kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

দক্ষিণ চট্টগ্রামে ছুটির দিনে গুণতে হয় বাড়তি ভাড়া

হুমায়ূন কবির শাহ্ সুমন, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)    

১১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দক্ষিণ চট্টগ্রামে ছুটির দিনে গুণতে হয় বাড়তি ভাড়া

দক্ষিণ চট্টগ্রামের গণপরিবহনের যাত্রীদের সাপ্তাহিক  ছুটির দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে সাধারণ যাত্রীদের গুণতে হয় বাড়তি ভাড়া। পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ।

জানা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের পিএবি ও ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কসহ কয়েকটি উপজেলার যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ ভাড়া আদায় করা হলেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। সপ্তাহে শুক্রবার, রবিবার এবং বৃহস্পতিবার দ্বিগুণ, তিন গুণ ভাড়া আদায় করছে গাড়ির চালক ও হেলপাররা। ভাড়া নিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের সঙ্গে গাড়ির চালক হেলপারদের মারামারির ঘটনাও ঘটে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক হয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে ছোট বড় বাস, সিএনজি অটো রিকশাসহ হাজারো যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে।

নগরীর প্রবেশ পথ কর্ণফুলী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকায়িা, লোহাগাড়া, পটিয়া, বাশঁখালী ও  কক্সবাজার জেলার চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার যাত্রীদের চলাচল হয়ে থাকে বেশি। এ ছাড়া পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও কক্সবাজার  জেলার যাত্রীরাও চলাচল করে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন লাখের অধিক যাত্রী এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

তবে সড়কের কর্ণফুলী, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয় সবচেয়ে বেশি। সপ্তাহের শুক্রবার, বৃহস্পতিবার ও রবিবার আসলে শাহ আমানত সেতু থেকে কর্ণফুলী, আনোয়ারা, বাশঁখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার যাত্রীদের দ্বিগুণ ও তিনগুণ ভাড়া নেয়। আবার এসব উপজেলার যাত্রীরা রবিবার আসলে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার পথে একইভাবে ভাড়া আদায় করে গাড়ির চালক ও  হেলপাররা।

সরোজমিনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসনকে বারবার বলা হলেও নেয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে চলে যায়। বর্ধিত ভাড়া নিশ্চিত করতে নেওয়া হয় না প্রশাসনিক ব্যবস্থা। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই গাড়ির চালক ও হেলপাররা বাড়তি ভাড়া আদায় করে। এতে তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মালিক সমিতির নেতারা।

যাত্রীরা আরো জানান, বৃহস্পতিবার আসলেই শাহ আমানত সেতু থেকে আনোয়ারা বরকল বরমাগামী বাসগুলো ৫০-৮০ টাকা নেয় ১৫-২০ টাকার ভাড়ায়, পটিয়াগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত নেয়। চন্দনাইশের যাত্রীদের ৬০-১০০ টাকা, বাশঁখালীগামী ১০০-১৫০ টাকা,  সাতকানিয়াগামী ৮০-১২০ টাকা এবং লোহাগাড়া উপজেলার যাত্রীদের কাছ থেকে ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। বাড়তি ভাড়া আদায় করতে গাড়ির চালকরা রাত ৮টার পর গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভাড়া আদায় করে।

মোহাম্মদ ওসমান নামের একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার আসলেই ব্রিজ থেকে চাতরী চৌমুহনী বাজারে ১৫ টাকার জায়গায় দিতে হয় ৩০-৫০ টাকা বাড়তি ভাড়া দিয়ে আসতে হয়। এ নৈরাজ্য এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে গাড়ির চালক ও হেলপারদের কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় যাত্রীদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া আনোয়ারা বাশঁখালী (পিএবি) বাস মালিক সমিতির সভাপতি জাফর উদ্দীন চৌধুরী বলেন, 'আমরা বাড়তি ভাড়া বিষয়ে আমাদের শ্রমিকদের বলে দিয়েছি যাতে কোনো বাড়তি ভাড়া আদায় করা না হয়, হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া যারা বৃহস্পতিবার এবং অন্যান্য দিন বাড়তি ভাড়া নেয় তারা আমাদের সংগঠনের কেউ নয়, তারা বাইরের শ্রমিক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা