kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

রেকর্ড সংখ্যক সাঁতারুর ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২১ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেকর্ড সংখ্যক সাঁতারুর ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি

এই প্রথমবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সাঁতারু ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি দিয়ে সেন্ট মার্টিনস পৌঁছলেন। বৃহস্পতিবার ষড়জ এডভেঞ্চার ও এক্সট্রিম বাংলার আয়োজনে ‘১৪তম ফরচুন বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতায়’ অংশ নিয়েছেন ৩৪ জলমানব। তারা সকাল ৯ টায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে সাঁতার শুরু করেন। তিনজন ছাড়া বাকীরা সবাই নিরাপদে সেন্ট মার্টিনস পৌঁছেন।

এবারের সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ, ২ জন নারী রয়েছে। এ ছাড়া ওই দলে ৭০ বছরের এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধও রয়েছে। তার নাম মোহাম্মদ শোয়াইব। তিনি প্রথমবার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। সাঁতারু দলের দুই নারী সদস্য মিতু আকতার ও সোহাগী আকতার। তার মধ্যে মিতু আকতার গতবছর প্রথমবার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন। তিনি বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি নারী। এ ছাড়া অপর নারী ১৪ বছর বয়সী সোহাগী আকতার দেশের সর্বকনিষ্ঠা বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নারী।

দ্বিতীয়বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নারী মিতু আকতার বলেন, ‘দ্বিতীয় বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে পেরে ভালো লেগেছে। আমি ৪ ঘণ্টা ৫ মিনিট সময়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিই। তবে গত বছর প্রথমবার অংশ নিয়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে আমার সময় লেগেছিল ৪ ঘণ্টা ৩২ মিনিট।’

ষড়জ এডভেঞ্চার’র প্রধান নির্বাহী লিপটন সরকার জানান, ১৪তম আসরে অংশ নেওয়া প্রতিযোগিদের মধ্যে বগুড়ার সাজ্জাদ হোসেন সবচেয়ে কমচেয়ে কম সময় নিয়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন। বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে তার সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট। এটি বাংলা চ্যানেল পাড়িতে দ্রুততম সময়ের রেকর্ড।

এ ছাড়া বগুড়া আরেক সন্তান ও বগুড়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নয়ন ৩ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট সময় নিয়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন। ডাকসু নবনির্বাচিত সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট সময় নিয়ে সাঁতরে সেন্ট মার্টিনস পৌঁছেন। এর আগে দ্রুততম সময়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ির রেকর্ডটি ছিল তার। গতবছর তিনি ৩ ঘণ্টা ৮ মিনিট সময় নিয়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন। তবে এবারের প্রথম স্থান লাভ করা সাজ্জাদ তার রেকর্ডটি ভাঙেন। এ ছাড়া সবচেয়ে বয়সী ও প্রতিবন্ধী সাঁতারু মোহাম্মদ শোয়াইব ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় নিয়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন।

৬৯ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ সাতারু মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘বয়স এবং আমার প্রতিবন্ধীতাকে বাঁধা হিসেবে না নিয়ে দৃঢ় মনোবল নিয়ে বৃদ্ধ বয়সেও বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অনেকে আমাকে দেখে ভেবেছিল, আমি ঠিকমতো সেন্ট মার্টিনস পৌঁছতে পারব কিনা। কিন্তু যুবকদের চেয়ে একটু বেশি সময় লাগলেও সফলভাবে জীবনের প্রথমবার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে পেরে খুশি লাগছে।’

দ্রুতসময়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে রেকর্ড করা সাজ্জাদ বলেন ‘বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখছি আমি। আমার টার্গেট ছিল যেকোনো মূল্যে আমাকে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে জয়ের স্বাদ নিতে হবে। আল্লাহ আমার সেই আশা পূরণ করেছেন। আগামীতে আরো বড় বড় অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নিতে চাই। আমি আরো এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য সরকার ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করছি।’

প্রসঙ্গত, পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে এবং মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্ব আরোপ করতে এ সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চারকে উৎসাহিত করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এই চ্যানেলকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচয় করার লক্ষ্যে গত ১৩ বছর ধরে এই আয়োজন করা হচ্ছে। ইউনাইটেড সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও অফরোড বাংলাদেশ আয়োজনে ট্যুরিজম বোর্ড, পর্যটন করপোরেশন ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় এডিবল ওয়েল লিমিটেড এর ব্র্যান্ড ‘ফরচুন’ এ সাঁতার প্রতিযোগিতায় পৃষ্টপোষকতা করেছে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলা চ্যানেলের যাত্রা শুরু হয়। মূলত এটির স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন বিখ্যাত আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার ও স্কুবা ডাইভার প্রয়াত কাজী হামিদুল হক। তাঁর তত্ত্বাবধানেই প্রথমবারের মতো ফজলুল কবির সিনা, লিপটন সরকার এবং সালমান সাঈদ ২০০৬ সালে 'বাংলা চ্যানেল' পাড়ি দেন। এরপর থেকে প্রতিবছরই এই আয়োজন হচ্ছে। আস্তে আস্তে এটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা