kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত মদ পানে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

সীতাকুণ্ডে (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ২১:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত মদ পানে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত মদ্যপানে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থার মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন এক যুবলীগ নেতা। আজ বুধবার নিহত ব্যবসায়ীর লাশ পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ রবি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টদের পরিবার। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকালে সীতাকুণ্ড পৌরসদরের ফকিরহাট গরুর বাজারের ইজারা হয়। এক কোটি ৩০ লাখ টাকায় বাজারটির ইজারা পান সীতাকুণ্ড উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন রবি ও তার পার্টনার মো. নাছির উদ্দিনসহ কয়েকজন। ইজারা পেয়ে তারা পৌর সদরের সৌদিয়া আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়িক মিটিংয়ে বসেন। কিন্তু সোমবার পুরোদিনেও তারা সেখান থেকে কোথাও যাননি। সোমবার বিকাল থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে রবি ও নাছির বের হয়ে বাড়িতে যান।

নাছিরের পারিবারিক সূত্র জানায়, বাড়িতে যাবার পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে ছটপট করতে থাকেন। এক পর্যায়ে দ্রুত সীতাকুণ্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে নিয়ে যাবার পথেই তার মৃত্যু হয়।

নাছিরের ছোট ভাই জাকির হোসেন বলেন, আসলে কিভাবে যে কি হলো আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। তিনি বাইরে মদ্যপান করেছেন বলে শুনেছি। পরে ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেবার পথে মারা যান। মৃত্যুর পর তার পুরো শরীর কালো রং ধারণ করেছে। ফলে ঐ মদে বিষ ছিলো বলে ধারণা করছেন সবাই।

এদিকে একইভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন যুবলীগ নেতা রবিউল হোসেন রবিও। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শরীরে প্রবল বিষক্রিয়া লক্ষ করা যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ৪-৫ লিটার বিষাক্ত পানীয় বের করার পরও তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে বুধবার দুপুরে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানেও তার অবস্থা ক্রমশ অবনতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ সৌদিয়া হোটেলের ম্যানেজার শরীয়ত উল্লাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, যুবলীগ নেতা রবিউল হোসেন রবি ও ব্যবসায়ী নাছিরসহ কয়েকজন সৌদিয়া আবাসিক হোটেলে বসে মদ্যপান করছিলো। পরে বাড়ি গিয়ে রবি ও নাছির অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে নাছির মারা যান। রবির অবস্থাও সংকটাপন্ন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগিরা এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। কিন্তু বিভিন্নভাবে অনেকে মনে করছেন কেউ পরিকল্পিতভাবেও এ ঘটনা ঘটাতে পারে। আসলে কি হয়েছে তা আমরা তদন্ত করছি। সৌদিয়া হোটেলের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার সময় হোটেলে আরো কেউ ছিলো কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট শেষে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। তাহলে তদন্ত করতে সুবিধা হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা