীয়রা জানায়, এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় ইকরাম মেম্বারের নেতৃত্বে একটি চক্র প্রতি রাতে শত শত ট্রাক মাটি কেটে বিক্রি করছে। তবে ইকরাম মেম্বার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কে বা কারা এসব মাটি কাটছে আমি জানি না। এসবের সঙ্গে আমি জড়িত না। কেউ শক্রতা করে আমার নাম বলছে। যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

বাড়বকুণ্ডের নড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল জানান, রাত ১০-১১টার পর সেখানে অর্ধশতাধিক ড্রাম ট্রাক এসে হাজির হয়। এরপর মাটি কেটে ট্রাকগুলো ভরে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা যায়। প্রতি ট্রাক মাটি ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এভাবে প্রতিদিন ভোর রাত পর্যন্ত কয়েক শ ট্রাক মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।

একই এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক মো. নুরুন্নবী বলেন, যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে তাতে বেড়িবাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। একইভাবে লোক দেখানো খাল খননের নামেও তারা মাটি বিক্রির ব্যবসা করছে। কিন্তু যারা এসব করছে তারা প্রভাবশালী। সব দপ্তরকে ম্যানেজ করে তারা এসব কাজে নেমেছে। ফলে তারা বেপরোয়া।

সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, ঘটনাস্থলের কিছু দূরে মাটি কাটার একটি এক্সকাভেটর রেখেছে চক্রের সদস্যরা। এলাকাবাসী জানায়, রাতে এটি বেড়িবাঁধের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর যোগ দেয় আরো কয়েকটি এস্ককাভেটর। তারপর চলে নির্বিচারে মাটি কাটার উত্সব। কিন্তু রহস্যজনক কারণে নীরব সবাই। 

জানতে চাইলে পাউবো চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার তারেক বলেন, বাড়বকুণ্ডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে কেউ মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কথা তাঁর জানা ছিল না। জানার পর ঘটনাস্থলে কর্মকর্তা পাঠিয়ে পাউবোর জায়গা থেকে মাটি কাটার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার থানায় মামলা করা হবে।

এদিকে চক্রটি শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে মাটি বিক্রি করেই ক্ষান্ত হয়নি। খাল খননের নামেও বন বিভাগের জায়গা থেকে মাটি কাটছে।

সীতাকুণ্ড উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমার বিট অফিসারদের পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছি। বেড়িবাঁধের নিচে যেখানে মাটি কাটা হচ্ছে সেটি পানি উন্নয়ন বোডের জায়গা। আর যেখানে খালের নামে মাটি কাটা হচ্ছে সেখানে বন বিভাগের জায়গা থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। ম্যাপ নিয়ে জায়গাটি মেপে দেখা হবে। আমাদের জায়গায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা বন বিভাগ অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা