kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামের আদালতে স্বীকারোক্তি

টাকা না পেয়ে ভাবিকে খুন করে দেবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০২:০৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টাকা না পেয়ে ভাবিকে খুন করে দেবর

ভাবি হাসিনা বেগমের (৩২) কাছে টাকা চেয়েছিল দেবর মো. ফরহাদ হোসেন লিমন (২২)। টাকা না পেয়ে লিমন ক্ষুব্ধ হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ভাবিকে খুন করে। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে চুরি হিসেবে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল। গত রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সারওয়ার জাহানের আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেয় লিমন।

আসামি গার্মেন্ট শ্রমিক লিমন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের আটশা গ্রামের মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারীর ছেলে। চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার কালিরহাট ১ নম্বর গলির ইদ্রিস সওদাগরের ভাড়া বাসায় থাকত লিমন। একই ভবনের অন্য একটি ঘর ভাড়া করতে থাকতেন ভাবি গার্মেন্টকর্মী হাসিনা বেগম। হাসিনা নোয়াখালীর সুধারাম থানার পশ্চিম মাইজচরা গ্রামের মৃত নিজাম চৌধুরীর মেয়ে। হত্যার ঘটনায় হাসিনার ভাই মো. মানিক আকবর শাহ থানায় একটি মামলা করেন। 

আদালতে লিমনের স্বীকারোক্তির আগে ঘটনার ‘রহস্য উন্মোচন করে’ সংবাদ সম্মেলন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম। সেখানে আমেনা বেগম বলেন, আসামি ফরহাদ হোসেন নিয়মিতভাবে ভারতীয় ধারাবাহিক ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখত। ধারাবাহিকে বিভিন্ন খুনের ঘটনার কেস স্টাডি দেখে তার মাথাও খুনের পরিকল্পনা আসে এবং সেই মতো খুন করে ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করে আসামি।

রিমান্ডে আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ লুটকৃত গয়না ও কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করে। গয়না একটি সাউন্ড সিস্টেমে লুকানো ছিল। লিমন জানায়, ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে টিভি দেখার নাম করে ভাবির ঘরে যায় সে। লিমনের টিভি দেখার সময় হাসিনা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাত ৩টার দিকে হাসিনাকে গলাটিপে হত্যা করে লিমন। পরে ঘর থেকে গয়না, মূল্যবান জিনিসপত্র ও প্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো কয়েকটি চকোলেট নিয়ে নিজের ঘরে যায় লিমন। এর আগে হাসিনার ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালা মেরে দেয়। 

আকবর শাহ থানার ওসি মো. জসীম উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনা তদন্ত পর্যায়ে আসামিকে সন্দেহে নিয়েছিল পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে সে হত্যার দায় স্বীকার করে।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. কামরুল ইসলাম, পাহাড়তলী জোনের সহকারী কমিশনার পংকজ বড়ুয়া ও আকবর শাহ থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা