kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে সম্মিলিত বইমেলা

পাঁচদিনে দেড় কোটি টাকার বই বিক্রি!

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম    

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচদিনে দেড় কোটি টাকার বই বিক্রি!

এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম চত্বরে বইমেলা শুরু থেকেই জমে উঠেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলা প্রথমদিন থেকেই দর্শনার্থী টানতে সক্ষম হয়েছে। বৃহস্পতিবার মেলার পঞ্চম দিন পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশ উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রামের সৃজনশীল প্রকাশকদের অংশগ্রহণে এবারই প্রথম সম্মিলিত বইমেলা হচ্ছে নগরে।

নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন সিজেকেএস জিমনেসিয়াম চত্বরে অমর একুশে বইমেলা লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও দর্শকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রবেশপথেই বড় বড় প্ল্যাকার্ড। এতে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, আবদুল গাফফার চৌধুরী, প্রমথ চৌধুরী ও বেগম সুফিয়া কামালসহ বিশিষ্টজনদের অমিয় বাণী। 

বইমেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আবু সাঈদ সরদার জানান, ৮০ হাজার ৩০০ বর্গফুটের বইমেলায় বইয়ের স্টল ১১০টি। এর মধ্যে ঢাকার আছে ৬০, চট্টগ্রামের ৫০টি। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধা। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরার আওতায় সম্পূর্ণ মেলা। রয়েছে হেলথ ও নিরাপত্তা ক্যাম্প।

বইমেলা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু বলেন, ‘বাংলা একাডেমির উচিত নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ সকল বিভাগীয় শহরে বইমেলার আয়োজন করা।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এক সময় চট্টগ্রামে বাংলা একাডেমির একটি বিক্রয়কেন্দ্র ছিল। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

মেলায় পুরনো বই ছাড়াও এসেছে অনেক নতুন বই। বিক্রিও বেশ ভালো। চট্টগ্রাম বইমেলা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন জানান, মেলার শুরু থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৪৫ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে! তিনি বলেন, ‘এবার সিটি করপোরেশেনের উদ্যোগে সমন্বিতভাবে মেলা আয়োজন করায় অতীতের যেকোনো সময়ের চাইতে ক্রেতা-দর্শক অনেক বেশি। এবার মেলায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রকাশকদের প্রকাশিত প্রায় ৫৫০টি নতুন বই এ পর্যন্ত মেলায় এসেছে। মেলা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আরো নতুন বই আসবে।’

বিশিষ্ট শিল্পপতি রূপম কিশোর বড়ুয়া মেলায় এসেছিলেন তাঁর স্কুলের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের জন্য বই কিনতে। অক্ষরবৃত্ত থেকে স্কুলের শিশুদের জন্য ১৩৬টি বই কিনেছেন তিনি। বলেন, ‘বইয়ের চাইতে বড় কোনো পুরস্কার হয় না।’

লতিফা সিদ্দিকী ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মৃণালিনী চক্রবর্তী বলেন, ‘মেলার পরিসর বেশ বড় এবং শহরে যেকোনো স্থান থেকে মেলায় আসার মতো যোগাযোগ সুবিধা মেলাকে আরো প্রাণবন্ত করেছে।’

চট্টগ্রামের প্রজ্ঞালোক প্রকাশনীর প্রকাশক রেহেনা চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের সম্মিলিত বইমেলা দারুণ সাড়া জাগিয়েছে। স্থানীয় লেখক-প্রকাশকদের আশাবাদী করে তুলেছে। আশাকরি সামনের বছর এ বইমেলা ঢাকার বইমেলাকেও ছুঁয়ে যাবে।’

ঢাকার অনিন্দ্য প্রকাশের বিক্রয় কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ও আগামী প্রকাশনীর দেবব্রত সাহা বলেন, চট্টগ্রামে মেলায় ক্রেতাদের আগ্রহ ও বই কেনা আমাদের অভিভূত করেছে।

চট্টগ্রামের শব্দশিল্প, আবীর, অ্যাডর্ন, বলাকা প্রকাশনার কর্মকর্তারা জানান, এর আগেও চট্টগ্রামে বইমেলা হয়েছে। কিন্ত এবারের মেলা অন্যরকম সাড়া ফেলেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা