kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

মালয়েশিয়া গিয়ে রোহিঙ্গা যুবকের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে

পাসপোর্ট করতে এসে রোহিঙ্গা তরুণীসহ ভুয়া মা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাসপোর্ট করতে এসে রোহিঙ্গা তরুণীসহ ভুয়া মা আটক

কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট তৈরি করতে এসে ধরা পড়েছে এক রোহিঙ্গা তরুণী ও তার ভুয়া বাংলাদেশি মা। মালয়েশিয়া গিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য ওই রোহিঙ্গা তরুণী কক্সবাজারে পাসপোর্ট তৈরি করতে এসে ধরা পড়ে। সেই সাথে বাংলাদেশি এক নারীও ধরা পড়েছে। ধরা পড়া ওই নারী রোহিঙ্গা তরুণীর ভুয়া মা পরিচয়ে পাসপোর্ট অফিসে এসেছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার পাসপোর্ট কার্যালয়ে জাল কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট করতে আসলে আটক হন তারা। বিকালে এই দুই নারীকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল আহমেদ। এ সময় বেশি কিছু ভুয়া কাগজপত্রও জব্দ করা হয়েছে। 

আটক রোহিঙ্গা তরুণী ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল আহমেদকে জানিয়েছেন, গত ৯ মাস আগে তিনি (রোহিঙ্গা তরুণী) মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে টেকনাফের একটি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমারে এই তরুণীর নাম ছিল মিনারা। পিতার নাম হাছিম। টেকনাফে আশ্রয় নিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মালয়েশিয়া প্রবাসী (মিয়ানমারের নাগরিক) এক লোকের সাথে এই তরুণীর সর্ম্পক হয়।

আটক রোহিঙ্গা তরুণীকে ওই প্রবাসী বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং কৌশলে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এর অংশ হিসেবে ওই প্রবাসীর এক বন্ধু টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের বাসিন্দাও মালশিয়াতে থাকেন। টেকনাফের ওই বাসিন্দার জায়গা রয়েছে সাবরাং ইউনিয়নের পুরান পাড়া এলাকায়। তার জায়গায় খুরশিদা বেগম নামে এক বাংলাদেশি নারী কেয়ারটেকার হিসেবে অবস্থান করেন। এই খুরশিদার একটি মেয়েও রয়েছে। যার নাম হালিমা সাদিয়া।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল বলেন, টেকনাফের বাসিন্দা মালয়েশিয়ায় যিনি থাকেন তিনি কেয়ারটেকার খুরশিদার সাথে যোগাযোগ করে রোহিঙ্গা তরুণী মিনারাকে যেকোনো উপায়ে পাসপোর্ট করে দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে চাপ দেন। না হয় জায়গা থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার হুমকিও দেয়। জায়গার মালিকের কথা মতো খুরশিদা নিজের মেয়ের হুবুহু নাম (হালিমা সাদিয়া) দিয়ে রোহিঙ্গা এই তরুণীর জন্য ভুয়া চেয়ারম্যান সনদ ও জম্ম নিবন্ধন তৈরি করেন। এসব ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে রোহিঙ্গা তরুণীকে নিজের মেয়ে সাজিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে পাসপোর্ট করতে আনেন। এ সময় পাসপোর্ট কর্মকর্তার সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে তরুণীটি নিজেকে মিয়ানমারের নাগরিক বলেন জানান।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল আহমেদ বলেন, আটকের পর এই দুইজন থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। তারা সব স্বীকার করেছেন। তথ্য গোপন করে পাসপোর্টের আবেদন করায় এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরির দায়ে এই দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয়মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য