kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাঈদীর শোডাউনে লাখো মানুষের ঢল

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২০:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাঈদীর শোডাউনে লাখো মানুষের ঢল

আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকা ফজলুল করিম সাঈদীর বিশাল শোডাউন ও গণসংবর্ধনায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল আজ বুধবার বিকেলে।

গণমানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় সাঈদী এদিন কক্সবাজার থেকে মহাসড়ক হয়ে চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গায় আসায় সময় পথে পথে তাকে দেওয়া হয় গণসংবর্ধনা। সর্বশেষ পৌরশহরের বাস টার্মিনাল থেকে চিরিঙ্গা জনতা মার্কেট চত্বরে আয়োজিত সংবর্ধনাস্থলে আসার সময় লাখো জনতার বাঁধভাঙা উপস্থিতিতে পুরো মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে অন্তত প্রায় একঘন্টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

এর আগে বেলা দুইটা থেকে শত শত যানবাহন ও মোটরসাইকেলে আস্ত কলাগাছ বেঁধে উৎসুক জনতা সাঈদীকে বরণ করতে যান সীমান্ত ইউনিয়ন খুটাখালীতে। সেখান থেকে আসার সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় সাঈদীও তাদের অভিবাদনের জবাব দেন।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদী সংবর্ধনা মঞ্চে উঠেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার মোহাম্মদ উল্লাহ। বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, বিএমচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান বদিউল আলম, কোনাখালী ইউনিয়নের সভাপতি ও চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, চকরিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা বশিরুল আইয়ুব, দুই নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল করিম, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ, সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি হাসানগীর হোছাইন ও সম্পাদক আজিজুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরহান মাহমুদ রুবেল ও পৌরসভার সভাপতি মিজানুর রহমান তুষার, পৌরসভা শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ধলুসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘চকরিয়ার সর্বস্তরের মানুষ আওয়ামী লীগকে বেশি ভালবাসেন। এ কারণে সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে গণমানুষের নেতা জাফর আলমকে নৌকা প্রতীক দেওয়ায় স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমন একজনকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে যার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই গণমানুষের কাছে। তদুপরি তিনি একজন সাম্প্রদায়িক এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী, তাদের সহায়-সম্পদ জবর-দখলকারী বনখেকোসহ বহু অপকর্মের হোতা। তাই গিয়াস উদ্দিনকে নৌকা প্রতীক দেওয়ায় চকরিয়ার মানুষ বেশ হতাশ হয়েছেন। এজন্য আজকে চকরিয়ার লাখো নারী-পুরুষ এখানে উপস্থিত হয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন এবার তারা সাঈদীকেই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।’

গণসংবধনার জবাবে ক্রীড়াব্যক্তিত্ব, শ্রমিক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, আজকে আমি আপামর জনতার এমন উপস্থিতি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আমাকে যে আপনারা এত ভালবাসেন তা আরেকবার দেখিয়ে দিলেন। আপনারা প্রমাণ করে দিলেন চকরিয়ার মাটিতে কোনো দখলবাজ, সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী, বন ধ্বংসকারীর স্থান নেই। তাই আপনারা সকলেই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, আগামী ১৮ মার্চ পর্যন্ত। এদিন আপনাদের বিজয় না নিয়ে ঘরে ফিরবেন না।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা