kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

এবার চট্টগ্রাম থেকে উড়ছে বোয়িং ড্রিমলাইনার

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২০:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার চট্টগ্রাম থেকে উড়ছে বোয়িং ড্রিমলাইনার

দেশের সবচে আধুনিক বিমান ‘বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে বাংলাদেশ বিমান। চট্টগ্রাম থেকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে সপ্তাহে তিনদিন এই বিমান চলবে। এতদিন এই রুটে অপেক্ষাকৃত ছোট ‘বোয়িং ৭৩৭’ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করতো বাংলাদেশ বিমান।

বাংলাদেশ বিমানের বহরে ড্রিমলাইনার যুক্ত হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। এর সাড়ে চারমাস পর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু হলো। এরফলে চট্টগ্রামের যাত্রীরা বিলাসবহুল এই বিমানে চড়ার সুযোগ পাবেন। এতদিন অপেক্ষাকৃত ছোট বিমান হওয়ায় ওমান থেকে প্রবাসীদের লাশ আনতে সমস্যায় পড়তে হতো। এখন সেই সমস্যারও সমাধান হলো।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিমানের চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক মাহফুজ উল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ড্রিমলাইনারের যাত্রা শুরু এই প্রথম। চট্টগ্রাম-মাসকাট রুট দিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। এতদিন এই রুটে আমরা বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানে যাত্রী পরিবহন করতাম। বড় বিমান হওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতার (ফুল লোড) যাত্রী পাচ্ছি আমরা।’

জানা গেছে, সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই ‘বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ বিমানে মোট ২৭১টি সিট রয়েছে। যেখানে বিজনেস ক্লাস হচ্ছে ২৪টি এবং ইকোনমি ক্লাস সিট হচ্ছে ২৪৭টি। ৪৩ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে উড়া এই বিমানে বসেই যাত্রীরা ওয়াইফাই মাধ্যমে অনলাইনে যুক্ত থাকতে পারবেন, রোমিং সুবিধা নিয়ে ফোনে কথা বলতে পারবেন নিজের বাড়ীতে প্রিয়জনের সাথে। সিটের পিছনে মনিটরে নয়টি টিভি চ্যানেল এবং একশটি ব্লক বাস্টার সিনেমা দেখতে পারবেন। আর বিজনেস ক্লাসে প্রত্যেকটি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্লাট করার সুযোগসহ অনেক সুবিধা রয়েছে।

বিমান বন্দর কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে থেকে ৪১৯ আসনের ‘বোয়িং ৭৭৭ ৩০০ ইআর’ এবং ৩১৯ আসনের ‘বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর’ বিমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই এবং সৌদি আরবের জেদ্দায় যাত্রী পরিবহন করছে বাংলাদেশ বিমান। এখন সবচে আধুনিক বিমানটিও চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হলো।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারোয়ার ই আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বোয়িং ৭৭৭’ হচ্ছে দেশের সবচে বড় যাত্রীবাহী বিমান; সেই বিমান চট্টগ্রাম থেকে অনায়াসেই উঠানামা করতো। ড্রিমলাইনারে যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা এরচে কম তবে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত। এটিও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যুক্ত হওয়ায় একধাপ এগিয়ে গেলো।’

বিমান কর্মকর্তারা বলছেন, সপ্তাহের তিনদিন-রবি, সোম ও বুধবার চট্টগ্রাম-মাসকাট রুটে যাত্রী পরিবহন করবে এই বিমান। বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে মাসকাট রুটে যাত্রী পরিবহন করছে রিজেন্ট এয়ার, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস। তবে তাদের দুটি বিমানই বোয়িং ৭৩৭-৮০০ সিরিজের। ফলে বাংলাদেশ বিমান সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে অন্য দুটি বিমান সংস্থার চেয়ে এগিয়ে থাকলো। কিন্তু অনটাইম বা সঠিক সময়ে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ বিমানও ভালো যাত্রী পাবে।

এদিকে ছোট বিমান হওয়ায় ওমানে কর্মরত প্রবাসী মারা গেলে তাদের লাশ চট্টগ্রামে আনতে বিপাকে পড়তেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ওমানের প্রায় ৮ লাখ প্রবাসীর ৬৫ ভাগই চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দা।

এজন্য চট্টগ্রাম সমিতি, ওমান দেশে এসে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীর সাথে দেখা করে বড় বিমান চালুর দাবি জানায়। সংগঠনের সভাপতি ইয়াসিন চৌধুরী সিআইপি বলেন, প্রতি মাসে ওমান থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ৭০টির মতো লাশ দেশে আসে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিমান বিনা মূল্যে এসব লাশ পরিবহন করে দেশে নিয়ে আসে। কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিনই বোয়িং ৭৩৭ চলাচল করায় সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। এ কারণে ওমান থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের লাশ পাঠাতে দেরি হচ্ছে। বিদেশি বিমান সংস্থার মাধ্যমে লাশ পাঠাতে হলে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। 

এখন বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার যুক্ত হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করে এজন্য বাংলাদেশ বিমানকে ধন্যবাদ জানান তিনি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা