kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

এমন ছেলেও হয়!

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০১:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমন ছেলেও হয়!

অচেনা ফোন পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন কামাল উদ্দিন। ছেলে রাসেল অপহূত হয়েছে! মুক্তিপণ দিতে হবে পাঁচ লাখ টাকা। পাঠাতে হবে বিকাশে। উপায়ান্তর না দেখে পুলিশের শরণাপন্ন হলেন কামাল। তবে ঘটনাচক্রে অপরাধী হিসেবে ধরা পড়েছেন স্বয়ং রাসেল। বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে তিনি ‘অপহরণ নাটক’ সাজান বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ স্টেশন এলাকা থেকে আটক হন রাসেল।

পুলিশ জানায়, কথিত অপহূত মো. রাসেল উদ্দিন (২৫) চকরিয়া পৌরসভার করাইয়াঘোনার কামাল উদ্দিনের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পৌর শহরের চিরিঙ্গা থেকে একদল দুর্বৃত্তের হাতে অপহূত হয়েছেন বলে অচেনা ফোন থেকে বাবাকে জানান রাসেল। মুক্তিপণ পাঠাতে বলা হয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান বাবা কামাল। 

পরে চকরিয়া থানার একদল পুলিশ বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে অপহরণচক্রের সদস্যদের ধরতে মাঠে নামে। কথিত অপহরণচক্রের সদস্যদের বিকাশের দোকানে যেতে বলেন কামাল। এসআই আলমগীর আলম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় দোকানটির অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর দোকানের আশপাশে অবস্থান নেন বাবাসহ পুলিশ সদস্যরা। এর পরের দৃশ্যটি এমন—টাকা নিতে ‘গ’ বিকাশ দোকানে এসেছেন রাসেল। মুহূর্তেই সাদা পোশাকের পুলিশ রাসেলকে ঘিরে ফেলে। গতকাল দুপুরে এই আটক হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এসআই আলমগীর আলম বলেন, ‘বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ছেলে রাসেল নিজেই এই অপহরণের নাটক সাজায়। তবে কৌশল অবলম্বন করায় আসল রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।’

চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আপন বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে এমন ছেলেও যে হয়, তাতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। এ জন্য দায়ী পরিবারের কর্তারাই। একই সঙ্গে বখে যাওয়া বন্ধুদের খপ্পরে পড়েও সে এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে। তার পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

অপহূত শিক্ষার্থী উদ্ধার : এদিকে চকরিয়া থেকে অপহরণের ২৪ ঘণ্টা পর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে পেকুয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে পেকুয়ার চৌমুহনী থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে অপহরণচক্রের দুই সদস্যকে।

মেহেদী হাসান চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী ও গোপালগঞ্জের বাসিন্দা কবির আহমদের ছেলে। আটক ব্যক্তিরা হলো পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজারপাড়ার সাজ্জাদুল ইসলাম (২২) ও চকরিয়ার কোনখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা গ্রামের মো. হাসনাত (১৮)।

চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আটক অপহরণচক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আর কেউ এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা