kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

আওয়ামী লীগের রাজনীতি

চট্টগ্রামে দুই উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী জেতায় অভিযোগ যাচ্ছে কেন্দ্রে

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে দুই উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী জেতায় অভিযোগ যাচ্ছে কেন্দ্রে

ক্ষমতাসীন দলের ‘কট্টরবিরোধী’ হিসেবে পরিচিত, চট্টগ্রামে এলডিপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী সেই বাবুলই লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে হারানোর ঘটনা নিয়ে চট্টগ্রামে বেশ আলোচনা চলছে। 

আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও দলের লোহাগাড়া উপজেলা সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরীর পরাজয়ের জন্য দলের স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে দায়ী করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাবুলের পক্ষে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে তাঁরা ভূমিকা রাখেন। 

এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভরাডুবির কারণ জানতে চেয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। কেন্দ্রে দলীয় সংসদ সদস্যসহ জেলা ও উপজেলার কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত রবিবার চতুর্থ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পাশাপাশি এর আগে উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়ও বিদ্রোহী প্রার্থীর বিজয়ের ঘটনায় কেন্দ্রে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ যাচ্ছে বলে নেতারা জানান। দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরি পরাজিত হন। অভিযোগ উঠেছে, ফটিকছড়িতে দলীয় প্রার্থীকে হারাতে এমপি, জেলা ও উপজেলা শীর্ষপর্যায়ের কয়েকজন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী এইচ এম আবু তৈয়বের পক্ষে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন।  

উল্লেখ্য, গত রবিবার লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কালের কণ্ঠে ‘নৌকা ডোবাতে চান এমপি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।  

লোহাগাড়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্থানীয় এমপিসহ দলের কয়েকজন নেতার কারণে আমাদের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। আজকে ফোন করে কেন্দ্র থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। কার কার নেতিবাচক ভূমিকার কারণে আমাদের প্রার্থী পরাজিত হয়েছে তা আমরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করব। একসময়ের জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় গত দুটি সংসদ নির্বাচনে আমাদের দলীয় এমপি বিজয়ী হয়েছেন। তাহলে উপজেলা নির্বাচনে কেন নৌকা প্রার্থীর পরাজয় হবে। এটা দলের জন্য সুখবর নয়।’ 

লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দলীয় এমপির নেতিবাচক ভূমিকার কারণে আমি বিজয়ী হতে পারিনি। দলের নির্বাচন মনিটরিং সেল থেকে আমার পরাজয়ের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছে। আমি মৌখিকভাবে জানিয়েছি, আমার নির্বাচনে যাঁরা কাঁজ করেছেন তাঁদের প্রায় সবাইকে ডেকে নিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। দল ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা সরাসরি আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাবুলের পক্ষে কাজ করেছেন। আজকে (গতকাল) বিভিন্ন এলাকায় আমার জন্য যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের কয়েকজনের ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি।’ 

উল্লেখ্য, গত রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র, আনারস) লোহাগাড়ায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ৩৪ হাজার ৩৩৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী খোরশেদ আলম চৌধুরী পান ২৩ হাজার ৫৬০ ভোট। 

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এলডিপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন বাবুল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এর আগে লোহাগাড়ায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ও দলের (এলডিপি) নানা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে তাঁকে দেখা যায়। আগে তিনি জাতীয় পার্টি ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাবুল এমপির হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও কোনো পদে নেই। তাঁর এই যোগদান মেনে নিতে পারেনি তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী। 

এদিকে দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে উত্তর চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতেই চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী, নাজিম উদ্দিন মুহুরি দলের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আবু তৈয়বের কাছে পরাজিত হন। 

নাজিম উদ্দিন মুহুরি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফটিকছড়িতে নৌকাকে কিভাবে হারানো হয়েছে তা বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে শুনেছি। আমাকে পরাজিত করতে এমপিসহ আমাদের দলের জেলা ও উপজেলার কয়েকজন নেতা বৈঠক করেছিল। ১৬টি ইউনিয়নের ভোটে নৌকা এগিয়ে ছিল। অন্য চারটি ইউনিয়নের অস্বাভাবিক ভোটে নৌকাকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। আমি জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলাপ করে আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে তাঁদের এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা